“মুক্তিযুদ্ধ-১৯৭১” দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর অবদান”

মোঃ উসমান গনি, হাটহাজারী, ২৬ মার্চ ২০১৯ ইংরেজী, মঙ্গলবার: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাংলার ঘুমন্ত নিরীহ মানুষের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে হত্যাকান্ড চালানো শুরু করে ৷ তৎকালিন পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসির এক পর্যায়ে সন্ত্রাসী হামলায় কাবু করার চেষ্টা করে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী ৷ নারী-পুরুষ, শিশু-বুড়ো, আলেম-উলামা, ইমাম-খতিব, শিক্ষকছাত্র,ব্যবসায়ী-কর্মচারী ঐক্যবদ্ধ ভাবে অন্যায়ের প্রতিরোধে বঙ্গবন্ধু প্রতিনিধি মেজর জিয়াউর রহমানের চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের স্বাধীনতার ঘোশনায় ঝাপিয়ে পড়ে ৷ শুরু হয় সারা বাংলা জুড়ে কঠিণ-যুদ্ধ ৷ স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে মুক্তির জয়রথী সারা বাংলায় অবিশ্বাস্য সফলতা পায় ৷৷
স্বাধীনতার আনন্দই আলাদা ৷ ইংরেজদের ২০০ বছরের পরাধীনতার পর আবারও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক কর্তৃক আবদ্ধতা পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের মানুষ মেনে নিতে পারেনি ৷ চাপিয়ে দেয়া শোষণ-নীতির প্রতিবাদ ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু ৷ ৯মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ বাংলাদেশীর আত্ম-ত্যাগে অর্জিত হয় লাল সবুজের সোনার স্বাধীন বাংলাদেশ ৷
এই মহান মুক্তির লড়াইয়ে শরীক হয় বাংলার দেওবন্দ খ্যাত “দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী ” -ও ৷ তৎকালিন জামিয়ার মহা পরিচালক , হাকিমুন নফস আল্লামা শাহ্ আব্দুল ওহহাব রহঃ জামিয়ার শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ মতামতের ভিত্তিতে “জামিয়ার শাহী গেইটে ” একটি জরুরী বিজ্ঞপ্তি ‘ লাগানোর নির্দেশ দেয় ৷ যার সারমর্ম হল “স্বাধীনতাকামী-মুক্তিকামী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ বিরুদ্ধাচারণ-কারীর এই জামিয়ায় ভর্তির কোন সুযোগ নেই ৷ যদি প্রমাণিত হয় সাথে সাথে বহিষ্কার ৷ ”
জামিয়ার শাহী গেইটে এই নোটিশ লাগানো মাত্র দ্রুত এই সংবাদ সারা বাংলার মাদরাসা সমূহে পৌঁছে যায় ৷ সকল মাদরাসা উক্ত নোটিশ নিজেদের মাদরাসায় জারি করে ৷ ফলে উম্মুল মাদারিসের অনুগত্য করে সকলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে চলে আসে ৷ দোয়া করে ও সামর্থ অনুসারে সহযোগিতা করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় ৷
এই নোটিশ মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত শাহী গেইটে টাগানো ছিল ৷
এই নোটিশই প্রমাণ করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জামিয়ার অবদান ৷
যা ধর্ম-প্রাণ সকল নারী-পুরুষকে
মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণে বিশেষ ভূমিকা রাখে ৷
তথ্যসূত্র : আল্লামা নূর মুহাম্মদ দাঃ বাঃ, খলিফা – হাকিমুন নফস আল্লামা শাহ্ আব্দুল ওহহাব রহঃ, সাবেক সিনিয়র শিক্ষক – হাটহাজারী মাদরাসা ও সিনিয়র পেশ ইমাম – শাহ্ ওলি উল্লাহ্ জামে মসজিদ, টেকনিক্যাল, ২ নং গেইট, চট্টগ্রাম মহানগর ৷
সংকলক : শাহ্ তকি উদ্দিন মুহাম্মদ আজিজ ৷

Leave a Reply

%d bloggers like this: