রোমাঞ্চকর ফাইনাল আজ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৮ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার:
সাকিব-মুমিনুলের এই ‘লেনদেন’ ব্যক্তিগত কাজেই। ঢাকা ডায়নামাইটস অধিনায়ক সাকিবের কাছ থেকে তিনটি ব্যাট নিয়েছিলেন রাজশাহী কিংসের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মুমিনুল। কাল ঢাকার অনুশীলনের এক ফাঁকে ব্যাট তিনটির দাম মেটানোর সাক্ষী নাসির ষ শামসুল হকফাইনালের আগে সাধারণত যেমন ছবি দেখা যায়, কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তেমনটা দেখা যায়নি। রাজশাহী কিংস অনুশীলনই করেনি, হোটেলে সময় কেটেছে স্যামি-সাব্বিরদের। ঢাকা ডায়নামাইটস অবশ্য বেলা দুইটার দিকে বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেছে। দুই দলের যুদ্ধংদেহী চেহারাটা তাই স্পষ্ট বোঝার উপায় নেই।download-5
বিপিএল ফাইনালে ঢাকা নামটা যেন সাধারণ। গতবারই শুধু তারা ফাইনাল খেলতে পারেনি। রাজশাহীর অবশ্য নতুন অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে, প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলছে তারা। লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে দুই দলই এখন শিরোপা হাতে নেওয়ার অপেক্ষায়।
বিপিএল ফাইনালের আড়ালে লড়াইটা হবে অলরাউন্ডারদের মধ্যেও। ঢাকার ‘ডায়নামাইট’ হয়ে আবির্ভূত হতে চাইবেন সাকিব আল হাসান, আন্দ্রে রাসেল, ডোয়াইন ব্রাভো, নাসির হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেনরা। আর সেই বিস্ফোরণ ঠেকিয়ে ফাইনালের ‘কিং’ হওয়ার প্রতীক্ষায় রাজশাহীর ড্যারেন স্যামি, সামিত প্যাটেল, মেহেদী মিরাজ, ফরহাদ রেজা, জেমস ফ্র্যাঙ্কলিন, আফিফ হোসেনরা। ঢাকার প্রতিনিধি হয়ে কাল সংবাদমাধ্যমের সামনে আসা নাসির হোসেন জানালেন তাঁদের সাফল্য নির্ভর করছে অলরাউন্ডারদের ওপরই, ‘আমাদের দলটা অলরাউন্ডার-নির্ভর। এ কারণে বোলিংয়ে ঢাকার বিকল্পও বেশি।’
দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় সমন্বিত ঢাকা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ফেবারিট। তবে রাজশাহী অধিনায়ক স্যামি জানালেন, তারকার অভাব নেই তাঁর দলেও, ‘এটা একজনের খেলা নয়। মানুষ বলেছে আমাদের দলে নাকি তারকা নেই। টুর্নামেন্টে আমাদের দেখেছে তারকাময় দল হিসেবে। কিন্তু আমরা খেলেছি রাজার মতো।’
রাজশাহীকে অনুপ্রাণিত করবে দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানও। এবারের বিপিএলে রাজশাহীর কাছে দুবারই হেরেছে ঢাকা। মিরপুরে প্রথম দেখায় ঢাকার দেওয়া ১৩৯ রানের লক্ষ্য ৬ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়েছে রাজশাহী। চট্টগ্রামে ১৮২ রানের বড় লক্ষ্য দিয়েও পার পায়নি ঢাকা, রাজশাহী জিতেছে ৩ উইকেটে। ঢাকার বিপক্ষে দুবারই রাজশাহীর জয়ের নায়ক সামিত প্যাটেল।
বিপিএল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে না হলেও ফাইনালটা যেহেতু মিরপুরে, স্বাভাবিকভাবেই ঢাকার সমর্থকই থাকবে বেশি। ঢাকার দর্শকদের সামনে নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত স্যামিও, ‘জানি ঢাকার অনেক সমর্থন থাকবে। তবে আমাদের কিছু সমর্থকও থাকবে। তারা সব সময়ই সরব। জিততে হলে আমাদের ভালো মানের ক্রিকেটই খেলতে হবে, ব্যাটিং ভালো করতে হবে।’ তবে দর্শকদের বিপুল সমর্থনের নেতিবাচক দিকটাও ভাবাচ্ছে ঢাকার নাসিরকে, ‘সমর্থন বেশি পেলে চাপও কাজ করে। এটার ইতিবাচক দিক যেমন আছে, নেতিবাচক দিকও আছে। সব যদি ঢাকার সমর্থক হয়, তাহলে আমাদের ওপর চাপও বেশি কাজ করবে।’
শক্তি আর পারফরম্যান্সের বিচারে ফাইনালে কোনো দলকে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। তবে টুর্নামেন্টে যেভাবে নিয়মিত একপেশে ম্যাচ দেখা গেছে, ফাইনালটা না আবার নিরুত্তাপ হয়!

Leave a Reply

%d bloggers like this: