রাউজানে প্রযুক্তির আলো ছড়াচ্ছে যুব উন্নয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ইংরেজী, মঙ্গলবার: ‘শুধু শিক্ষিত নয়, চাই তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৩ সাল থেকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় যুব উন্নয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য ও প্রযুক্তি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। রাউজানে সর্বপ্রথম সরকার স্বীকৃত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এটি। এ প্রতিষ্ঠান হতে প্রতি বছর ডিপ্লোমা কোর্সসহ কম্পিউটারের বিভিন্ন মেয়াদের ট্রেড কোর্সে ৩০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে উন্নীত করা হয়। এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা বার্ষিক পরিক্ষা অথবা বোর্ড পরিক্ষা শেষে অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেকে প্রস্তুত করছে। বর্তমানে ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর ও ২ বছর মেয়াদী কোর্স চালু রয়েছে। কারিগরি শিক্ষার নির্দিষ্ট সিলেবাসের মাধ্যমে সুন্দর মনোরম পরিবেশে, সুকৌশলে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক (প্র্যাক্টিক্যাল) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় সুদক্ষ করে গড়ে তোলা হয়। প্রশিক্ষকগণ বন্ধুত্বসূলভ আচরণের মাধ্যমে ক্লাস প্রদান করেন। প্রশিক্ষণার্থীদের স্ব-স্ব ব্যাচে নিয়মিত ক্লাস, অনুশীলন ও পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া দূর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস প্রদান করা হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের শিখানোর জন্য প্রয়োজনীয় খরচের বেশি কোন অর্থ নেওয়া হয় না। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, পরিচর্যা, প্রশিক্ষকের বেতন, বিদুৎ বিল, পরিক্ষার খরচ, একাডেমিক ভবন ভাড়া প্রভৃতি খরচ মেটানোর জন্য বার্ষিক হিসাব-নিকাশ করে আসন অনুসারে প্রতি ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে শুধু সে খরচটুকু গ্রহণ করা হয়ে থাকে অর্থাৎ ব্যবসায়িক বা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নয়। স্বচ্ছতার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণকালে কম্পিউটারে হিসাব-নিকাশের কাজ শেখানোর সময় প্রতি কোর্সে আয়-ব্যয় হিসাবের একটি নমুনা দেখানো হয়ে থাকে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো কোন প্রশিক্ষণার্থী একটি কোর্স গ্রহণ করার পর শেখানোর কোন অংশ ভূলে গেলে বা আরো দক্ষ হতে চাইলে, যেকোন সময় এসে রিভিউ ক্লাস করতে পারে এবং জীবনে যতবার প্রয়োজন ততবার রিভিউ ক্লাস করার সুযোগ দেওয়া হয়। এর জন্য পুনভর্তি বা বাড়তি কোন ফি নেয়া হয় না। স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের সম্পূর্ণ ফ্রি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তবে কোর্সে প্রয়োজনীয় খরচের অর্থ জামানত নেয়া হয় যেন নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকেন। কোন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকার উপযুক্ত কারণ দর্শাতে না পারলে জামানতকৃত অর্থ হতে অনুপস্থিতির শাস্তিস্বরূপ পাঁচশত টাকা কর্তন করা হয়। রেজিস্ট্রেশনকৃত প্রশিক্ষণার্থী অন্য কোন জেলায় চলে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তাদের জন্য ট্রান্সফারের ব্যবস্থা রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। দু বন্ধু মো. খোরশেদ ও মো. মোরশেদ ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্র“য়ারি কর্মের সন্ধানে দৌঁড়ঝাপ শুরু না করে কর্মসৃজনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তারা দুজনই রাউজান উপজেলার যথাক্রমে দেওয়ানপুর ও কদলপুর গ্রামের মেধাবী মুখ। কালের পরিক্রমায় তারা আজ সফল উদ্যোক্তা। মো. খোরশেদ আলম জানান, চট্টগ্রাম শহরে পড়ালেখার পাশাপাশি দীর্ঘদিন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। প্রশিক্ষণ গ্রহণকালীন সময় থেকেই মূলত একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার গড়ার স্বপ্ন দেখি। তারই ধারাবাহিকতায় আমার বন্ধু মো. মোরশেদকে সাথে নিয়ে প্রথমে চুয়েট শাখাটি প্রতিষ্ঠা করি। প্রতিষ্ঠার প্রথম দু’বছর সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আইটি ফাউন্ডেশন হতে পরিক্ষা-নিরিক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র প্রদান করা হতো। দু’বছর পর অর্থাৎ ২০১৫ সালে প্রশিক্ষণার্থীদের সুবিধার্থে রাউজান মুন্সীরঘাটা একটি শাখা স্থাপনা করলে চিন্তা আসে তৃণমূল পর্যায়ে কিভাবে আইসিটির আলো পৌঁছানো যায়। সে চিন্তা-ভাবনা হতে আইসিটি নলেজ লিমিটেড গঠনের মাধ্যমে যুব উন্নয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে তার একটি প্রজেক্ট এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়। আর এ প্রজেক্টের আওতায় রাউজানসহ সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ। গড়ে তোলা হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি, তৈরি করা হচ্ছে উদ্যোক্তা যাদের হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশ। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় আইসিটি নলেজ লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে যুব উন্নয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ২০টি শাখা থেকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। দেশব্যাপী প্রতিটি উপজেলায় ১টি করে শাখা স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Leave a Reply

%d bloggers like this: