রমজান অন্নহীন মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনের একটা মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট রচনা করে: আল্লামা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৬ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে চট্টগ্রামের জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া লালখান বাজার মাদ্রাসার উদ্যোগে ৯ রমজান ৫ জুন জামিয়াতুল আল ইসলামিয়া কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে রমজানের আধ্যত্মিক ও আর্থসামাজিক তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া লালখান বাজার মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল্লামা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সহকারী সম্পাদক মাওলানা ওবাইদুর রহমান খান নদভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মুফতি হারুন ইজহার চৌধুরী। বিশিষ্ট রাজনীতিক আবদুর রহমান চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবি এডভোকেট আবদুস সাত্তার, এডভোকেট শাহাদাত, দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, এডভোকেট নিজাম, মাওলানা আবু তাহের আরবী, মহাদ্দেস মুসা, মাওলানা মুজিবুর রহমান প্রমুখ। সভায় প্রধান অতিথি বলেন, নবী করীম সা. রমাদানে ব্যাপকভিত্তক সেবা ও দানের যে বিশেষ আদর্শ রেখে গেছেন তা মুসলামনদের সমকালীন রমাদানের চর্চায় বিস্মৃত হয়ে আছে।
হাদিসে রমাদানকে সহমর্মিতার মাস বলা হয়েছে। যারা রমাদানে সেবা কার্যক্রম ও জনকল্যানমূলক কাজ এড়িয়ে কেবল ব্যাক্তিগত নামাজ তেলাওয়াত আর জিকিরের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখে দানশীলতা থেকে হাত গুটিয়ে রাখেন তারা রমাদানের এ অপরিহার্য উপাদানকে অস্বীকার করলেন। এটা রাসুলাল্লাহর আদর্শের পরিপন্থী হওয়ায় আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
রমাদানের তাক্বওয়ার যে কন্সেপ্ট কোরআনে হাকিমে দেয়া হয়েছে তা সংযমকে সক্রিয় করে কুপ্রবৃত্তির চর্চাগুলোকে দমিয়ে এমন এক মানবতাবাদী সমাজের পথকে বিকশিত করবে যেখানে বিশেষ শ্রেণীর নিরঙ্কুশভাবে ভোগবাদী হয়ে উঠার সুযোগ বিদ্যমান থাকতে পাওে না।
ক্ষুধার জ্বালা তাড়িত সিয়াম সাধনা অন্নহীন মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনের একটা মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট রচনা করে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুফতি হারুন ইজহার চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাদী প্রথার এ বাজেট ইসলাম সমর্থন করে না। এটা পশ্চিমা অর্থনৈতিক ফর্মুলার কপি পেস্ট ছাড়া আর কিছু নয়। এ বাজেটের মূল প্রাণ হলো ‘কর’। ইসলাম এটাকে রাষ্ট্রনৈতিক জুলুম মনে করে।
প্রচলিত পুঁজিবাদী বাজেট প্রথার দ্বিতীয় স্মম্ভটি সুদ, যা ইসলামি আইনে শিরকের পর সবচেয়ে বড় গুনাহ হিসেবে ধিকৃত।
ব্যয়ের খাত গুলো ইসলাম নির্দিষ্ট করে দিয়ে দুর্নীতি অবকাশ রূদ্ধ করে দিয়েছে এবং রাষ্ট্রের বদলে ব্যাক্তিকে স্বাবলম্বী করার মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণে বাস্তববাদী ও কার্যকর ফর্মুলা দিয়েছে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা মুফতি ইহজারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ইসলামী অর্থনীতি সেবার মানবিক এজেন্ডার উপর প্রতিষ্ঠিত এবং রাষ্ট্রকে এ সেবা নিশ্চিত করণে কঠিন ভাবে নিয়োজিত করেছে। অন্যদিকে প্রচলিত বাজেট শুভংকর নামের গোজামিলপুর্ণ বিভ্রান্তিকর নয়-ছয় গলদ জাতীয় হিসেব নিকেশ দ্বারা ভরা যার মধ্যমে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি আলাদীনের চেরাগ ছাড়া কিছু নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*