মেন্টাল হেলথ এডভোকেসি এসোসিয়েশনের মতবিনিময়

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় অধিপরামর্শমূলক সংস্থা মেন্টাল হেলথ এডভোকেসি এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নগরীর হোটেল তাইওয়া-তে খসড়া বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য আইন এর উপর মতামত ও সুপারিশ প্রদানের জন্য এক এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক শরীফ চৌহান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন রফিক উদ্দিন, প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ এর সভাপতি ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী30.12.14-health, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও উৎস’র নির্বাহি সদস্য ড. শিরীণ আখতার, বর্ণালীর চেয়ারম্যান সরোজ কান্তি দাশ, উৎস’র নির্বাহি সদস্য আহমদ কবীর, ফিরোজশাহ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, হাজী আব্দুল আলী সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোমা বড়–য়া। এছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন কবীর সুমন, অ্যাডভোকেট মুসলিমা ইসলাম, অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন খান জুবায়ের ও ট্রান্স এশিয়া কমিউনিটি এন্ড ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ এর সদস্য মাহবুব আরা আকতার। উৎস’র প্রকল্প ব্যাবস্থাপক মুহাম্মদ শাহ্ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন রীপা পালিত। ধারণাপত্রে তুলে ধরা হয়, আমাদের দেশে প্রতিদিন অনেক ব্যক্তি কোন না কোন ভাবে তাদের অধিকার, মর্যাদা এবং সামাজিক জীবনযাপনে নানা ভাবে বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন দুর্ঘটনা, পারিবারিক কলহ বা নির্যাতন এবং সামাজিক বিভিন্ন কুসংস্কারের কারণে ব্যক্তির মধ্যে নানা ধরনের মানসিক চাপ, পোষ্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা বা ফোবিয়া জনিত বিভিন্ন মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। যেমন: প্রাকৃাতক দুর্যোগ, মানবসৃষ্ট দুর্যোগ, পারিবারিক সহিংসতা, যৌন নির্যাতন ইত্যাদি। ফলে যে কোন ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন বাধাগ্রস্থ হয়। শুরুতে যদি এই ধরনের ব্যক্তির পরিচর্যা করা না হয়। অর্থাৎ সাইকোথেরাপি এবং কাউন্সেলিং, অল্টারনেটিভ সাইকোথেরাপির মত বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করা না হয় তাহলে ঐ ব্যক্তি মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিতে পরিণত হতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি করা খসড়া বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য আইনে ভূক্তভোগী ব্যক্তির সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত পুরোপুরি করা হয়নি এবং তা জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদের আলোকে করা হয়নি। উপস্থিত বক্তাদের অভিমত ও আলোচকদের আলোচনা থেকে বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য আইনকে একটি সুরক্ষা ও অধিকারভিত্তিক জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অধিকার আইন হিসেবে প্রণয়ন করার জন্য কিছু সুন্নিদ্দির্ষ্ট প্রস্তাব ও সুপারিশমালা গৃহিত হয়। তার মধ্যে উলে¬খযোগ্য হচ্ছে, টঘঈজচউ -এর আলোকে প্রস্তাবিত অধিকারসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন; খসড়া মানসিক স্বাস্থ্য আইন-এ “মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধী” না উলে¬খ করে “মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি” উলে¬খ করা; পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াপূর্ণ ঔষধ থেরাপির পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন মনোদৈহিক ও সৃজনশীল থেরাপি খসড়া মানসিক স্বাস্থ্য আইন-এ অর্ন্তভুক্তি; জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ গঠন-এ অভিজ্ঞ মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে অর্ন্তভুক্তি করা; জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ গঠন-এ সৃজনশীল মনোচিকিৎসা তথা অলটারনেটিভ সাইকোথেরাপি প্রদানে দক্ষ মনোবিশে¬ষক নাট্যবিজ্ঞানীর অর্ন্তভুক্তি; মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাইকিয়াট্রিষ্টগণ ছাড়াও অন্যান্য পেশাজীবি সাইকোথেরাপিষ্ট, কাউন্সিলর এবং অল্টারনেটিভ থেরাপিষ্টদেরকে দায়িত্ব প্রদান করা; খসড়া মানসিক স্বাস্থ্য আইন-এ আত্মহনন করার চেষ্টাকারীকে মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তি মওকুফ করা; মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিগণ কোথায় ও কাদের সাথে বসবাস করবে তাদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া; বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মকর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা করা এবং তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান দক্ষতা বাড়ানোর উপর জোর প্রদান;  আগামী দিনের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলর/সাইকোথেরাপিষ্ট নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: