যেভাবে তৈরি হলেন আজকের জেমস

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৮ মে ২০১৭, রবিবার: পুরো নাম ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস। ছোট থেকেই হয়ত বাউন্ডুলেপনা পেয়ে বসেছিল তাকে। উত্তরবঙ্গের এই ছেলে নওগাঁর পত্নীতলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী, সেই সূত্রে ছোটবেলা থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলায় বাবার সাথেই ঘুরে বেড়াতে হতো। বাবা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারমান হলেন আর তাকেও থাকতে হলো চট্টগ্রামে সেখান থেকে মাথায় উঁকি দিল নতুন পাগলামি। আর এই পাগলামিই আজ তাকে বিশ্বের মাঝে তুলে ধরেছে।

সংগীত নিয়ে পাগলামি যথারীতি শুরু হলো। মন কোনোদিকেই নেই সারাদিন হইহুল্লোড়। নাইনে পড়া অবস্থায় তার বাবা যখন বুঝলো ছেলের দ্বারা পড়াশোনা সম্ভব নয় তখন ঘর থেকে তাকে বের করে দেওয়া হলো। ঠাঁই হলো চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিং এ। আর এই আজিজ বোর্ডিং হয়ে ওঠে তার গানের জগত। আজিজ বোর্ডিং জেমসের জীবনে বিশাল স্মৃতিময় রেখা আলোকপাত করে গেছে। যার কারণে জেমস এখনও স্মৃতিকাতর হন তার অতীতের সে সময়কে নিয়ে।

চট্টগ্রামের মায়া ছাড়তেই হয় জেমসকে। সেই মায়া না ছাড়লে জেমস মূলধারায় আসতে পারতেন না। তারকা হওয়ার জন্য জেমস কখনও গান করেননি, মনের তাগিদ থেকেই মিউজিক নিয়ে পড়ে থাকতেন দুষ্টু ছেলের দলের জেমস। সে সময় তিনি ইংরেজি কাভার গানগুলো করতেন। ৮৬ সালে ঢাকায় এসে প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশ করেন। এরপরই আসিফ ইকবালের লেখা ‘অনন্যা’ জেমসের প্রথম একক অ্যালবাম। যেটা বের হয় ১৯৮৭ সালে। যার প্রতিটি গানই অসাধরণ। বিশেষ করে ‘অনন্যা’ কিংবা ‘ওই দূর পাহাড়ে’ গানগুলো বুকের মাঝে সত্যিই কাঁপন জাগায়। তবে এই গান শুনে কারো পক্ষে ধারণা করা সম্ভব হবে না যে গানটি জেমস গাইছেন। তারপর ‘জেল থেকে বলছি’।

জেমসের মিউজিক জীবন শুরু আশির দশকের একেবারে শুরুতে, চট্টগ্রামে। বাবার চাকরিসূত্রে চট্টগ্রামে চলে যান। কিন্তু বাবা যখন ঢাকা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ডিরেক্টর জেনারেল হয়ে চলে আসেন। জেমস থেকে যান চট্টগ্রামে। আজিজ বোর্ডিং এর ‘বারো বাই বারো’র একটি ছোট্ট রুমে চলে সংগ্রামী জীবন। সামনের একটা রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া আর সন্ধ্যায় চলে যেতেন আগ্রাবাদের হোটেলে।

সেখানের নাইটক্লাবে বাজাতেন-গান করতেন। ‘ফিলিংস’ এর ভোকাল ছিলেন আরেক অসাধারণ প্রতিভাধর কণ্ঠের অধিকারী পাবলো। সে সময় ঘর ছাড়া জেমস ও ‘ফিলিংস’ ব্যান্ড যাদের অনুশীলন থেকে শুরু করে থাকা, খাওয়া সব হতো সেই ‘আজিজ বোর্ডিং’ এর এক কামরায়। সেই কামরায় তাঁদের কত বিনিদ্র রাত কেটেছে শুধু গান তৈরির নেশায়।

‘ঝর্না থেকে নদী’, ‘স্টেশন রোড’ অপূর্ব গানগুলোর মাঝে যেখানে জেমস এর নীরব হাহাকার, প্রেমের আকুতি, অন্যায়ের প্রতিবাদ সব কিছু ফুটে উঠেছে। ৯২ সালে জেমস ভালোবেসে মডেল ও অভিনেত্রী রথি কে বিয়ে করেন এবং ২০০১ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায় পরবর্তীকে বেনজীর কে বিয়ে করেন। ‘জেল থেকে বলছি’ নিয়ে আসা জেমস ও ফিলিংস আবার ঝলসানি দিয়ে ওঠে। সেটা ১৯৯৩ সাল। আবার জানান দেন জেমস আছেন।

অডিও বাজারে বড় ধরনের একটা ঝাকুনি দিয়ে ‘জেল থেকে বলছি’ নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের নিকট ভেরিয়েশন ইমেজ তৈরি করে ফেলে। এই সময়টাকে অডিও বাজারের চরম সফল যুগ বলা হয়। সংগীতবোদ্ধারা তাই বলে কেননা একই সাথে শীর্ষ আরো দুই শিল্পীর গান তখন দেশ মাতিয়ে রেখেছে। ‘জেল থেকে বলছি’ এক ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির করুন অনুভূতি ও আর্তনাদ জেমসকে নন মেটালিক আবেগী ধারার গায়ক হিসেবে পরিচিতি পেতে সহায়তা করে। ১৯৯৫ সালে জেমসের দ্বিতীয় একক বের হয়। ‘পালাবে কোথায়’ অ্যালবামের প্রিয় আকাশী গানটি জেমসকে আরো রহস্যময় করে তোলে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: