রামগড়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বৃক্ষ ও বাগান কর্তনের প্রতিবাদে সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফটিকছড়ি, ২৬ জুলাই ২০১৭, বুধবার: খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নের বালুখালীর গৈয়াপাড়া ও হাতিকুম্বা বাঙ্গালী পরিবারের উপর নির্যাতন, চাঁদাবাজি, লুটপাট, রাবার বাগান কাটা, ক্ষেত খামার ধ্বংস করার প্রতিবাদে এলাকার লোকজন স্থানীয় গৈয়াপাড়া স্কুল মাঠে গত ১জুলাই ২০১৭ইং তারিখ এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব আব্দুল মান্নান মাস্টারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য জনাবা হাসিনা বেগম, আমানুল্লাহ মেম্বার, জাহাঙ্গীর মেম্বার, সাবেক ইউপি সদস্য আবু বক্কর, হারুনুর রশিদ, আবু মুছা, করিমুল্লাসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর তার বক্তব্যে বলেন, ইউপিডিএফ এর অত্যাচার, নির্যাতন, চাঁদাবাজিসহ সকল কিছু বন্ধ করতে হবে। তাদের ধ্বংসাতœক কর্মকান্ড থেকে আমি নিজেও রেহাই পাইনি। আমার ৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ক্ষেত খামার ধ্বংস করেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা পাহাড়ী বাঙ্গালী ভাই ভাই। এ শ্লোগানকে সামনে রেখে আগামীতে যেন আমরা সমন্বিতভাবে বসবাস করতে পারি সেই চেষ্টা করতে হবে।
সাবেক ইউপি সদস্য আবু বক্কর বলেন, আমার ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি করেছে ইউপিডিএফ এর স্বশস্ত্র-সন্ত্রাসীরা। এভাবে অত্র এলাকার প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকার বাগান ও মৎস খামার এবং ক্ষেত খামার তাদের হাতে ধ্বংস হয়েছে। গত ৮ জুন ২০১৭ইং তারিখ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত আমার রাবার বাগান ও রাবার গাছের চারা এবং মৎস খামার পর্যায়ক্রমে ধ্বংস করে দিয়েছে। এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না। সন্ত্রাসীদেরকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, এলাকার প্রতিটি বাঙ্গালী পরিবার কোন না কোন ভাবে তাদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে। চাঁদা না দিয়ে কেউ একটি গাছের চারাও রোপন করতে পারে না। এমনকি ফল-ফসল, ক্ষেত-খামার, বাগানসহ যে কোন কাজ করতে গেলেই ইউপিডিএফকে চাঁদা দিতে হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌছেগেছে যে চাঁদা দিয়ে বাগ-বাগান রক্ষা করার সুযোগ নেই। চাঁদা দিতে একটু দেরী হলেই শত শত ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা রাতের অন্ধকারে এলাকায় ধ্বংস লীলা চালায়। ছোট্ট গাছের চারাও তাদের দানবীয় হাত থেকে রক্ষা পায় না। আমরা এসবের প্রতিকার চাই। পাহাড়ী-বাঙ্গালী মিলেমিশে বসবাস করতে চাই। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চাইলে দ্রুত ইউপিডিএফসহ সকল সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। আমরা সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, অবৈধ দখলদারমুক্ত পার্বত্য এলাকা চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*