মিশরে টক শো নিয়ে মহাবিপাকে টিভি কর্তৃপক্ষ!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৮ ফেব্র“য়ারী: মিশরের এক টিভি টক-শো অনুষ্ঠান নিয়ে মহা বিপদে পড়েছে দেশটির টেলিভিশনের কর্তাব্যক্তিরা। ওই টক-শোদর একজন অতিথি আলোচনার মধ্যে হঠাৎ করেই মন্তব্য করে বসে যে মিশরের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ নারী পরকীয়ায় জড়িত। এ নিয়ে সারা দেশে এতটাই হৈচৈ শুরু হয় যে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটিকে ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখে।extra-marital
এক গবেষণায় দেখা গেছে, পশ্চিমা বিশ্বে পুরুষরাই পরকীয়ায় বেশি ঝোঁকে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাসহীনতার বৈজ্ঞানিক পরিমাপ করা কঠিন। কারণ, প্রায় সব দেশেই পরকীয়া সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য আচরণ। কোন কোন দেশে একে রীতিমতো অপরাধ বলেই মনে করা হয়।
ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রে চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, স্বামীরা স্ত্রীদের চেয়ে বেশি পরকীয়া করেন। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৬ সালে সামাজিক এক জরিপে দেখা যায়, বিবাহিতদের মধ্যে স্ত্রীকে লুকিয়ে অন্য নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে মিলিত হয়েছেন এমন পুরুষের সংখ্যা নারীদের চেয়ে দ্বিগুণ।
ব্রিটেনে ২০০০ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, একই সঙ্গে একাধিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন ১৫ শতাংশ পুরুষের। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল নয় শতাংশ।
ফ্রান্সের ইন্সটিটিউট অফ পাবলিক ওপিনিয়নের জনমত জরিপ জানায়, অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ প্রায় ৫৫ শতাংশ ফরাসী এবং ইতালিয়ান পুরুষ জীবনের কোন এক সময় জীবনসঙ্গীকে ঠকিয়ে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কে করেছেন। অপরদিকে ৩৪ শতাংশ ইতালিয়ান এবং ৩২ শতাংশ ফরাসি নারী একইভাবে পরকীয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

মানুষের যৌন আচরণ সম্পর্কে জানতে কনডম প্রস্তুতকারী কোম্পানি ডিউরেক্স ২০০৫ সালে এক জনমত জরিপ চালায়। এই জরিপে ৪১টি দেশে মোট তিন লাখ ১৭ হাজার মানুষের মতামত নেয়া হয়।
এই জরিপ থেকে জানা যাচ্ছে, পরকীয়ার কথা স্বীকার করে এমন পুরুষের সংখ্যা তুরস্কে বেশি। অন্যদিকে ইসরাইলি পুরুষরা পরকীয়ার কথা স্বীকার করতে একবারেই নারাজ।
ব্রিটিশদের যৌনতা এবং জীবনযাপন পদ্ধতির ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার নাম ন্যাটসা। এর প্রধান বিশ্লেষক ড. ক্যাথরিন মার্সার বলেন, পুরুষদের তুলনায় নারীরা অবশ্য পরকীয়ার কথা স্বীকার করেন কম। যৌন আচরণের প্রশ্নে নারীদের প্রকাশ যে ভিন্ন সে কারণেই এমনটা হয় বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন। নিজের স্বামীকে লুকিয়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে প্রেম করেছেন, একথা তারা মোটেই প্রকাশ করতে চান না।
যৌন সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়সও একটা বড় ভূমিকা পালন করে বলে তিনি জানান। ক্যাথরিন আরও বলেন, ‘গড়পড়তা পুরুষরা তাদের চেয়ে কম বয়সী মেয়েদের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়। ধরে নিন, যে পুরুষ তার চেয়ে কম বয়সী অবিবাহিত নারীর সঙ্গে সম্পর্ক করছে, সে কিন্তু তার স্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। কিন্তু সেই কম বয়সী সঙ্গিনীর জন্য সেটা কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা হচ্ছে না।’
তবে তিনি বলেন এর ভিন্ন একটি দিকও রয়েছে। দপ্রতারকদ পুরুষদের মধ্যে অনেকেই অর্থের বিনিময়ে তার যৌন চাহিদা পূরণ করে থাকে। সেটিও বিশ্বাসঘাতকতার আরেক নমুনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*