যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল ও দনিয়া এ কে স্কুল অর্থ ফেরত দেয়নি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, শুক্রবার: এসএসসি পরীক্ষার নিবন্ধনে বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে বাড়তি হিসেবে টাকা ফেরতের বিষয়ে দুদককে দেওয়া লিখিত অঙ্গীকার করেও কথা রাখেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এই তথ্য আর জানেই না দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। দুদককে টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল এমন দুটি স্কুল হলো যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও দনিয়া এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুদক অভিযান চালায় গত ১২ নভেম্বর আর যাত্রাবাড়ী আইডিয়ালে যায় ২০ নভেম্বর। যাত্রাবাড়ী আইডিয়ালে অভিযান চলাকালে বোর্ড নির্ধারিত নিবন্ধন ফির বাইরে ৬৩৭ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ২৫ লাখ টাকা আদায়ের প্রমাণ মেলে। আর দনিয়া এ কে স্কুলে আদায় করা হয় অন্তত ৩০ লাখ টাকা। যাত্রাবাড়ী স্কুল কর্তৃপক্ষ দুদককে লিখিত অঙ্গীকার করে যে এই অতিরিক্ত টাকা তারা ফেরত দেবে অভিভাবকদের। এর জন্য সুনির্দিষ্ট তারিখও দেওয়া হয়। ২৫ ও ২৬ নভেম্বর এই অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা বলে তারা। তবে এই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে কি না, সেটা আর যাচাই করেনি দুদক। আর স্কুল কর্তৃপক্ষও অভিভাবকদের আর ডাকেনি। দনিয়া এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক পরীক্ষার্থী জানায়, নিবন্ধনে তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার ৬০০ টাকা নিয়েছে স্কুল, যদিও নেওয়ার কথা সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা। দুদকের অভিযানের পর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা শুনেছিল গণমাধ্যমে। কিন্তু তাদেরকে স্কুল থেকে আর ডাকা হয়নি। আর তারা হয়রানিতে পড়বে ভেবে নিজেরাও যোগাযোগ করেনি। এই চিত্র সারা দেশের এবং প্রতিবছরের। শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের জন্য যে টাকা বেঁধে দেয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আদায় করে কখনো দ্বিগুণ, কখনো তিন গুণ টাকা। নানা অজুহাতে আদায় করা এই টাকার কোনো রসিদও সাধারণত দেওয়া হয় না। শিক্ষা প্রশাসন বরাবর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিলেও কার্যকর কিছু করতে পারেনি। এমনকি এবার দুদকও মাঠে নেমে পরিস্থিতি পাল্টাতে পারেনি। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের তথ্য জানাতে হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয় দুদক। আর ‘১০৬’ নম্বরে একের পর এক ফোন আসে। ঢাকার যে কয়েকটি স্কুলে অভিযানে যায় দুদক, তার প্রতিটিতেই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ মেলে। প্রতিটি স্কুলই দুদকের কাছে অঙ্গীকার করে এই টাকা তারা ফেরত দিয়ে দেবে। আর প্রতিটি স্কুলই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, তারা স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপর ভরসা করে এ নিয়ে আর খোঁজ-খবর করেননি। তা ছাড়া টাকা যে ফেরত দেওয়া হয়নি, সেই তথ্য অভিভাবক বা অন্য কেউ তাদের আর জানাননি। ১২ নভেম্বর দুদকের হটলাইনে অভিযোগ আসার পর ডেমরার দানিয়া এ কে স্কুলে দুদকের এনফোর্সমেন্ট দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে জানতে পায় বোর্ড নির্ধারিত ফি সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা হলেও এক হাজার ১৩৩ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে তিন হাজার ৮০০ থেকে পাঁচ হাজার ৬০০ টাকা। এই স্কুলের দুই শিক্ষার্থী জানান, দুদকের অভিযানের পর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা না করে তাদেরকে এক মাস বাধ্যতামূলক কোচিং করানো হয়েছে। আর তার ফি হিসেবে এই টাকা দেখানো হয়েছে। কেউ কোচিংয়ে এসেছে কি না, সেটা আর দেখেননি শিক্ষকেরা। আর এ ক্ষেত্রে কারও মতামতের ধারও ধারেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনা ঘটেছে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুলে। সেখানেও বাধ্যতামূলক কোচিং দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা ‘সমন্বয়’ করা হয়েছে। একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, পরীক্ষার পূর্বমুহূর্তে কোনো ধরনের ঝামেলা হয় কি না, তা নিয়ে শঙ্কা থেকে তাদের বাবা-মা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিবাদে যাননি। মতিঝিল মডেল হাইস্কুল, উদ্দীপন আইডিয়াল স্কুল, মেট্রোপলিটন স্কুল, শেরেবাংলা আইডিয়ালসহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও জানিয়েছে একই ধরনের তথ্য। দুদক এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযানে যায়নি। তবে অন্য স্কুলে অভিযানের পর অতিরিক্ত টাকা সমন্বয়ের কথা বলে পরীক্ষার্থীদের কোচিং করানো হয়েছে। লিখিত অঙ্গীকার করেও টাকা ফেরত দেননি কেনÑ এমন প্রশ্নে দনিয়া এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুল হক অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা বেমালুম অস্বীকার করে বসেন। ঢাকা টাইমসের কাছে তিনি দাবি করেন, ‘আমার স্কুলে দুদক অভিযান চালিয়েছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের থেকে বোর্ড ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়নি। আর দুদকেরও এ ধরনের কোনো নির্দেশও ছিল না। শিক্ষার্থীদের থেকে ফরম পূরণের ফি ছাড়াও কোচিং, মডেল টেস্ট, শিক্ষককল্যাণ তহবিলে টাকা নেওয়া হয়েছে। যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের টেলিফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার ভঙ্গের বিষয়ে জানতে চাইলে দুুদকের মহাপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মুনীর চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা অভিযান করেছি অভিযোগের ভিত্তিতে। বলে এসেছি টাকা ফেরত দিতে। কিন্তু আমাদের পরে অভিভাবকেরা জানাননি যে তারা টাকা ফেরত পাননি।’ তাহলে এমন অভিযান দিয়ে কী হবে প্রশ্নে দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনার কাছ থেকে তথ্য পেলাম। যেসব স্কুলে অতিরিক্ত টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: