লামায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে ৫ হাজার পরিবার

বেলাল আহমদ, লামা, ০৩ জুলাই ২০১৭, সোমবার: বান্দরবানের লামা উপজেলা উচু-নিচু অসংখ্য পাহাড় নিয়ে সৃষ্টি এই জনপদের। এখানকার মানুষ শত বছর যাবত পাহাড়ের চূড়া, পাদদেশ ও কোলঘেঁষে বসবাস করে আসছে। পাহাড়ে গাছ না থাকায় এবং অপরিকল্পিত বসতির কারণে বর্ষা এলেই এই জনপদ পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। বিগত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার পাহাড় ধসে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর কারণে এই এলাকার মানুষ বৃষ্টি হলেই ভয়ে থাকে।
লামায় গত তিন দিনে মাঝারি ও বেশীমাত্রার বৃষ্টিপাতে পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে পাহাড় ধস শুরু হয়ে গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও বেসরকারী সংস্থার সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে এখনো পাহাড় ধসের কোন প্রাণহানীর খবর আসেনি।
বর্ষার শুরুতেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে উপজেলা প্রশাসন মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। পাহাড়ের কোলে বসবাসরত জনগোষ্ঠী দরিদ্র হওয়ায় বিকল্প কোন সুযোগ না থাকায় এখনো কেউ নিরাপদে সরে যায়নি।
পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার মোঃ রফিক জানায়, পাহাড় ধসে আমার বসতবাড়ি এখন মাটির নিচে। কিন্তু আমার যাওয়ার কোন জায়গা নেই। স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা না হলে পাহাড় ছাড়তে নারাজ ঝুঁকিতে বসবাসকারীরা। এখনিই পাহাড়ের মৃত্যুঝুঁকিতে বসবাসকারী পরিবার গুলোকে নিরাপদে সরিয়ে না নেয়া হলে আবারো পাহাড় ধসে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরকারী জরিপে জেলার সবচেয়ে বেশি পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে লামা উপজেলায়। কিন্তুু পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাসরত পরিবারগুলোর কোনো নির্দিষ্ট তালিকা নেই প্রশাসনের কাছে।
বেসরকারী হিসেব মতে, লামা পৌরসভা ও লামা সদর, গজালিয়া, রূপসীপাড়া, সরই, আজিজনগর, ফাঁসিয়াখালী, ফাইতং ইউনিয়নে সাড়ে ৫ হাজার পরিবারের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, লামা পৌর এলাকার চেয়ারম্যান পাড়া, নারকাটাঝিরি, হাসপাতাল পাড়া, বড় নুনারবিল পাড়া, চাম্পাতলী, নয়াপাড়া, সাবেক বিলছড়ি, রাজবাড়ী, কলিঙ্গাবিল, কাটাপাহাড়, মধুঝিরি ও ছাগল খাইয়া গ্রামে পাহাড় ধস ঝুঁকিতে বসবাস করছে কয়েকশ পরিবার। উপজেলার আজিজনগর, ফাইতং, রুপসীপাড়া, লামা সদর, গজালিয়া ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পাহাড় কেটে অপরিকল্পিতবাবে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছে পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবার। তবে বেশিরভাগই হতদরিদ্র মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*