মোস্তাফিজ ৬ ওভার হাত ঘুরিয়ে রান দিয়েছেন ৫৩

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ জুন ২০১৭, শুক্রবার: ভারতের বিপক্ষেই রীতিমতো ঘোর লাগিয়ে ওয়ানডেতে নিজের আগমন ঘোষণা করেছিলেন। ২০১৫ সালে ঘরের মাঠের সিরিজে প্রথম ওয়ানডেতেই ৫ উইকেট, পরের ম্যাচে ৬টি। তিন ম্যাচের সিরিজে ১৩ উইকেট! ম্যান অব দ্য সিরিজ। কিন্তু কাল চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে যেন খেলল মোস্তাফিজুর রহমানের ছায়া। ৬ ওভার হাত ঘুরিয়ে রান দিয়েছেন ৫৩, উইকেট নেই একটিও! কী নির্বিষ! কোথায় হারালেন সেই মোস্তাফিজ? মায়াবী কাটার আর জাদুকরি স্লোয়ার কোথায়?
কালকের ম্যাচ থেকে একটু পেছনে চোখ ফেরানো যাক। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে সব মিলিয়ে ৩৯ ওভার বোলিং করে মোস্তাফিজের উইকেট মাত্র ২টি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ৪ ম্যাচে ২৯ ওভারে ১টি! ডাবলিনে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ যা একটু পাওয়া গিয়েছিল তাঁকে (২৩ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট)। উইকেট না পাওয়া নয়, মোস্তাফিজের বোলিংয়ে ‘ফিজ-ফ্যাক্টর’ না থাকাটাই এখন চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিচ্ছে বাংলাদেশের সমর্থকদের কপালে।
আসলে মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে মাশরাফি বিন মুর্তজার কথাটাই সত্যি হয়ে দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক আগেই বলেছিলেন, ভারতের বিপক্ষে অভিষেক সিরিজে যে মোস্তাফিজকে দেখা গেছে, সেটি ছিল অস্বাভাবিক। মোস্তাফিজের বোলিংয়ে তখন প্রতিভার স্ফুরণ ছিল, ছিল প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার ক্ষমতা। মোস্তাফিজের প্রতিভা নিয়ে সংশয় না থাকলেও মাশরাফির দৃষ্টিতে, এখনই আসল পরীক্ষা দিতে হবে তাঁকে। এই দুই বছরে প্রতিপক্ষ দলগুলোর ল্যাপটপে তো আর তাঁর বোলিং নিয়ে কম গবেষণা হয়নি!
আরেকটি কারণ অবশ্যই কন্ডিশন, উপমহাদেশের সঙ্গে ইংল্যান্ডের পিচের পার্থক্য। মোস্তাফিজকে নিয়ে একটা ধারণা সব সময়ই ছিল, উপমহাদেশের পিচে তাঁর বোলিং যতটা কার্যকর, ততটা হয়তো উপমহাদেশের বাইরে হবে না। উপমহাদেশে তাঁর কাটার-স্লোয়ার হয়ে ওঠে বেশি ভয়ংকর। কিন্তু উপমহাদেশের বাইরে যে তা নয়, সেটি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বেশ ভালোভাবেই প্রমাণিত। পরিসংখ্যানও কিছুটা সাক্ষ্য দেয় এসবের। এশিয়ায় এ নিয়ে ১২ ম্যাচে ১০১.৩ ওভার করে ৩২ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। আর এশিয়ার বাইরে? ১০ ম্যাচে ৭৬.২ ওভারে ১২ উইকেট!
মোস্তাফিজের জন্য তাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ফাঁকি দিতে নতুন কিছু খোঁজা। প্রতিপক্ষ তাঁকে পড়ার চেষ্টা করছে প্রতিনিয়ত, সেটিকে টেক্কা দেওয়ার মতো কৌশল শেখা। সেটাই হয়তো পারবে মোস্তাফিজের বিধ্বংসী চেহারাটা ফিরিয়ে আনতে। তবে এটাও ঠিক, বাঁ কাঁধের চোটের অস্ত্রোপচারের ধাক্কা এত সহজেই কাটিয়ে ওঠার কথা নয় মোস্তাফিজের। ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার তো আর ‘সুপারম্যান’ নন। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও তাঁর ওপর থেকে এত সহজেই আস্থা হারাচ্ছেন না। তাঁর চোখে,‘মোস্তাফিজ বয়সের তুলনায় খুব বুদ্ধিদীপ্ত বোলার। ও ঠিকই ফিরে আসবে।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: