লালদিয়াবাসীর উচ্ছেদ হবে না, আমাদের এলাকায় পুনর্বাসন করতে হবে: লালদিয়ার চর উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৭ এপ্রিল ২০১৯ ইংরেজী, বুধবার: জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম বিমান বাহিনী জহুরুল হক ঘাঁটি হতে লালদিয়ার চরের পুনর্বাসিত প্রায় দাশ হাজার মানুষকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র ও পাঁয়তারার প্রতিবাদে মানববন্ধন আজ ১৭ এপ্রিল সকাল ১১ টায় ৪১ নং দক্ষিণ পতেঙ্গা লালদিয়ার চর উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আলমগীর হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাাদক মো. জামাল উদ্দীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন লালদিয়াবাসীর উচ্ছেদ হবে না, আমাদের এলাকায় পুনর্বাসন করতে হবে। জায়গা ছেড়ে দেব যুক্তিযুক্তভাবে উপযুক্ত জায়গায় পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত হলে জায়গা ছেড়ে দেব।
চট্টগ্রাম শহরের সর্ব দক্ষিণে চসিক আওতাভূক্ত ৪১ নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডস্থ লালদিয়ার চর। ১৯৭২ সন থেকে তথা বিগত দীর্ঘ ৪৭ বছর যাবৎ লালদিয়ার চরের বাসস্থনের মত মৌলিক অধিকার নিয়ে বিভিন্ন মহল দ্বারা একের পর এক যে ষড়যন্ত্র ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে লালদিয়ার চর এলাকার বাসিন্দারা। লালদিয়ার চরের সতেরশ পরিবার ও দশ হাজার হতভাগ্য জনগোষ্ঠীর দুঃখ দুর্দশা লাঘবের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি লালদিয়ার চরের বাসিন্দারা আবেদন জানান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বর্তমান জহুরুল হক বিমান ঘাঁটি এলাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছিল লালদিয়ার চর নামে একটি গ্রাম। তখন উক্ত বিমান ঘাটি সম্প্রসারণের প্রেক্ষিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পার্শ্ববর্তী চরাভূমি বর্তমান লালদিয়ার চরে পূর্ণবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক প্রথমে একসনা ভিত্তিতে বন্দোবস্ত করে। পরে বাংলা ১৩৮০ সনে নিয়ম অনুযায়ী এক বৎসরের খাজনা দিই। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর সেই সময়ের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি আবুল হাশেম ও আবুল কাশেম সরকার কর্তৃক লালদিয়ার বন্দোবস্তির বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে। ফলে দ্বিতীয় মুন্সেফ কোর্ট, সদর চট্টগ্রাম এর আদালত থেকে আমাদের অনুকূলে বন্দোবস্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে বন্দোবস্তি স্থায়ী করণ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পরে। পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় দেন দরবার করেও নিষেধাজ্ঞা জারি’র কারণে বন্দোবস্তি করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে এলাকাটি এরশাদ সরকারের আমলে অবৈধভাবে চট্টগ্রাম কর্তৃপক্ষের নামে বিএস জরিপ লিপিবদ্ধ করা হয়। বিগত বিএনপি সরকারের সময় ২০০৫ সালে অবৈধভাবে তৈরীকৃত বিএস খতিয়ানের সুযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ লালদিয়ার চরের প্রায় ৫শ পরিবারকে উচ্ছেদ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ ইনকনট্রেড লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত পরিবার গুলো ভাসমান অবস্থায় দিনযাপন করছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছেন এটা আমাদের জন্য গর্ব কিন্ত আজ আমরা দেশের নাগরিক হয়েও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বর্তমান উচ্ছেদ কর্মসূচিতে যদি গৃহহীন হয়ে পড়ি লালদিয়া চরের দশ হাজার কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? তিনি বর্তমান সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করে বিষয়টি সমাধানের আশা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৪১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ ছালেহ আহমদ চৌধুরী, আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন, হাজী জিয়াউল হক সুমন, আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধ এনামুল হক, মহিলা কউিন্সিলর শাহনুর বেগম, সাবেক কাউন্সিলর হাজী আসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা সফিউল আলম, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব ফরিদ মাহমুদ, মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, হাজী নুরুল আলম, এস এম ইসলাম, আবদুল হালিম, আলমগীর আলম, মো. তানভীর চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন, মো. শাহাদাত হোসেন, হাজী মো. নুরুল আলম, এস এম ইসলাম, মো. আবদুল হালিম, মো. আলমগীর আলম, মো. তানভীর চৌধুরী, মো. সালাউদ্দিন, মো. কামরুল ইসলাম সোহেল, মো. ওয়াহিদুল আলম চৌধুরী, মো. মাইনুল হোসেন, মো. ওয়াহিদ আলম, মো. জনাব আলী, ফরিদুল আলম, মো. জাবেদ হোসেন, মো. লোকমান হাকীম, মো. রাশেদ, মো. আবদুল্লা আল মামুন, আসরাফ খোকন, আবদুল কাদের, মুক্তিযোদ্ধা মুমিনুল ইসলাম, আমির সওদাগর, জাহিদা আকতার, সালাউদ্দিন, নিজাম, সেলিম ভান্ডারী, আবদুল মন্নান, আব্বাস হুজুর, আজগর, জাহাঙ্গির আলম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*