রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের নিত্যনতুন খবর পাচ্ছে জাতি : জাতিসংঘ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ডিসেম্বর ১৭, ২০১৬
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের নিত্যনতুন খবর পাচ্ছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে, সেনাবাহিনীই রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার প্রধান জেইদ রা’আদ আল হুসেইন গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার যেন সংকটটা দেখেও দেখছে না, কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, এমনকি এ ব্যাপারে তাদের যেন কোনো অনুভূতিই নেই। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের এমন দৃষ্টিভঙ্গি এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ঝুঁকি তৈরি করছে।
ধর্ষণ আর হত্যা থেকে বাঁচতে কমপক্ষে ২৭ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে—এমন তথ্য জাতিসংঘের কাছে রয়েছে। এ ব্যাপারে জেইদ হুসেইন আরো বলেন, ‘মারাত্মকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে দাবি উঠেছে, সেটাকে বারবার রং চড়ানো খবর বলে অস্বীকার করা হচ্ছে। তদুপরি রাখাইনের উত্তরাংশে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আমাদের স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের জন্য এটা অত্যন্ত অপমানজনক। তা ছাড়া এর মাধ্যমে (মিয়ানমার) সরকার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মানার বাধ্যবাধকতা অস্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষের যদি লুকানোর কিছু না-ই থাকে, তবে আমাদের অনুমতি দিতে তারা কেন এত নারাজ?’ এদিকে এইচআরডাব্লিউ তাদের নতুন প্রতিবেদনে দাবি করেছে, অক্টোবর-নভেম্বরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের কমপক্ষে দেড় হাজার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং তাদের বাস্তুত্যাগে বাধ্য করেছে। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এইচআরডাব্লিউয়ের এশিয়া অংশের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডাম বলেন, ‘রোহিঙ্গা জঙ্গিরা নিজেরাই তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে সেনাবাহিনী ও সরকার যে দাবি করে যাচ্ছে, নতুন প্রতিবেদন সে দাবিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার স্পষ্টভাবেই ঘরবাড়ি জ্বালানোর জন্য সেনাবাহিনীর দিকে আঙুল তাক করছে। বার্মিজ সরকার স্যাটেলাইটের ছবির কারণে ধরা পড়ে গেছে। তাদের স্বীকারোক্তির এখনই সময়। ’ সূত্র : রয়টার্স, ইনডিপেনডেন্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*