রাজধানীতে সমাবেশ নিষিদ্ধ, বাস-লঞ্চ চলাচল বন্ধ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ৫ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘিরে আজ রোববার বিকেল ৫ টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাজধানীতে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। bus-1দুপুরে মহানগর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান তার ক্ষমতা বলে রাজধানীতে সব ধরনের মিছিল সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (পিআর) মাসুদুর রহমান জানান, রোববার বিকাল ৫টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং বন্ধ থাকবে। এ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি-সোটা, ব্যানার, ফেস্টুন বহন করা যাবে না বলে ডিএমপি থেকে বলা হয়েছে। এদিকে, নাশকতার আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকামুখী দূরপাল্লার বাস বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার কোনো বাস আসতে দেখা যায়নি। সায়েদাবাদ টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি জানান, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা রোববার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি।’ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি ও ঢাকা সড়ক সমিতির সভাপতি জানান, ‘আমরা সমিতির পক্ষ থেকে bus-000বাস বন্ধ করিনি। আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কায় বাস মালিকরা নিজেরাই বন্ধ করে দিয়েছেন।’ এছাড়া, বরিশাল থেকে ঢাকামুখী লঞ্চ চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আকস্মিকভাবে বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এদিকে, ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে তল্লাশী ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। হোটেলে কাউকে চেক ইন করতে দেয়া হচ্ছে না। lunchআগে থেকে যারা আছেন তারা চেক আউট করতে পারবেন অথবা আরও বেশকিছু দিন থাকতে পারবেন। কিন্তু ৫ জানুয়ারির আগে কেউ চেক ইন করতে পারবেন না। এছাড়া বরিশালসহ বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে হঠাৎ করে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বাস চলচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পরেছেন সাধারণ যাত্রীরা। অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের চাপ এবং পুলিশের নির্দেশে মালিকরা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। dhaka-3রবিবার দুপুর ২টা থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকাগামী সব যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ ও পাশাপাশি ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের (নতুল্লাবাদ) বাস মালিক সমিতির সভাপতি জানান, ৫ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোট ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিয়েছে, এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে অপ্রিতীকর ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া নাশকতার আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে সকাল থেকেই ঢাকাগামী যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। আর দুপুর ২টার পর থেকে ঢাকাগামী কোনো পরিবহনের টিকিট বিক্রি হয়নি, তাই যাত্রী না থাকায় দুপুর ২টা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঢাকা ছাড়া অন্যান্য রুটের বাস চলাচল করবে বলে জানান তিনি। এদিকে, লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও সুন্দরবন নেভিগেশনের স্বত্বাধিকারী জানান, ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কায় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাশকতার এ আশঙ্কার বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। তিনি জানান, এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার রাতে বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে কোনো লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে না। এদিকে, ঢাকার উদ্দেশে বাস ও লঞ্চের যাত্রা বন্ধ ঘোষণা করায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। মুন্সিগঞ্জ : ৫ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের কালোপতাকা মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের সাথে ঢাকার বাস যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে সরকারপন্থি বাস মালিকরা। ঢাকাগামী এক যাত্রী জানান, সকালে অফিসে যাব বলে বাস কাউন্টারে এসে দেখি বাস চলাচল বন্ধ। এখন বিকল্প পথে যেতে হবে। এ দিকে কাউন্টারের আশে পাশে বাস চালক ও হেল্পারদের ঘুরা ফেরা করতে দেখা গেছে। bus-2নাম প্রকাশে অনিকছুক বাসচালক জানান, আওয়ামী লীগ নেতারা আমাদের বাস চালাতে নিষেধ করেছেন। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বাস বন্ধ আপনাকে কেন জানাবো, বাস কি আমরা বন্ধ করেছি। রংপুর : ৫ জানুয়ারি বিএনপির ঢাকায় কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশকে ঘিরে দেশজুড়ে নাকশকতা হতে পারে এ আশঙ্কায় রংপুরে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মোটর বাস মালিক সমিতি। শনিবার রাত ১২টার পর থেকে অঘোষিতভাবে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে চরম বিপাকে পড়েছে ঢাকাগামী যাত্রীরা। এব্যপারে জেলা মোটর বাস মালিক সমিতির সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাস চালক বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা আর পুলিশের হুকুমের কারণে রংপুর থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল আপাতত বন্ধ আছে। সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা এবং বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে ঢাকাগামী কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। আগাম টিকেট সংগ্রহে রাখা যাত্রীরা এসে বাস বন্ধ থাকায় ফেরত চলে যান। নাটোর : নাটোর থেকে ঢাকামুখী সব যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাস মালিকরা। dmpসকাল ১০টার দিকে হঠাৎ করেই শহরের কানাইখালী পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও হরিশপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকামুখী বাসগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। আকস্মিকভাবে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন নারী-শিশুসহ বিভিন্ন ধরনের যাত্রীরা। নাটোর জেলা বাস মিনিবিাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ নিজ থেকেই তাদের ঢাকামুখী বাস বন্ধ করে দিয়েছে। ভূক্তভোগী যাত্রীদের ধারণা ৫ জানুয়ারির ২০ দলীয় জোটের সমাবেশ ঘিরে এমন হচ্ছে। রাজশাহী: রাজশাহী থেকে ঢাকার সঙ্গে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নাশকতার আশঙ্কায় রোববার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় বাস মালিকরা। রাজশাহী সড়ক পরিবহনbnp_200_200 গ্র“পের সাধারণ সম্পাদক জানান, ভোরে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে দুই থেকে তিনটি বাস ছেড়ে যায়। এরপরেই বাস মালিকরা সিদ্ধান্ত নেয় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী বাসগুলো চলাচল বন্ধ করে দেয়ার। রাস্তায় নাশকতা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় বাস মালিকরা এ সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। আগে থেকে টিকিট কেটে নেয়া যাত্রীরা বাস কাউন্টারগুলোতে এসে ভিড় জমাচ্ছে। এদিকে বিএনপির ৫ জানুয়ারির সমাবেশ ও আন্দোলন সংগ্রামকে সফল করতে কয়েকদিন আগ থেকে পটুয়াখালীতে অবস্থান করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। সে কারণে আন্দোলন সংগ্রামের দিকে পটুয়াখালীকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় রাখছে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বিভাগ। পটুয়াখালী : ৫ জানুয়ারি সোমবার বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মুখোমুখি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী থেকে দূরপাল্লার সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রবিবার সকাল ৭টা থেকে জেলার বাসস্টান্ড থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। এদিকে হঠাৎ করে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বাস চলচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পরেছেন দক্ষিণ অঞ্চলের সাধারণ যাত্রীরা। images_63595তবে এ বিষয়ে জেলার বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। লঞ্চ মালিক সমিতির সচিব জানান, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে নাশকতার আশঙ্কায় মালিক-শ্রমিক লঞ্চ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ, তাদের কর্মসূচি বানচাল করতে বাস-লঞ্চ বন্ধ করে সরকারই ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। এদিকে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও ঢাকার অভ্যান্তরে চলাচল করা পরিবহণ এবং আবাসিক হোটেলে থেমে নেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি। রাজধানীতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক যাত্রী গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাস পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে অনেকে পায়ে হেটে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। নাশকতার আশঙ্কায় উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে আন্তঃজেলা ও লোকাল রুটে বাস চলাচল রয়েছে স্বাভাবিক। শাসকদল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ৫ জানুয়ারির পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে দূরপাল্লার সকল বাস বন্ধ করে দিয়েছে মালিক সমিতি। রোববার ভোর vlcsnap-2015-01-04-12h49m27s101-300x225থেকেই দেশের আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছাড়ছে না। এ অবস্থায় অনেকেই বাস কাউন্টারে এসে দুর্ভোগে পড়ছেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ সমিতির মহাসচিব জানান, ‘কেউ কেউ ভয়ে বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছে।’ বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতির উপর সবকিছু নির্ভর করছে। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।’ এক পরিবহণ শ্রমিক নেতা বলেন, ‘অধিকাংশ মালিক নাশকতার ভয়ে সড়কে বাস নামাতে চাইছে না। মালিকরা অনুমতি দিলে শ্রমিকরা বাস চালাবে।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: