মানিকগঞ্জের ঘিওরে উচ্ছে চাষ করে অনেক চাষি স্বাবলম্বী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার: মানিকগঞ্জের ঘিওরে উচ্ছে চাষ করে অনেক চাষি স্বাবলম্বী হয়েছেন। উপজেলার বালিয়াখোড়া, ঘিওর সদর, সিংজুরি, বড়টিয়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে এই সবজির। আর খরচের চেয়ে দ্বিগুন দাম পাওয়ায় চাষিরা বেশ খুশি।
বর্তমানে অন্য সবজি কম আবাদ হওয়ায় ও হাটে-বাজারে উচ্ছের ব্যাপক চাহিদা থাকায় চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন পাইকারদের কাছ থেকে। বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বাষ্টিয়া, পুখরিয়া, ভালকুটিয়া, চৌবাড়িয়া, আংগারপাড়া, চঙ্গ শিমুলিয়া এলাকার প্রায় ২০০ একর জমিতে উচ্ছে চাষ হয়েছে। এসব এলাকায় ব্যাপকহারে উচ্ছে চাষ হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী ফলন বেশি হওয়ায় অনেক কৃষকের মুখে হাসির জোয়ার। জানা যায়, এলাকার উচ্ছে স্থানীয় হাট-বাজারের চাহিদা মিটিয়েও জেলার বাসস্ট্যান্ড আড়ৎ, ঢাকার বাইপাইল ও কারওয়ান বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রফতানিযোগ্য সবজি উৎপাদন বিশেষ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৫০ হেক্টর জমিতে চলতি মওসুমে সবজির চাষাবাদ করা হয়েছে।
বাষ্টিয়া গ্রামের চাষি সামছুল হক জানান, এবার তিনি সাত বিঘা জমিতে উচ্ছে চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ১০-১২ ধাপ উচ্ছে উঠানো হয়েছে। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পাইকারী আড়তে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন দুই লাখ টাকার বেশি উচ্ছে। আরো অনেক টাকার উচ্ছে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
একই এলাকার ফরমান আলী বলেন, ফলন ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খরচ বাদ দিয়ে লাভের আশা করছি। আংগারপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেন বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে উচ্ছে চাষ করেছি। পাইকাররা মাঠ থেকেই ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছেন। আমার খরচ হয়েছে চার বিঘায় এক লাখ টাকা। আমি ইতোমধ্যে প্রায় দুই লাখ টাকার উচ্ছে বিক্রি করেছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফ উজ্জামান বলেন, আমাদের মাঠকর্মীরা উচ্ছে চাষে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছেন। ঘিওর উপজেলার মধ্যে বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রামই উচ্ছে চাষের জন্য বিখ্যাত।

Leave a Reply

%d bloggers like this: