রাজনীতিবিদদের নির্বাচন বর্জন করা উচিত নয়: এরশাদ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৬, বৃহস্পতিবার: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও বিএনপির পক্ষে আগামী সংসদ নির্বাচন বর্জন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের নির্বাচন বর্জন করা উচিত নয়। ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টি নির্বাচন বর্জন করলে তার ফাঁসি হতে পারতো বলেও মনে করেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।‘ ১ জানুয়ারি রাজধানীতে জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এরশাদ এ কথা বলেন। এরশাদ আশা করছেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ওই সমাবেশে লাখো মানুষের জমায়েত হবে। তিনি বলেন, ‘গত বছর আমাদের সমাবেশের দিন হরতাল ছিল। এ জন্য লোক আসতে পারেনি। এখন আর হরতাল নেই। এখন নব জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় পার্টির সবার মনে। আশার সঞ্চার হয়েছে যে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় যেতে পারে এবং এই আশার সঞ্চারের কারণে লাখ লাখ মানুষ সমাবেশে যোগ দেবে।’
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘আমরা তো ক্ষমতার জন্য নির্বাচন করবো। যে কোনো দল নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। এখন বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না-এটা তো আমি বলতে পারবো না। তবে যদি তারা নির্বাচন না করে তাহলে নিবন্ধন বাতিল হবে। বাধ্য হয়ে তাদেরকে নির্বাচনে আসতেই হবে।‘ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন অনুযায়ী কোনো নিবন্ধিত দল পরপর দুই বার নির্বাচন বর্জন করলে তার নিবন্ধন বাতিল হবে। ফলে বিএনপি গতবারের মতো আগামী নির্বাচন বর্জন করলেও এই ঝামেলায় পড়তে হবে দলটিতে।
‘পলিটিশিয়ানস কেন নেভার বি আউট অব নির্বাচন’
কোনো দলের নির্বাচন বর্জন করা উচিত নয় বলেও মনে করেন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘অ্যা পলিটিশিয়ান কেন নেভার রিটায়ার (রাজনীতিবিদ কখনও অবসর নিতে পারে না)। আমরা আর্মিতে ছিলাম। আর্মিতে বলে, অ্যা সোলজার নেভার ডাই (একজন সেনা কখনও মরতে পারে না।)। আমাদের কথা হলো পলিটিশিয়ান কেন নেভার বি আউট অব নির্বাচন (একজন রাজনীতিবিদ কখনও নির্বাচনের বাইরে থাকতে পারে না) নির্বাচন করতেই হবে। আমরা নির্বাচন করেছি বলে বেঁচে আছি এখনও।’

১৯৯০ সালে গণ আন্দোলনের মুখে পতনের পরের বছর জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে এরশাদ বলেন, ‘যদি নির্বাচন না করতাম জেল থেকে তাহলে ৩৫টা আসন পেতাম না। হয়ত ফাঁসিতে যেতে হতো। …সমস্ত কর্মী তখন জেলে, সমস্ত অফিসার জেলে, সমস্ত মন্ত্রীরা জেলে। আমরা প্রচার করতে পারিনি, জনগণের কাছে যেতে পারিনি। তা সত্ত্বেও ৩৫টি আসন পেয়েছি। আমি একলাই পাস করেছি, দুইবার, জেল থেকে। এই দৃষ্টান্ত পৃথিবীর কোথাও নেই। আমি কোনো ভোটে আজ পর্যন্ত হারিনি।’
এরশাদ বলেন, ‘আমি কি স্বৈরাচার? তাহলে মানুষ কেন ভোট দেবে। আমি ঢাকাতে দাঁড়িয়েছি, কুড়িগ্রামে জিতেছি, ঢাকাতে জিতেছি। সব জায়গায় জিতেছি। ভালো কাজ করেছি, মানুষ ফলো করে। তোমরাও (গণমাধ্যমকর্মীরা) নিশ্চয় ফলো করো আমাকে। তোমাদের জন্য ওয়েজবোর্ড করেছি, জমি দিয়েছি, বাড়ি করে দিয়েছি, দিয়েছি না?‘।
এরশাদ মনে করেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এলেও তার জাতীয় পার্টি ভালো করবে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের সমর্থন তারা কতটা পাবে, আমি ঠিক জানি না। মনে হয় বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি কিছুটা দুর্বল হয়ে গেছে, নানাবিধ কারণে। এ জন্য আশা করছি বিএনপির ওপরে আমার থাকবো, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করবো ‘
‘এককভাবে নির্বাচন করলে ভালো করে জাপা’
আগামী সংসদ নির্বাচন জাতীয় পার্টি এককভাবে নাকি জোটবদ্ধভাবে করবে- এমন প্রশ্নের জবাব দেন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমরা নির্বাচন করেছি এবং ভালো করেছি। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা জোট করেছি। দেখা দেছে, আমরা এককভাবে নির্বাচন করে ফল ভালো করেছি, জোটগত নির্বাচন করে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনও আসেনি। আমরা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো যে আমরা জোটে যাবো না এককভাবে নির্বাচন করবো। তবে এখন বলবো আমরা এককভাবে নির্বাচন করবো। এই জন্য প্রার্থী যোগাড় করছি। যদি প্রত্যেক জায়গায় প্রার্থী থাকে তাহলে সংগঠন শক্তিশালী হবে। আমরা বিরোধীদলে যাওয়ার জন্য নির্বাচনে যাচ্ছি না, আমরা যেতে চাই ক্ষমতায়।’
নির্বাচন কবে হবে-জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, ‘নির্বাচন ঠিক সময়েই হবে, সেটা ২০১৮ সালের শেষে। সরকারের পাঁচ বছর পরে। এখন কোনো আন্দোলন তো নেই। তাই আগাম নির্বাচন করার মতো তো কোনো পরিবেশ নেই।’
‘বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন’
এরশাদ বলেন, ‘আমরা সংবিধান অনুসারে নির্বাচন চাই। এটা পাস করা হয়েছে যে এই সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। এটার বাইরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। আশা করি এই নির্বাচনটা নারায়ণগঞ্জের মতো সুষ্ঠু হবে।
‘হারার আশঙ্কায় নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে যায়নি জাপা’
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কেন অংশ নেয়নি-এই প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘প্রথম কথা হলো এটা লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচন। আমরা জোর দিচ্ছি জাতীয় নির্বাচনের ওপর। ক্ষমতায় যেতে চাই আমরা। লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচন ইমপরটেন্ট নয় আমাদের জন্য। তাছাড়া আইভী সম্পর্কে আমার যে ধারণা, ছিল আইভী ভালো কাজ করেছে, তার সঙ্গে হয়তো আমরা পারতাম না। যদি না পারি এবং আমরা কত ভোট পাই, তাতে দুর্নাম হতো।’
জেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কেন যায়নি-এই প্রশ্নের জবাবে দলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচন জনগণের নির্বাচন ছিল না। এটা মৌলিক গণতন্ত্রের মতো একটা নির্বাচন ছিল। এখানে জয়ী হওয়া অত্যন্ত কঠিন। এখানে সমস্ত ভোটার হলো সরকারি দলের। এখানে আমাদের মতো ছোট্ট দল, আমাদের মতো যে কোনো দলের জয়ী হওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল।’
ইসিতে নিয়োগ নিয়ে আইন করা উচিত
নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে অবিলম্বে আইন করা উচিত বলে মনে করেন এরশাদ। বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। এরশাদ বলেন, ‘এই আইন কেউ করেনি ৪০-৪৫ বছরে। যদি আইন করা যায়, আইনের মাধ্যমে চিফ ইলেকশন কমিশনার নিয়োগ করা যায়, সে অনুরোধ আমরা করেছি। তবে হবে কি না জানি না।’
জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালে এই আইন কেন করা হয়নি-জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, ‘আমাদের সময় বিতর্ক ছিল না। ভারতও করেনি, অনেক দেশে করেনি। এবার যদি তারা করেন, তাহলে ভালো কথা। আর যদি না করে তাহলে তো বলার কিছু নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*