মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ দুর্নীতিতে ফেঁসে যাচ্ছেন কক্সবাজারের সাবেক ডিসি রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্টরা

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার : কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকায় নাম Matarbari _Koila Bidut_Durniti-31-05-2015অন্তর্ভূক্তিতে কক্সবাজারের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন এমন অভিযোগে সম্প্রতি অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে দুদুকের সহকারী পরিচালক আবদুস সালামকে কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশও দেওযা হয়েছে। বিষয়টি দুদকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ২৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের পর এবার কক্সবাজার থেকে সম্প্রতি বদলী হওয়া জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমীন প্রশাসনের অন্যান্যদের বিরুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্তির জন্য ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠল। তিনি চলতি বছরের ৮ ফেব্র“য়ারি কক্সবাজার জেলা থেকে পরিকল্পনা কমিশনের উপসচিব পদে যোগদান করেন। দুদকের প্রেরিত অভিযোগে জানা যায়, জেলা প্রশাসক রুহল আমিনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী পরস্পর যোগসাজশে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্তিতে এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে অভিযোগকারী তথ্য মতে অনৈতিকভাবে ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দিতে তিনি একজনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ ঘুষ হিসেবে গ্রহন করেছেন। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধনে অভিযোগটি যুক্তিযুক্ত মনে হওয়ায় অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়। এর আগে গত ১৯ নভেম্বর ওই কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ২৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কক্সবাজার ওই জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোং বাংলাদেশ লি: এর পিডি সহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মাতারবাড়ির বাসিন্দা এ.কে.এম কায়সারুল ইসলাম বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার আসামীরা হলেন কক্সবাজার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো: রুহুল আমিন, প্রাক্তন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: জাফর আলম, প্রাক্তন জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আরেফিন আক্তার নুর, মহেশখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোং বাংলাদেশ লি: এর পিডি ইঞ্জিনিয়ার মো: ইলিয়াছ, জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সাবেক প্রধান সহকারি আবুল কাশেম মজুমদার, সাবেক কানুনগো আবদুল কাদের, সাবেক সার্ভেয়ার ফখরুল ইসলাম ও বাদশা মিয়া, মহেশখালী মাতার বাড়ী এলাকার বাসিন্দা রফিকূল ইসলাম, মহিবুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ হারুন, জমির উদ্দিন, এরফান, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মো: সেলিম, জি.এ ছমি উদ্দিন, নুর আহমদ, মো: নুরুল ইসলাম, আবুল বশর, আশরাফ আলী, দানু মিয়া, মির কাশেম, মো: সেলিম উদ্দিন, রিদুয়ান, আনিছুর রহমান ও ছকি আলম। মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ হাজার ৪১৪ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার মধ্যে ৪০ কোটি টাকার চেকও বিতরণ করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ২৩ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*