মুর্তজার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সিরিজ ১-১ সমতা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : অক্টোবর ১০, ২০১৬
বিপজ্জনক জস বাটলার এলবিডব্লু। বোলার তাসকিন আহমেদকে ঘিরে সতীর্থদের উচ্ছ্বাস। কাল মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের এই উচ্ছ্বাস ছিল ম্যাচ শেষেও ষ শামসুল হকঘুরেফিরে তিনটি প্রসঙ্গ। মাশরাফি বিন মুর্তজার অলরাউন্ড পারফরম্যান্স, নাসির হোসেনের প্রত্যাবর্তন এবং তাসকিন আহমেদের দ্বিতীয় স্পেল। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে উত্তরদাতা যেহেতু মাশরাফি নিজেই, নিজের কথা কম বলাটাই স্বাভাবিক। তবে বাকি দুজনকে ভাসিয়েছেন প্রশংসার বন্যায়।ce187cdec56c8fb1a5ff891b09179a44-1
তাসকিনের সেই স্পেল: পাঁচ ওভারের দ্বিতীয় স্পেলে মাত্র ১৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে শেষ পর্যন্ত তাসকিনই ম্যাচ থেকে ইংল্যান্ডকে ছিটকে দিয়েছেন। ওই সময় তাসকিনের হাতে বল তুলে দেওয়া প্রসঙ্গে অধিনায়ক বলেছেন, ‘মুশফিক আর সাকিবের সঙ্গে আলোচনা করে আমি তাসকিনকেই তখন বল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ও আমাদের নিয়মিত বোলার, বলে পেসও আছে। সে জন্যই তার ওপর আস্থা রাখি। তাসকিনও অসাধারণ বল করায় ম্যাচটা আমাদের হাতে চলে আসে।’ মাশরাফির দৃষ্টিতে তাসকিন কাল তাঁর সেরা ছন্দে ছিলেন, ‘দলের ওই সময় যা দরকার ছিল, সেটাই সে করেছে। ওই সময় সে ওই উইকেটগুলো না নিলে ম্যাচ জেতা কঠিন ছিল।’
নাসিরের ফেরা: অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে কাল দলে ফিরেছেন নাসির। গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়ে মাশরাফিকে দারুণ সংগত দিয়ে ২৭ বলে করেছেন অপরাজিত ২৭ রান। পরে অফ স্পিনে ১ উইকেট নিয়েছেন ১০ ওভারে মাত্র ২৯ রান দিয়ে। মাশরাফির চোখে নাসিরের এই পারফরম্যান্সও কালকের জন্য তাঁর কাছ থেকে সেরা প্রাপ্তি, ‘খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। ওর ৫০ ওভার পর্যন্ত থাকা দরকার ছিল এবং সে তা-ই করেছে। বোলিংও হয়েছে অসাধারণ। প্রায় এক বছর পর দলে ফেরা একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা কঠিন।’
মাশরাফির ব্যাটিং, মাশরাফির বোলিং: নিজের ব্যাপারে একটা কথা স্বীকার করেছেন মাশরাফি। কাল যে ব্যাটিংটা করেছেন, সেটাই আসলে তাঁর ব্যাটিং, ‘আমি মনে করি আমার জন্য এই ব্যাটিংটাই ঠিক আছে। এর আগে রক্ষণাত্মক খেলে উইকেটে থাকার চেষ্টা করে দেখেছি। কিন্তু হচ্ছিল না। আজ (গতকাল) তাই ভাবলাম যেয়েই মারি।’
মাশরাফির ওই মারকুটে ব্যাটিংয়েই শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো জায়গায় যেতে পেরেছে বাংলাদেশের স্কোর। পরে বল হাতেও শুরুতেই দিয়েছেন ইংল্যান্ড দলের কোমরটা ভেঙে। তবে নতুন বল হাতে শুরুতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ অনুভব করছিলেন তিনিও, ‘মোস্তাফিজ নেই, তাই নতুন বলে বল করতে হচ্ছে। মোস্তাফিজ নতুন বলে উইকেট পেত। সেদিক দিয়ে আমার জন্য এটা চ্যালেঞ্জিং ছিল।’ এই সাফল্যে নিজের ফিটনেসেরও একটা প্রভাব দেখছেন অধিনায়ক। তবে ম্যান অব দ্য ম্যাচ প্রসঙ্গে বড় বিনয়ী তিনি, ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ যে-কেউ হতে পারে। ম্যাচ জিতেছি সেটাই আসল।’
এবং জয়: সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের কাছে গিয়েও বেমক্কা ভেঙে পড়েছিল বাংলাদেশ দল। কাল সেটা হয়নি। মাশরাফির চোখে ২৩৮ রান করেও ম্যাচ জিততে পারার বড় কারণ ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরুটা নাড়িয়ে দিতে পারা, ‘আমরা দ্রুত উইকেট ফেলতে পেরেছি, এটাই বড় কারণ। দ্রুত উইকেট নিলে যেকোনো দলকে চাপে ফেলা যায়। এর আগেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটা ম্যাচে আমরা ২৩৬ করে জিতেছি। সে ম্যাচেও আমরা শুরুতেই উইকেট নিতে পেরেছিলাম।’
অথচ কাল ম্যাচের আগেও মাশরাফি দলটাকে বিমর্ষ দেখেছেন। আগের ম্যাচে জয় হাতছাড়া হওয়ার হতাশা যেন কাটিয়ে উঠতে পারেনি কেউ। সেটার প্রভাবেই ব্যাটিং কিছুটা খারাপ হয়ে থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে মাশরাফির। কিন্তু ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরুতেই আঘাত আনার পর বদলে যেতে থাকে দলের চেহারা। শেষ দৃশ্যে সেই দলটিই উদ্ভাসিত বিজয়ে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: