মাদক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে: চসিক মেয়র নাছির উদ্দীন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১ মে ২০১৭, সোমবার: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের  উদ্যোগে মাদকমুক্ত চট্টগ্রাম মহানগরী গড়ে তোলার লক্ষে মতবিনিময় সভা ৩০ এপ্রিল ২০১৭ খ্রি. রবিবার, বেলা ১১ টায় নগরীর থিয়েটার ইনষ্টিটিউটে  অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, প্যানেল মেয়র, আইন শৃংখলা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ সহ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ এর কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, উপ পুলিশ কমিশনার বৃন্দ এবং ১৬টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ৪১ টি ওয়ার্ডের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যোগদান করেন। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আইন শৃংখলা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মাদক সেবনে কোন সুফল নেই। মাদকাসক্ত পরিবার অশান্তিতে জীবন যাপন করে। মাদক সহজলভ্য হওয়ার এর ব্যবহার আশংকাজনকহারে  বেড়ে চলেছে। পরিসংখ্যানে জানা যায় প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ মাদক সেবন করে। তন্মধ্যে কিশোর ও যুবকের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। মেয়র বলেন, বিত্তবান, মেধাবী,জ্ঞানীগুনী অনেকেই এ মাদকাসক্তিতে আসক্ত আছেন। এই মাদক ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রন করতে হলে মাদককে দুষ্প্রাপ্য করতে হবে। তিনি বলেন, মাদক সেবক ও মাদক বিক্রেতা উভয়ে সমাজের অংশ। তাদেরকে চিহ্নিত করে নিয়ন্ত্রন করা গেলে সুফল পাওয়া যাবে। সে লক্ষে সকলের সাথে মতবিনিময় করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। অসৎসঙ্গ ও হতাশা মাদক সেবনে উৎসাহিত হয়। এ থেকে পরিত্রানের জন্য মহল্লা,পাড়া,ইউনিট,ওয়ার্ড, থানা ও নগর পর্য্যায়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা গেলেই মাদক থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সকল শ্রেনী ও পেশার  নাগরিকগণ স্ব স্ব অবস্থান থেকে অবদান রাখলেই এ অবক্ষয় থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সাল এর মধ্যে তামাক মুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যয় ঘোষনা করেছেন। তাঁর এ ঘোষনার আলোকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মাদকমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয় বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পুলিশ প্রশাসন,মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর  ও সমাজের সচেতন অংশের সমন্বয়ে মাদক থেকে উত্তোরনের প্রয়াস চালানো হচ্ছে। আশা করা যায় সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করে শক্ত হস্তে একে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ এর কমিশনার মো. ইকবাল বাহার, বিপিএম, পিপিএম, বলেন, ব্রিটিশ এর আইন দ্বারা পুলিশ বাহিনী পরিচালিত হচ্ছে। সারাদেশকে মাদকমুক্ত করা নাগেলে বিশেষ এলাকাকে মুক্ত করে প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না। জনগনের জন্য পুলিশ, জনগনের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশ জনগনের সেবা দেয়ার দায়িত্ব পালন করছে। সীমিত জনবল ও সম্পদ দিয়ে অপরাধমুক্ত রাখার প্রয়াস চালানো হচ্ছে। জনাব ইকবাল বাহার বলেন, এ দেশ আপনার আমার। এদেশকে ভাল রাখার দায় দায়িত্ব সকলের। নাগরিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে অপরাধ প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে যাবে এবং সমাজের খারাপ লোকদের বয়কট ও ঘৃনা করলে খারাপ কাজ করার প্রবণতা কমে যাবে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকমুক্ত নগরী গড়ার লক্ষে সিএমপি পুলিশ অপরাধ নিয়ন্ত্রনে লিফলেট ও তথ্য সরবরাহ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে উদ্বুদ্ধকরন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পুলিশ কমিশনার বলেন, মাদকের পাশাপাশি যানজট একটি বড় সমস্যা আসন্ন পবিত্র রমজানে ৩০% যানজট কমানের লক্ষে ২২ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত ট্রাফিক সপ্তাহ পালিত হবে। এছাড়াও ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম সচল করার লক্ষে ১৪৫ টি বিটে অফিস এবং বিট অফিসার নিয়োগ দেয়া হবে। প্রতিটি বিট অফিসে  অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে। তিনি মাদকাসক্তদের পুনঃর্বাসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে তহবিল গঠনের পরামর্শ দেন। সভায় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মাদক বিরোধী ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা, পাড়া মহল্লা ও ওয়ার্ড ভিত্তিক মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের তালিকা প্রস্তুত করা এবং ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাউন্সিলর এর নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। মতবিনিময় সভায় নগরীর ৪১ টি ওয়ার্ড এর মধ্যে ২৫ টি ওয়ার্ড থেকে মাদক সেবী ও বিক্রেতাদের তালিকা মেয়র ও পুলিশ কমিশনারের হাতে হস্তান্তর করা হয়। সভায় দৈনিক বীরচট্টগ্রাম মঞ্চের সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুক, সফর আলী, সাবেক কমিশনার পেয়ার মোহাম্মদ, রনজিৎ রক্ষিত, এয়াছির আরাফাত, মো. ইকবাল, সৈয়দ এনামুল হক মুনীরি, সিদ্দিক আলম, কামরুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম সজল, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, খোরশেদ আলম, সজল চৌধুরী, রফিক কোম্পানী, ডা. সুমন তালুকদার, মো. নুরুল আবছার, শেখ জাহিদ হোসেন, হাজী মো. ওমর ফারুক, জাগির আহমদ, রেজানুল হক, কামরুল ইসলাম রাশেদ, মো. আবু তৈয়ব সিদ্দিকী, মাহবুবুর রহমান, ইলিয়াছ আহমদ, আনোয়ার হোসেন বাবুল, কামরুল হুদা, আবুল হোসেন, কাউসার সহ ৪১ টি ওয়ার্ড থেকে বিশিষ্ট জনেরা মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, জোবাইরা নার্গিস খান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার( ট্রাফিক) দেবদাস ভট্টাচার্য, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, পিপিএম সেবা, উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. আবদুল ওয়ারিশ, উপ পুলিশ কমিশনার (বন্দর) হারুন উর রশিদ হাযারী, উপ পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) মো. ফারুক উল হক, উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন বিপিএম, কাউন্সিলর হাজী মো. জয়নাল আবদীন,  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর এর উপ পরিচালক শামিম আহমেদ, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সনজিদা শরমিন, স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস মতামত ব্যক্ত করেন। মতবিনিময় সভা উপস্থাপনায় ছিলেন সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম।

Leave a Reply

%d bloggers like this: