লিভার থাকবে সুস্থ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৮ জুন ২০১৯, শনিবার: শরীরের দ্বিতীয় বৃহত্তম অঙ্গ লিভার। এটা খাদ্যদ্রব্য পরিপাকের জন্য পিত্তরস তৈরি করে। অন্ত্র থেকে শোষিত খাদ্য উপাদানগুলো গ্রহণ ও শক্তি উৎপাদন করা লিভারের প্রধান কাজ। দেহের বিপাক ক্রিয়াও নিয়ন্ত্রণ করে লিভার। শুধু তাই নয় শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিয়ে আমাদের সুস্থ রাখে লিভার। তাই লিভার ভালো থাকলেই আমরা সুস্থ থাকবো। আর লিভার সুস্থ রাখতে আমাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য খেতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্য লিভারকে ভালোভাবে কাজ করতে এবং সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। অস্বাস্থ্যকর খাবার লিভারের রোগ ঘটাতে পারে যেমন- যদি কেউ বেশি পরিমাণে তৈলাক্ত খাদ্য গ্রহণ করে তাহলে তার অতিরিক্ত ওজন এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটিলিভার হতে পারে। যাদের লিভারের রোগ আছে তাদেরও একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হবে। লিভার সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর কিছু খাদ্যাভ্যাস নিম্নে দেয়া হল:
* সব ধরনের খাদ্যগ্রহণ যেমন- কার্বহাইড্রেট, প্রোটিন, দুধজাতীয় খাদ্য, ফল, শাকসবজি এবং তেল।
* বেশি করে আঁশজাতীয় খাদ্য যেমন- তাজা ফল ও সবজি, লাল চা, আটা ইত্যাদি।
* ধূমপান ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় অবশ্যই বর্জন করতে হবে।
লিভার সুরক্ষায় কিছু খাবার সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল:
রসুন: রসুনে সেলেনিয়াম ও এলিসিন নামক উপাদান থাকে এবং এরাও লিভার থেকে টক্সিন বাহির হতে কার্যকরি ভূমিকা রাখে। এছাড়া রসুনে লিভার পরিষ্কারক করে সুস্থ রাখতে প্রচুর এনজাইম আছে।
জাম্বুরা: জাম্বুরাতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা লিভারের ন্যাচারাল ক্লিঞ্জিং প্রসেসকে বৃদ্ধি করে।
ছোট সাইজের এক গ্লাস জাম্বুরার জুস লিভারের ডিটক্সিফিকেশন এনজাইমের উৎপাদন বৃদ্ধি করে, যা কার্সিনোজেন এবং অন্যান্য টক্সিনকে পরিপূর্ণভাবে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে।
বিট ও গাজর: গাজর গ্লুটাথায়ন নামক প্রোটিনে সমৃদ্ধ, যা লিভারকে বিষমুক্ত হতে সাহায্য করে। গাজর ও বিট উভয়ের মধ্যেই উচ্চমাত্রার উদ্ভিজ ফ্লেভনয়েড ও বিটা ক্যারোটিন থাকে।
গ্রিনটি: গ্রিনটি হচ্ছে লিভার লাভিং বেভারেজ বা যকৃৎপ্রেমী পানীয়। গ্রিনটি উদ্ভিজ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যাটেচিন সমৃদ্ধ।
সবুজ শাক-সবজি: সবুজ শাক-সবজি শক্তিশালী লিভার পরিষ্কারক। সবুজ শাক-সবজি কাঁচা, রান্না করে বা জুস হিসেবে খাওয়া যায়। সবুজ শাক-সবজিতে উচ্চ মাত্রার ক্লোরোফিল থাকে এবং এরা রক্ত প্রবাহ থেকে পরিবেশগত বিষ শোষণ করে নেয়।
আরো যা খেতে পারেন- আপেল, অ্যাভোকাডো, ওলিভ অয়েল, লেবু, হলুদ, আখরোট, বাঁধাকপি, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, মিষ্টি আলু, ব্রোকলি, টমেটো ইত্যাদি খাবার নিয়মিত খেলে লিভার পরিষ্কার থাকবে।
এছাড়া বাদাম, ওটস, সয়াবিন, দই (ননিমুক্ত দুধের তৈরি), ব্রোকলি, ডাল, স্যালমোন মাছ, সবজির স্যুপ ও ফলের রস খেতে হবে।
এছাড়া যাদের লিভারের রোগ আছে তাদের অবশ্যই পরিমিত খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে শরীরের ওজন ঠিক করতে হবে।
অতিরিক্ত চিনি ও লবণযুক্ত খাবার এবং অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*