লেক্সাস বিস্কুট মেয়াদোত্তীর্ণ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৭ জুলাই: মেয়াদোত্তীর্ণ ‘লেক্সাস’ বিস্কুটই পাওয়া গেল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে অতিথিদের আপ্যায়ন টেবিলে। ১৭ জুলাই দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত একটি সভার আগে চায়ের সঙ্গে ওই বিস্কুটের প্যাকেটগুলো দেওয়া হয়।lexues
এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দীন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
একজন সাংবাদিক মেয়াদোত্তীর্ণ ‘লেক্সাস’ বিস্কুট পরিবেশনের বিষয়টি জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত অতিথিরা বিস্কুটের প্যাকেটগুলো পরীক্ষা করে দেখেন বেশিরভাগ প্যাকেটেরই মেয়াদ নেই। এ সময় সবাই বিস্ময় প্রকাশ করেন। তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিস্কুটের প্যাকেটগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ‘লেক্সাস’ বিস্কুটগুলো নারায়ণগঞ্জের মদনপুর কেওডালার অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং গাজীপুরের কাশিমপুরের রোমানিয়া ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড নামের দুটি কোম্পানির।
রোমানিয়া’র লেক্সাস বিস্কুটের মোড়কে উৎপাদনের তারিখ ছিল ২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর এবং মেয়াদ চলতি ২০১৬ সালের ১ জুলাই। অন্যদিকে অলিম্পিক’র লেক্সাস বিস্কুটের উৎপাদনের তারিখ ছিল ২০১৫ সালের জানুয়ারি এবং মেয়াদ ২০১৫ সালের জুলাই।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ বলেন, অনুষ্ঠানের আয়োজক আর খাদ্যপণ্যের ভালো ব্রান্ড দেখলে অনেকেই মেয়াদ আছে কিনা ভালো করে দেখে না। সার্কিট হাউসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট আপ্যায়নের জন্যে পরিবেশনটা দুঃখজনক। এর থেকে বাজারে যেসব খাদ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে সেগুলো মেয়াদ দেখে না কিনলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য খেয়ে অসুস্থতাসহ স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকিও রয়েছে।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন এ প্রসঙ্গে বলেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সার্কিট হাউস। এখন সেখানে যদি মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য পৌঁছে যায় তবে বুঝতে হবে বাজারে নৈরাজ্য চলছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাসীনতা ও নজরদারির অভাবে একশ্রেণির অসাধু দোকানি ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভোক্তাদের চরমভাবে ঠকাচ্ছে, প্রতারিত করছে। যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, প্রতিনিয়তই আমরা অভিযোগ পাচ্ছি মেয়াদোত্তীর্ণ কেক, বিস্কুট, পাউরুটি এমনকি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ পর্যন্ত দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর, বিএসটিআই, পুলিশি তদারকি নেই। অনতিবিলম্বে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দীন বলেন, ‘সার্কিট হাউসের কর্মচারীরা কোন দোকান থেকে এসব বিস্কুট কিনেছে তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: