রাখাইনে রোহিঙ্গাদের দোকানপাটেও অগ্নিসংযোগ করছে মগ যুবকেরা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৮ ডিসেম্বর , বৃহস্পতিবার :
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে হামলার পাশাপাশি দোকানপাটেও অগ্নিসংযোগ করছে মগ যুবকেরা। এতে সহযোগিতা করছে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশ। খাদ্যসংকট সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য করতে এটা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এসব কথা বলেছেন।1
রোহিঙ্গারা বলেন, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু সফরের পর থেকে সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন বেড়ে গেছে। গত সোমবার থেকে রোহিঙ্গাদের দোকানপাট ধ্বংস করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে শীলখালী ও খেয়ারিপ্রাং গ্রামের শতাধিক দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব দোকানে চাল-তেলসহ খাদ্যসামগ্রী মজুত ছিল। সব দোকানের মালিক রোহিঙ্গা।
গতকাল বুধবার ভোরে টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত শিবিরে পালিয়ে আসা শীলখালী গ্রামের রোহিঙ্গা নুরুল বশর বলেন, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ১৫-২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রায় ৪০ জন মগ যুবক শীলখালী বাজারে এসে দোকান থেকে রোহিঙ্গা ব্যবসায়ীদের বের করে দেয়। এরপর দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা মগ যুবকদের সহযোগিতা করেন। আগুনে পুড়ে কিশোর সুলতান মারা যায়। একই কায়দায় মগ যুবকেরা পাশের গ্রাম খেয়ারিপ্রাংয়ের বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয়।
নুরুল বশর বলেন, দোকানপাটে হামলা ও অগ্নিসংযোগের উদ্দেশ্য হলো, এলাকায় খাদ্যসংকট তৈরি করা। তিনি জানান, তিনি স্ত্রী রহিমা, ছেলে কবির ও হাসান, মেয়ে মুন্নি ও আয়েশাকে নিয়ে টেকনাফ পালিয়ে এসেছেন।
উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত শিবির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক ও টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত শিবিরের সভাপতি দুদু মিয়া বলেন, এই দুই শিবিরে গতকাল বুধবার ভোরে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা ঢুকেছে। আরও কিছু রোহিঙ্গা শিবিরে জায়গা না পেয়ে কক্সবাজার শহরের দিকে চলে গেছে। গত এক মাসে এই দুই শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ২৩ হাজার রোহিঙ্গা।
দুদু মিয়া বলেন, কফি আনানের মংডু সফরের পর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খাদ্যসংকটের কারণে বহু রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ফেলে পালিয়ে আসছে।
২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ বলেন, মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে ৩টা পর্যন্ত টেকনাফ অনুপ্রবেশের সময় বিজিবি আটটি নৌকার শতাধিক রোহিঙ্গাকে প্রতিরোধ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*