যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩, গ্রেপ্তার ১

নিউজগার্ডেন ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে ৩ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দেশটির আইডাহো রাজ্যের উওরাঞ্চলীয় শহর মস্কোতে এ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটনা। পুলিশের ধাওয়ায় গুলিবর্ষণকারী ২৯ বছর বয়সী জন লি গাড়িযোগে তীব্র বেগে পালিয়ে যাওয়ার সময়usa দুর্ঘটনায় পড়েন, অতঃপর পু্লেিশর হাতে গ্রেপ্তার হন। স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় স্থানীয় এক ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে জানান, এক বন্দুকধারী স্থানীয় এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দ্ইু ব্যক্তিকে গুলি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, লি এর আগে বাসায় নিজের মাকে গুলি করে হত্যা করে। তারপর গাড়ি চালিয়ে একটি অফিস ভবনে গিয়ে নিজের বাড়িওয়ালাকে গুলি করে হত্যা করেন। এখানে লি’র গুলিতে আরো একজন গুরুতর আহত হন বলে জানিয়েছেন মস্কো পুলিশ প্রধান ডেভিড ডিউক। এরপর স্থানীয় এক রেস্তোরায় গিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করতে চান লি, তারপর ৪৭ বছর বয়সী ওই নারী ম্যানেজারকে গুলি করে হত্যা করেন। রেস্তোরা থেকে বেড়িয়ে গাড়ি যোগে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাঁর পিছু নেয়। পুলিশের তাড়া খেয়ে তীব্র বেগে গাড়ি চালানোর সময় আন্তঃরাজ্যিয় এক মহাসড়কে লি’র গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে, অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এর আগে পার্শ্বর্বর্তী রাজ্য ওয়াশিংটনে পুলিশকে ফাঁকি দেয়ার অপরাধে লি’কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিলো। পরে তাঁকে নিজ রাজ্য আইডাহো’র কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা ডিউক।usa-01 নিহতদের লি’র মা টেরি গ্রজেবিলেস্কি (৬১), বাড়িওয়ালা ডেভিড ট্রেইল (৭৬) এবং রেস্তোরা ম্যানেজার বেলিন্দা নেইবুর (৪৭)। এরা সবাই মস্কো শহরের স্থানীয় বাসিন্দা। সিয়াটলের বাসিন্দা মাইকেল চিন (৩৯) গুলিতে আহত হয়ে মস্কো হাসপাতালে ভর্তি আছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনাটি ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। নিরাপত্তারক্ষীদের পাল্টা গুলিতে আহত বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রয়টার্স জানায়, শুক্রবার বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এ বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ঘটনা অবহিত করা হয়েছে এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ঘটনার দিকে নজর রাখছেন বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গুলিবর্ষণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত যাত্রীদের ছোটাছুটিতে টার্মিনাল জুড়ে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। লাগেজ ও বিভিন্ন আড়ালের আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। পুলিশ চিৎকার করে যাত্রীদের সতর্ক করার পর দ্রুত সবাইকে সরিয়ে নিয়ে টার্মিনালটি খালি করে ফেলে। ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত বিমানগুলোর যাত্রা স্থগিত হয়ে যায় ও ল্যান্ড করতে যাওয়া বিমানগুলোকে অন্য বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেয়া হয়।usa-02 নিরাপত্তারক্ষীরা বিমানবন্দরের বাইরের সড়কটি বন্ধ করে দেয়ায় বিমানবন্দরমুখী রাস্তায় কয়েক কিলোমিটারব্যাপী জ্যাম তৈরি হয়। এক সংবাদ সম্মেলনে লস অ্যাঞ্জেলস বিমানবন্দর পুলিশের প্রধান প্যাট্রিক গ্যানন বলেন, “এক ব্যক্তি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এ এসে ব্যাগ থেকে স্বয়ংক্রিয় একটি রাইফেল বের করে গুলিবর্ষণ শুরু করে।” গুলিবর্ষণরত অবস্থায় বন্দুকধারী নিরাপত্তা তল্লাশি গেট পেরিয়ে টার্মিনালের ফুড কোর্ট অংশের দিকে এগিয়ে যায়। এখানে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা গুলি করে তাকে ফেলে দেয়। আটকের পর তাকে হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। গুলিতে বন্দুকধারী কতোটা আহত হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। গ্যানন জানান, বন্দুকধারী একাই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা তল্লাশির দায়িত্বে নিয়োজিত যানবাহন নিরাপত্তা প্রশাসনের (টিএসএ) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুলিতে তাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন, uযাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে টিএসএ’র নিহত নিরাপত্তা কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এই প্রথম কর্মরত অবস্থায় টিএসএ’র একজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হলেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গুলিবর্ষণকারী বন্দুকধারীকে পল অ্যান্থনি সিনসিয়া বলে শনাক্ত করেছে এফবিআই। ২৩ বছর বয়সী সিনসিয়া লস অ্যাঞ্জেলসের বাসিন্দা। তার শিশুকাল নিউজার্সির পেনেসভিলে কেটেছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম। লস অ্যাঞ্জেলস দমকলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন এবং এদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নি জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে জানানো হয়েছে এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। লস অ্যাঞ্জেলস বিমানবন্দর বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে ৬ষ্ঠ। ২০১২ সালে এই বিমানবন্দর দিয়ে ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ যাওয়া-আসা করেছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: