রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মানববন্ধন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার: মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর ইতিহাসের নির্মম হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চট্টগ্রাম জেলা কর্তৃক প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চত্বরে ১৬ ডিসেম্বর বাদে জুমা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি কে.এম. আলী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ইসলামীয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ-এর অধ্যাপক মুহাম্মদ মুছা (কলিমুল্লাহ), বিশিষ্ট সংগঠক ও কলামিষ্ট মাহমুদুল হক আনসারী, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার চট্টগ্রাম জেলা শাখার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রেজাউল করিম, মোহাম্মদ ফজলুল করিম, সরওয়ার হোসেন চৌধুরী, শামসুল করিম লাভলু, মোস্তাক আহম্মেদ, তারেকুল ইসলাম, মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আনিস বেদার, বজলুল হক প্রমুখ।
সভায় বক্তাগণ বলেন, গত অক্টোবর ১৬ থেকে আজ পর্যন্ত বার্মা থেকে প্রায় ১লক্ষ নতুন রোহীঙ্গা মুসলিম শরনার্থী উখিয়া-টেকনাফের শরনার্থী ক্যাম্পে ও ক্যাম্পর বাইরে পাহাড় পর্বতে খোলা আকাশের নিচে খাদ্য, বস্ত্র ও ঔষধ সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদেরকে টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কোন সরকারী বেসরকারী ত্রাণ সামগ্রী পৌছাতে কাউকে অনুমতি দিচ্ছে না এমনকি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি থাকা সত্বেও বহু বেসরকারী ব্যক্তি ও সংগঠনকে ট্রাক ভর্তি ত্রাণ সামগ্রী সহ টেকনাফ পৌছানোর পর প্রশাসন তাহা জোরপূর্বক ফেরত পাঠিয়ে দিয়ে নির্মমতার পরিচয় দিয়েছেন। অথচ ঐ ১লক্ষ শরনার্থীর মধ্যে হাজার হাজার অসুস্থ শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায় নারী রয়েছে। যারা বর্তমানে শীতের কাপড়, খাদ্য ও পানীয় সংকটের দরুন করুন ভাবে নীরবে ধুকে ধুকে মারা যাচ্ছে যা পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে না। কোনো সরকারী ত্রাণ ও বৈদেশিক সাহায্য এখনো পর্যন্ত তারা পায়নি। ঐ সব শরনার্থীরা খাদ্যের অভাবে গাছের পাতা ও শাক্-শবজী খেয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন দিন কঙ্কালসার হয়ে যাচ্ছে। তাই বক্তারা বেসরকারী বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে অবাধে ত্রাণ সামগ্রী পৌছানোর সুযোগ দানের জন্য সরকারী অনুমতির ঘোষনা প্রদানের দাবি জানান অন্যথায় চলমান শীতে প্রচন্ড ঠান্ডায় ও খাদ্য সংকটে আরো হাজার হাজার অসুস্থ, শিশু ও বৃদ্ধ শরনার্থী অচিরেই মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের মৃত্যূর দায় দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। বক্তারা সরকারী ও বেসরকারী সকল ব্যক্তি ও সংস্থাকে যার যার সাধ্যমত শীতের কাপড়, খাদ্য, চাল, চিড়া ও ঔষধ সহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী দ্রুত সেখানে পাঠানো দাবী জানান। সরকার একদিকে নৌকা যোগে ও স্থল পথে আসা প্রতিদিন হাজার হাজার অসহায় রোহীঙ্গা শরনার্থীকে বার্মায় ফেরত পাঠিয়ে খুনি বার্মিজ সৈন্যদের গুলির মুখে তুলে দিয়ে প্রকারান্তরে মুসলিম নিধনে সহযোগীতা করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহনকারী ১লক্ষ শরনার্থীকে চরম খাদ্য ও বস্ত্র সংকটে ফেলে তাদেরকেও ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। সরকার দেশে বিদেশে রোহীঙ্গা শরনার্থীদেরকে আশ্রয় ও ত্রাণ দিচ্ছে বলে মিথ্যা প্রচারনা চালালেও বাস্তব ক্ষেত্রে তাদেরকে সরকারী বেসরকারী ত্রাণ শূণ্য রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। বক্তারা ওআইসি,জাতীসংঘ, আসিয়ান ও সার্ক সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন সমুহকে মায়ানমারের মুসলমানদেরকে তাদের নিজস্ব বাড়ী ভিটিতে ফিরিয়ে নিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা করার জোর দাবী জানান। এই মুসলিম নিধনযজ্ঞে জড়িত খুনিদেরকে আন্তর্জাতিক আদালতে উপযুক্ত বিচার ও শাস্তির দাবী জানান। পাশাপাশি ভবিষতে এই ধরনের হত্যাকান্ড যাতে পুনরায় না ঘটে তার জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বক্তাগণ জোর দাবী জানান। সভায় বক্তাগণ সমাবেশ ও মিছিলে পুলিশি বাধার তিব্র নিন্দা জানান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: