মোবাইল রিংটোনে ‘জাতীয় সংগীত’ ব্যবহার অবৈধ ঘোষণা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : জাতীয় সংগীতকে বাণিজ্যিকভাবে মোবাইল ফোনের রিংটোন হিসেবে ব্যবহার অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। Courtসোমবার দুপুরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের দায়ের করা আপিলের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ও বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এই রায়ের ফলে মোবাইল ফোনের রিংটোন হিসেবে জাতীয় সংগীত ব্যবহার নিষিদ্ধই থাকল। তবে এ বিষয়ে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও একটেল (পরবর্তীতে রবি) ফোন কোম্পানিকে ৫০ লাখ করে টাকা করে হাইকোর্টের জরিমানা কমিয়ে ৩০ লাখ টাকা জমা দিতে বলেছে আদালত। এর আগে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, গ্রামীণফোন তাদের অনুদানের টাকা লিভার ইনস্টিটিউড, বাংলালিংক মোবাইল ফোন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউড অব কিডনি ডিজিজ অ্যান্ড হসপিটাল ও রবি জমা দেবে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালে জমা দেবে। ২০০৬ সালে জাতীয় সংগীতকে রিংটোন, ওয়েলকাম টিউন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কালিপদ মৃধা হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন। রিট আবেদনে তার যুক্তি ছিল, সংবিধানের ৪ অনুচ্ছেদে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীক সংরক্ষণের কথা বলা আছে। এছাড়া ১৯৭৮ সালের জাতীয় সংগীত বিধানে ২০টি ক্ষেত্রে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মোবাইল ফোনের রিংটোন হিসেবে জাতীয় সংগীত ব্যবহার সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী। তার আবেদনের ওপর শুনানি করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১০ সালের ৫ আগস্ট মোবাইল ফোনে রিংটোন ও ওয়েলকাম টিউন হিসেবে জাতীয় সংগীতের ব্যবহার অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করেন। ওই রিট আবেদনে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের পাশাপাশি মোবাইল অপারেটর রবিও বিবাদী হিসাবে ছিল। তাদেরও ৫০ লাখ টাকা দাতব্য অনুদান দিতে বলা হয়েছিল। রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মাসুদ আহমেদ সাঈদ জানান, হাইকোর্টের শুনানিতে মোবাইল কোম্পানিগুলোর পক্ষে কোনো আইনজীবী না আসায় বিচারক ওই দাতব্য অনুদান দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। গ্রামীণ ফোন ও বাংলালিংক হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন করলেও সোমবার সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তা খারিজ হয়ে গেল। সূত্র : শীর্ষ নিউজ

Leave a Reply

%d bloggers like this: