মিয়ানমারের ইতিহাসে রোহিঙ্গা শব্দটি কখনো ব্যবহৃত হয়নি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার, ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড তো চলছেই। তদুপরি তারা কখনো মিয়ানমারের অধিবাসী ছিল না, এমনটা প্রমাণ করার জন্য গবেষণা প্রবন্ধ রচনার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ধর্ম ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সরকার পক্ষের দাবি, একটা মহল রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা করছে এবং মিয়ানমারের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এ প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে গবেষণাধর্মী বই লিখবে ধর্ম ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত সোমবার দিনশেষে কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দেয়। মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মিয়ানমারের সত্যিকার ইতিহাস নিয়ে একটি বই প্রকাশ করতে যাচ্ছি। প্রকৃত সত্য হলো মিয়ানমারের ইতিহাসে রোহিঙ্গা শব্দটি কখনো ব্যবহৃত হয়নি কিংবা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী বা জাতি হিসেবে কখনো তাদের অস্তিত্ব ছিল না। ’ কর্তৃপক্ষের দাবি, ১৯৪৮ সালে এক বাঙালি পার্লামেন্ট সদস্য সর্বপ্রথম রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেন। মিয়ানমারের বিগত জান্তা সরকার নৃগোষ্ঠী হিসেবে রোহিঙ্গাদের ওপর থেকে স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে নেয়। ১৯৮২ সালে তাদের প্রণীত এক আইনে বলা হয়েছিল, ১৮২৪-২৬ সালে ইঙ্গো-বার্মিজ যুদ্ধের আগে থেকে যেসব সংখ্যালঘু মিয়ানমারে বাস করছে, তারাই কেবল স্বীকৃতি পাবে। প্রচন্ড নিগৃহীত রোহিঙ্গারা ২০১২ সালে রাখাইনে ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় এক লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে বর্তমানে অস্থায়ী শিবিরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। গত অক্টোবরে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশ নিহতের জেরে তাদের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে স্বয়ং নিরাপত্তা বাহিনী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারি উপদেষ্টা অং সান সু চি তাঁর সরকারকে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করতে বারণ করায় বিতর্ক আরো উসকে উঠেছে। অবশেষে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করে নতুন ইতিহাস লেখার ঘোষণাও এলো। সূত্র : এএফপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*