মেনোপজ সমস্যা সমাধানে হরমোন থেরাপি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১ নভেম্বর: বয়স ৪৫ থেকে ৫৫ এই বয়সের নারীদের শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। খিটখিটে মেজাজ, অবসাদ, ক্লান্তি যেন এই বয়সী নারীদের নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। আর এর মূল কারণ এই বয়সেই সাধারণ জীবনের দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করে ‘মেনোপজ’ বা রজঃনিবৃত্তি। মেনোপজ কোন অসুখ নয় বরং এটি একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। menopause women therapyনারীদের মেনোপজের পরে শরীরে ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। তার জেরে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও হয় অনেকের। হরমোন থেরাপির মাধ্যমে দেহে হরমোনের সরবরাহ বজায় রাখা এবং ফের ঋতুস্রাব চালু করা সম্ভব। আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাকটিভ মেডিসিনের গবেষকদের এক গবেষণায় বিষয়টি উঠে এসেছে। দুধরনের নারীদের ওপরে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা টানা ১৪ বছর সমীক্ষা চালিয়েছেন। এক দল, যারা মেনোপজের পরে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি করেছেন আর অন্য দল, যারা সেটা করেননি। প্রতি বছর নিয়ম করে এদের শরীরে যাবতীয় পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যারা ওই থেরাপি করিয়েছেন তাদের শারীরিক অবস্থা অন্য দলের চেয়ে খারাপ নয়। বরং মেনোপজ পরবর্তী জটিলতাগুলোকে এরা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন সহজেই। যারা হরমোন থেরাপির বিপক্ষে মত দেন তাদের যুক্তি, এর জেরে হার্টের সমস্যা, স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে। যদিও এই গবেষক দলের সদস্যরা সেই আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা জানায়, মেনোপজের পর মেয়েদের শরীরে যখন ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি দেখা যায়, তখন প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১৫ জনের কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। এগুলো হল অস্বাভাবিক গরম লাগা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মাথা ব্যথা, ঘন ঘন মুড বদলানো, খিটখিটে মেজাজ, মূত্রনালীতে জ্বালা, যোনি শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। শুরু হতে পারে গভীর অবসাদও। এছাড়াও অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হন অনেকে। এর প্রতিকারের জন্যই হরমোন থেরাপির আবিষ্কার হয়েছিল। যাদের কোনও অস্ত্রোপচারে ডিম্বাশয় বাদ দেওয়া হয়, তাদের ক্ষেত্রেও হরমোন থেরাপি জরুরি বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। ৬০’র দশকে বিশ্বে প্রথম হরমোন থেরাপি শুরু হয়েছিল। ৮০’র দশক নাগাদ এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও সামনে আসে। ৯০’র দশকে বিতর্ক কিছুটা কমে গেলেও ২০০৩ সাল নাগাদ দুটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় হরমোন থেরাপির বেশ কিছু ঝুঁকির প্রসঙ্গ উস্কে দেয় চিকিৎসকদের মনে। তাতে ক্যান্সারের ঝুঁকির কথাও ছিল। মাসিক শেষ হবার এক বছর পর সাধারণত মেনোপজের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন: অনিয়মিত মাসিক, অনুর্বরতা, যোনিপথ শুষ্ক থাকা, অতিরিক্ত গরম লাগা, অনিদ্রা বা ঘুমে ব্যাঘাত, মেজাজ উঠা-নামা করা, মেদ বৃদ্ধি পাওয়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, স্তন ছোট হয়ে যাওয়া। সূত্র: ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*