রমজানে আলোকসজ্জা মিসরীয় সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০১ জুন ২০১৭, বৃহস্পতিবার: রমজানে আলোকসজ্জা মিসরীয় সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুধু রাস্তাঘাট নয় বাড়িতে বাড়িতেও বাহারি আলোকসজ্জা করে মিসরীয়রা। দোকান, অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থাকে এই আয়োজন। আর মুসলমানদের পবিত্র মাসের এই আলোকসজ্জার অবিচ্ছেদ্য অংশ বিশেষভাবে নির্মিত একধরনের লণ্ঠন, স্থানীয়দের কাছে যা ফানুস নামে পরিচিত। বছরের পর বছর ধরে মিসরীয়দের কাছে রমজানের আর সব আয়োজনের সাথে এই ফানুস জ্বালানো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মিসরের রাস্তায় হাতে ফানুস দোলাতে দোলাতে শিশুদের রমজানের গান গাওয়ার দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়।
অনেকটা ঝাড়বাতি ধরনের এই ফানুসগুলো তৈরি হয় টিন ও কাচ দিয়ে। বিভিন্ন নকশার জন্য ব্যবহৃত হয় বাহারি রঙ। রমজানের আগে থেকে মিসরের শপিংমল, দোকান এমনকি ফুটপাথেও পসরা সাজিয়ে বসে ফানুস বিক্রেতারা। আকার ও নকশা ভেদে প্রতিটির দাম ৪৫ থেকে ১০০ মিসরীয় পাউন্ড। ছোট একটি ফানুস তৈরি করতে দুই দিন লাগে একজন শিল্পীর, আর বড় ফানুস তৈরিতে লাগে এক সপ্তাহ বা তার চেয়ে বেশি সময়।
ফাওয়ানিস নামে একধরনের বিশেষ লণ্ঠন প্রাচীনকাল থেকেই বেশি জনপ্রিয় মিসরে। এর গায়ে কুরআনের বিভিন্ন বাণী কিংবা ‘স্বাগতম রমজান’ এ-জাতীয় লেখা নকশা করা থাকে। রঙবেরঙের কাপড়ে মোড়ানো থাকে এই ফাওয়ানিস। এই বিশেষভাবে অলঙ্কৃত এই লণ্ঠনের শেকড় জড়িয়ে আছে মিসরের ফাতেমি রাজবংশের সাথে।
রাজধানী কায়রোর পূর্বাঞ্চলীয় নাসর সিটি এলাকার একটি শাপিং মলে মাকে নিয়ে ফানুস কিনতে আসা সালমা ফুয়াদ নামে এক ক্রেতা জানান, তার পরিবারের শিশুরা এমনকি বড়রাও মনে করে ফানুস ছাড়া তাদের রমজানের আনন্দ পূর্ণতা পায় না। সালমা বলেন, ‘আমরা কোনো রমজানেই লণ্ঠন না কিনে থাকতে পারি না’। অবশ্য ফানুসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে তাদের। গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এবারের প্রতিটি ফানুস। দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্রেতাদের মতো ক্ষোভ আছে বিক্রেতাদেরও। কায়রোর সাইয়েদা জয়নব এলাকার নাসের মোস্তফা ১৯৯০ সাল থেকে ফানুস তৈরির সাথে জড়িত। তিনি বলেন, দাম বৃদ্ধির কারণে এবার তিনি ৭০ শতাংশ হ্রাস করেছেন ফানুস উৎপাদন। তৈরির উপকরণগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সম্প্রতি এসব দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফানুসেরও দাম বাড়াতে হয়েছে তাদের। সূত্র : মিডল ইস্ট আই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*