মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট দিয়ে ৫ বার প্রবেশ রিহ্যাব মেলায়

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার: ‘আমি ঘর পাইছি। আমার আগে ঘর আছিলো তা বন্যায় ভাসি গেছে। এতোদিন আমরা একখান স্কুলঘরে আছিলাম। এখন সাহেবরা (রিহ্যাব কতৃপক্ষ) মানষের যায়গায় ঘর তৈরী করে দিছে’। কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের চিলমারী থানার বুরুজের পাড় গ্রামের স্বামীহারা এক সন্তানের জননী মোছাঃ রেণু।
রিহ্যাব, কুড়িগ্রামের ২৫টি পরিবারের মধ্য একটি করে টিনের ঘর ( স্থানীয় নামে বাংলা ঘর) তৈরী করে দিয়েছে। পাঁচবান টিন, ১২টি পিলার ও বাঁশ দিয়ে এ ঘর তৈরী করা হয়। ঘরের দৈর্ঘ-প্রস্থ ১৬ফিট, ১১ফিট ও ঘরের চাল ১৮ ফিট।
ঘরের চাবি নিতে আসা কুড়িগ্রামের ইসাহাক আলী বললেন, ‘বন্যার পানিতে সব ভাঙ্গি চুরি চলে গেছে। রাস্তার পাশে এতো দিন মাইনষের যায়গাতো ছিলাম। ওনারা ঘর করে দেয়ায় আমাদের খুব উপকার হইছে’ ইসাহাক আলীর কথার সাথে যুক্ত হয়ে মোছাঃ মনোয়ারা বেগম বললেন, ‘আমি বাবার বাড়িতে স্বামী নিয়ে থাকি। আমার স্বামীর বাড়ি বন্যায় ভাসি গেছে। বাড়ি পেয়ে আমরা খুবই খুশি’।
প্রথমবারের মতো কুড়িগ্রাম ও ভোলায় বন্যাদুর্গত ৮৭ পরিবারকে ঘর তৈরি করে দিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। গতকাল ২১ ডিসেম্বর রিহ্যাব মেলার প্রথম দিনে তাদের হাতে ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। চাবি হস্তান্তর করেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন  রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। শীতকালীন আবাসন মেলায় সর্বমোট ১৫৪টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। গতকাল বুধবার উদ্বোধনী দিনে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতা দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম থাকলেও বিকালের পর থেকে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
আজ বৃহস্পতিবার ৯টা বাজার পর থেকেই মেলার স্টলগুলোতে ভিড় শুরু হতে থাকে। প্রতিটা স্টলেই ক্রেতা-দর্শনার্থী তাদের পছন্দের প্লট ও ফ্লাট খুজে দেখছেন। স্টলগুলো থেকেও দেয়া হচ্ছে আকর্ষনীয় অফার। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই বেড়ে চলেছে ভিড়। এতোটাই ভিড় বাড়ছে যে ভিতরে দীর্ঘ লাইন ধরে, কখনো ঠেলাঠেলি করে এক স্টাল থেকে আর এক স্টলে যেতে হচ্ছে। তবুও মানুষ খুব আগ্রহ নিয়েই আসছেন আবাসন মেলায়।  যদি স্বপ্ন পূরণ হয় একটি প্লট বা ফ্লাটের।
অন্যদিকে নান্দনিক ভাবে সাজানো হয়েছে মেলার স্টলগুলো। আপ্যায়ন-সমাদর ও করা হচ্ছে কোন কোন স্টলে। অনেকে বুকিং দিচ্ছেন, নিয়ে যাচ্ছেন ভিজিটিং কার্ড। রিহ্যাব যেন এখন স্বপ্ন পূরণের এক মিলন মেলা।
রিহ্যাব মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বস্তিগুলো আমাদের একটি বড় সমস্যা। এদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা আমাদের দায়িত্ব। এ ব্যাপারে রিহ্যাবের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরো বলেন, গ্রাম থেকে হতদরিদ্র মানুষ শহরে উঠে আসছে। শহরে এসে এদের খাদ্যের ব্যবস্থা হলেও আবাসনের ব্যবস্থা হচ্ছে না।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর সামসুল আলামীনসহ রিহ্যাবের অন্যান্য কর্মকর্তা।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় প্রবেশের টিকিট থাকছে দুই ধরনের। মেলা শেষ হবে ২৫ ডিসেম্বর।
একটি ‘সিঙ্গেল এন্ট্রি’ অপরটি ‘মাল্টিপল এন্ট্রি’। সিঙ্গেল এন্ট্রির প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রির প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট দিয়ে একজন দর্শনার্থী মেলার সময় ৫ বার প্রবেশ করতে পারবেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: