মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত চায় বাংলাদেশ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার :
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, অন্য দেশের মতো মালয়েশিয়াও তাদের বাজারে আমাদের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেবে। এ ব্যাপারে আমি মালয়েশিয়া সরকারকে আমাদের পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’download
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) বিষয়ে তাঁরা কাজ করছেন। খবর বার্তা সংস্থা ইউএনবির।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে সব সময়ই মালয়েশিয়া এগিয়ে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় ১৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। তবে সে সময় মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশের আমদানি হয় ১২০ কোটি ডলারের পণ্য। সর্বশেষ গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৯ কোটি ডলার।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের দ্রুত বর্ধনশীল উৎপাদন, সেবা ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে বস্ত্র ও সরঞ্জাম, এগ্রো-প্রসেসিং, ইলেকট্রনিকসের মতো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প যাঁরা অন্যত্র স্থানান্তর করতে চান তাঁদের জন্য বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) তৈরি করবে সরকার। ইতিমধ্যে ২২টি অঞ্চলের কাজ শুরু হয়েছে, তার মধ্যে সরকারিভাবে ১৯টি ও বেসরকারিভাবে তিনটি। ব্যবসার জন্য এসইজেড নির্বাচন করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে মালয়েশিয়ার। বাংলাদেশ সরকার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, মালয়েশিয়ার বাজার বাংলাদেশের সিরামিক টেবিলওয়্যার, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, আলু, মসলা, কাঁচাপাট ও পাটের বস্তার মতো পণ্যের অনেক সম্ভাবনা আছে। মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবেই সুসম্পর্ক বজায় আছে। বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার হলে দুই দেশেরই উন্নয়ন হবে।
এফটিএ চুক্তি উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে অবশ্যই গতির সঞ্চার করবে বলে মন্তব্য করেন মালয়েশিয়ার বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক উপমন্ত্রী আহমেদ বিন মাসলাম। তিনি বলেন, এফটিএ চুক্তি এক দেশের পণ্য ও সেবা অন্য দেশে যেতে সহায়তা করবে। বিনিয়োগ বাড়বে। ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শাহিদুল ইসলাম, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল আর কে হুসেইন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. আলমগীর জলিল ও সাবেক সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে অথর্নীতিবিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ৭০ জন সম্মেলনে অংশ নেন। মালয়েশিয়ার প্রায় ২০০ বিনিয়োগকারী সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জহির হামিদির সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়মিতকরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন আহমাদ জহির হামিদি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: