লিটন হত্যার পর আটক ১২৮, গ্রেপ্তার ২৩

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩১ জানুয়ারী, ২০১৭, মঙ্গলবার: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সংসদ সদস্য সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে কে কারা হত্যা করলো? এক মাস ধরে চলছে তদন্ত। অগ্রগতি কতটা হলো? মুখে কুলুপ পুলিশ কর্মকর্তাদের। হত্যার পর লিটনের বাড়ির পাশে খুঁজে পাওয়া ক্যাপের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে কী পাওয়া গেলো, তাও বলছেন তা তদন্ত কর্মকর্তারা।
৩১ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জে নিজ বাড়িতে লিটন খুন হওয়ার পর এই ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তে নামে। এই হত্যার ঘটনায় পাঁচ অজ্ঞাত যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেন লিটনের ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী।
এই ঘটনায় শতাধিক মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ২৩ জনকে। রিমান্ডে নেয়া হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। এদের মধ্যে একজন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার সহসভাপতিও আছেন। তবে রিমান্ডে কী তথ্য পাওয়া গেছে-এই বিষয়টিও প্রকাশ করছে না পুলিশ।
এই অবস্থায় লিটনের স্বজনদের পাশাপাশি চরমভাবে হতাশ এবং ক্ষুব্ধ সুন্দরগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ। এই ঘটনায় রাজনৈতিক কর্মী এবং স্থানীয়দের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। একজন সংসদ সদস্যকে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হলে নিরাপত্তা নিয়ে সংকট দেখা দেয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
লিটন হত্যার তদন্ত কোন পর্যায়ে-জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হায়দার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ মেধা খাটিয়ে বিভিন্ন কৌশল বিবেচনায় নিয়ে খুনের জট খোলাসহ খুনিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। এর বাইরে কিছু বলতে চাই না।’
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। তবে হত্যাটি সুনিপুন পরিকল্পিত হওয়ায় জট খোলার বিষয়টি সময় ব্যাপার।’
আটক ১২৮, গ্রেপ্তার ২৩
লিটন হত্যার পর থেকেই এই ঘটনায় জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে আসছে তার পরিবার এবং আওয়ামী লীগ। আর এখন পর্যন্ত যারা আটক হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই জামায়াত বা শিবিরের কর্মী।
গত এক মাসে সুন্দরগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ১২৮ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ২৩ জনকে। এর মধ্যে ১২ জনকে রিমান্ডে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করে।
লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি, বড় শ্যালক বেদারুল আহসান বেতার, মামলার বাদী ফাহমিদা বুলবুল কাকলি, বড় বোন আফরোজা বারীসহ নিকট-আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, দলীয় সহচরদের একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা। ১৭ দিন থানায় আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সংসদ সদস্যেও ব্যক্তিগত গাড়িচালক খন্দকার ফোরকান আলী ও কাজের ছেলে ইউসুফ আলীকেও।

Leave a Reply

%d bloggers like this: