রামুর দর্শনীয় স্থানকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প বিকাশে সরকারের মহা পরিকল্পনা

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার : কক্সবাজারের রামু উপজেলার দর্শনীয় স্থান ও বৌদ্ধ পল্লীকে ঘিরে পর্যটন শিল্প বিকাশে মহা-পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। Ramu_30-04-2015এমনকি দেশ-বিদেশী পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রাচীন বৌদ্ধ পুরাকীর্তিগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্যে (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও ভাবছে সরকার। ২০১৬ সাল পর্যটন বর্ষ উপলক্ষে ২৯ এপ্রিল বুধবার সকালে রামুর বিভিন্ন বৌদ্ধ পল্লী পরিদর্শনকালে সরকারের এসব পরিকল্পনার কথা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী। তিনি রামুতে গতকাল বুধবার সকালে পৌঁছে ঐতিহাসিক রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধবিহার, রামকোট তীর্থধাম পরিদর্শন করেন। পরে তিনি রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহার, উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র ও একশ ফুট বিশিষ্ট ভুবন শান্তি সিংহ শয্যা বুদ্ধ মূর্তি পরিদর্শন করেন। এ সময় পরিদর্শন সঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ ট্যুরিষ্ট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী আখতার-উজ-জামান খান কবির, জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাসুদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে বিনিময় কালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ জ্যোতিসেন ভিক্ষু, রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরুন বড়ুয়া, রামু প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুনীল বড়ুয়া, ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন পরিষদের আহবায়ক বিপুল বড়ুয়া আব্বু, রামকোট তীর্থধাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট দীলিপ কুমার শর্মা, সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ সিকদার, সহ সভাপতি ডা. আশুতোষ চক্রবর্তী মন্টু, যুগ্ম সম্পাদক স্বদীপ শর্মা, অর্থ সম্পাদক বিজয় কুমার ধর, রামু কেন্দ্রীয় কালি মন্দিরের পুরোহিত সুবীর ব্রাহ্মন চৌধুরী বাদল, উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র পরিচালানা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিপন বড়ুয়া প্রমুখ। প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামুতে উগ্রসম্প্রদায়ীক গোষ্ঠির দেয়া আগুণে পুড়ে গিয়েছিল বৌদ্ধ বিহার ও বসতি। ঘটনার পর পরেই ওই বছরের ৮ অক্টোবর রামুতে ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধ বিহার ও বসতি দেখতে ছুটে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর বছর খানেকের মধ্যেই বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সেখানে নতুন করে গড়ে তোলা হয় বৌদ্ধ ধর্মীয় পুরাকীর্তি সম্পন্ন বিহারগুলো। একইভাবে বিজিবির তত্ত্বাবধানে চলে ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বসতিগুলো পূর্ণ:নির্মাণ করার কাজও। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী-এমপিদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে একপ্রকার আগুণের ভেতর থেকে জেগে উঠা রামুর বৌদ্ধ বিহারগুলোতে থাইল্যান্ড ও শ্রীলংকা থেকে আনা হয় প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পন্ন বৌদ্ধ মূর্তি। ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বিহারগুলো উদ্বোধনের পর থেকে বর্তমানে এখানকার ১২টি বৌদ্ধ বিহার দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ভ্রমণের এক দৃষ্টিনন্দন স্পট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহার ও ১০০ ফুট বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র পর্যটকদের কাছে আকষর্ণীয়। প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আকর্ষণীয় এসব বৌদ্ধ বিহার দেখতে ছুটে আসছেন বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনার, এমপি থেকে ছুটে আসছেন বিপুল সংখ্যক পর্যটক।

Leave a Reply

%d bloggers like this: