রাজধানীতে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : পাড়ায় মহল্লায় সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারা বোমা বানায় আর কারা সেগুলো ফাটায় তাদের খুঁজে বের করে আইন hasinaশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে হবে। সোমবার বিকেল পৌনে ৫ টার দিকে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়াকে ‘সন্ত্রাস, জঙ্গি আর দুর্নীতির নেত্রী’ অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি কখনোই স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না। তাই তারা যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে নিয়ে দেশে জঙ্গিবাদ কায়েম করেছে। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নেত্রী নয়, তিনি জঙ্গীদের নেত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণকে নিরাপত্তা দিতে যা যা করার সরকার তা করবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার কুলাঙ্গার ছেলে মুচলেকা দিয়ে বিদেশ গিয়েছিল যে আর রাজনীতি করবে না। এখন সে বিদেশে বসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উস্কানি দিচ্ছে। তারা দু’জনই দেশে জঙ্গিবাদী তৎপরতা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, বিএনপি নেত্রীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা কখনোই স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তাই তারা স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির সমর্থন করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। এখন তার মাথায় ভূত চাপলো তিনি আন্দোলন করবেন। তিনি আন্দোলন ডাকলেন। কিন্তু তার আন্দোলনে কেউ সাড়া দেয়নি। ধৈর্য্যরে একটা সীমা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমার কথা চিন্তা করেও বিএনপি নেত্রী অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেনি। জামায়াতে ইসলামী তাদেরকে ইসলামি দল দাবি করলেও বিশ্ব ইজতেমায় বিএনপি নেত্রী ও জামায়াত অবরোধ ডাকলো। কিন্তু মুসল্লিরা অবরোধ প্রত্যাখান করে ইজতেমায় অংশ নিয়েছে। এ সময় খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আসেননি। এটা আপনার রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত। কোনো রাজনৈতিক দলের ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে আপনি জনগণকে কেন হত্যা করবেন? জনগণের জানমাল রক্ষার্থে যা করা প্রয়োজন সরকার করবে। খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ রাখা হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া বাড়ি যেতে চাইলে যেতে পারবেন। কিন্তু তিনি বাড়িতে যেতে চান না। অবরোধ ডেকে মানুষ হত্যা করতে চান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, জামায়াত যুদ্ধাপরাধী। তাদের বিচর করা হচ্ছে। আর তাদের বাঁচানোর জন্য আপনি বাংলার মানুষ খুন করবেন তা আমরা সহ্য করবো না। জনগণ ক্ষেপে গেলে আপনি রক্ষা পাবেন না। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষ খুন করে বিএনপি নেত্রী দেশের উন্নয়ন আটকাতে পারবেন না। এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুর আড়াইটার দিকে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে শুরুর কিছুক্ষণ পর বাংলা একাডেমির সামনে থেকে ৩টি তাজা হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময় দোয়েল চত্বরের কাছে ৩টি হাতবোমার বিস্ফোরণ হয়। আওয়ামী লীগের এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের উপনেতা ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। জনসভায় আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা ভারতীয় জনতা পার্টি প্রধান অমিত শাহর সাথে খালেদা জিয়ার কথিত ফোনালাপের সমালোচনা করে মিথ্যাচারে জন্য বিচার দাবি করেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: