মেরিন ফিশারিজ একাডেমির গ্র্যাজুয়েট ক্যাডেটদের সিডিসি প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ ফেব্র“য়ারী: মেরিন ফিশারিজ একাডেমি এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে আজ ১৩ ফেব্র“য়ারি বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মেরিন ফিশারিশ একাডেমির গ্রাজুয়েট ক্যাডেটদের সিডিসি/ সীম্যান বুক প্রদানের দাবিতে এক Marine Fisheries Academy Ex-Cadet Association News & Photo-13-02-2016মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মেরিন একাডেমির এক্সক্যাডেট এসোসিয়েশনের মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন বিরোধী মানববন্ধনের তীব্র প্রতিবাদ জানান মেরিন ফিশারিজ একাডেমি এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশন। মেরিন ফিশারিজ একাডেমি ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে তৎকালীন মৎস্য মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাদ’র তত্ত্বাবধানে সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকারের সহায়তায় চট্টগ্রামের ঈছানগর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫ এর পূর্বে এই একাডেমী হতে পাশ করার ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনই স্কলারশীপ নিয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য রাশিয়া যায়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক চক্রান্তে এই প্রতিষ্ঠান কখনো মেরিন একাডেমির অধীনে, কখনো শিপিং মন্ত্রণালয়ের অধীনে, কখনো বিএফডিসির অধীনে আবার কখনো ফিশারিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে হাত বদল হতে থাকে। বর্তমান প্রিন্সিপাল ক্যাপ্টেন মাসুক হাসান আহমেদ ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সৎ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ক্যাডেটদের সিডিসি প্রদান প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছিল। মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটদের সিডিসি প্রদান প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপ প্রচার চালাচ্ছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মেরিন একাডেমি এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশন দাবিগুলো হল মেরিন ফিশারীজ একাডেমির ক্যাডেটদেরকে STCW-F এর সিলেবাস অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় যা সম্পূর্ণ অসত্য এবং ভিত্তিহীন। কারণ মেরিন একাডেমি ও মেরিন ফিশারিজ একাডেমির সিলেবাস STCW-10 অনুযায়ী সম্পূর্ণ এক ও অভিন্ন। মেরিন একাডেমির দাবি হচ্ছে মেরিন ফিশারীজ একাডেমির গ্র্যাজুয়েট ক্যাডেটরদেরকে সিডিসি/ সীম্যান বুক প্রদান করলে বাংলাদেশ IMO White list থেকে বাদ যাবে যা সম্পর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন। প্রত্যেক বছর বহিঃ বিশ্বের বিভিন্ন জাহাজ কোম্পানি ক্যাডেটদের নিয়োগের চাহিদা পত্র পাঠালেও ক্যাডেটদের সিডিসি/ সীম্যান বুক না থাকায় তারা ঐসব চাকুরিতে যোগদান করতে পারছে না। যা আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য বিরাট ঝুঁকি এবং বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন ILO, IMO, ITF কর্তৃক নির্দেশনা রয়েছে যে সকল Seafarers দেরকে সমুদ্রগামি দেশি বিদেশি যেকোন জাহাজে যোগদানের পূর্বে অবশ্যই সিডিসি/ সীম্যান বুক ইস্যু করতে হবে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর শুধুমাত্র মেরিন ফিশারীজ একাডেমির পাশকৃত গ্র্যাজুয়েট Seafarers ব্যতিত অন্যান্য সকল মেরিটাইম প্রতিষ্ঠান হতে পাশকৃত নন গ্র্যাজুয়েট ক্যাডেটদেরকে বিশেষ বিবেচনায় সিডিসি প্রদান করছে। যা সম্পূর্ণ বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অর্ডিনেন্স ১৯৮৩ এর ১০৭ নং ও বাংলাদেশ সংবিধানের নাগরিক অধিকার ১৯(১) ধারা পরিপন্থি। এতে বক্তারা মেরিন ফিশারিজ একাডেমির সিডিসি প্রদান সমস্যা সমাধানে সরকার ও প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান নতুবা আন্দোলন আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়ার ঘোষণা প্রদান করা হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মেরিন ফিশারিজ একাডেমি এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশন সভাপতি সামছুল ইসলাম রাশেদী, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ইসলাম আহমদ, সি. সহ-সভাপতি আলমগীর কামাল, প্রচার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, চীফ ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল করিম, মো. জসিম উদ্দিন, মনির আহমদ, বিভাষ ভট্টাচার্য্য, শ্রীবাস সাহা, চীফ ইঞ্জিনিয়ার এরশাদুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মো. সাজ্জাদ হোসেন, চীফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফ চৌধুরীসহ মেরিন ফিশারিজ একাডেমির এক্স ক্যাডেটবৃন্দ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: