মাঠে বিএনপি জাতীয় ঐক্য নিয়ে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২০ জুলাই: আওয়ামী লীগ, বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যে গঠন করবে না জানিয়ে দিলেও জাতীয় ঐক্য গঠনে হাল ছাড়েনি বিএনপি। দলটির নেতারা নিজেদের জোট ছাড়াও অন্যান্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। জামায়াতকে বাইরে রেখে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে বিএনপি। মহাসচিব মির্জা ফখরুল লন্ডন থেকে দেশে আসলে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবেন বিএনপি।k
সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার দলগুলোর প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করছেন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির জাতীয় কনভেনশনের এ বিষয়ে আ স ম রব ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলে জানা গেছে।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি ও জাতীয় কনভেনশন সফলে ২০-দলীয় জোটের বাইরে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দৌজা চৌধুরী, কৃষক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানসহ কয়েকটি ইসলামি দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। বিএনপির জাতীয় কনভেনশনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও আগামী মাসের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে হতে পারে বলে দলীয় একটি সূত্র এমন আভাস দিয়েছে।
এদিকে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের চাপ ক্রমশ বাড়ছে বিএনপিতে। একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের পক্ষে দল-সমর্থিত বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি এখন প্রকাশ্যে মত দিচ্ছেন দলটির সিনিয়র নেতারাও। রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের ডাকের পর জামায়াত ছাড়ার বিষয়টি দলের ভেতরে-বাইরে আবার সামনে চলে আসে। সম্প্রতি দলটির চেয়ারপারসনের সঙ্গে বিএনপি সমমনা বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের বৈঠকেও জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে উঠে আসে। বিএনপি-সমর্থক পেশাজীবীদের কেউ-কেউ স্বাধীনতাবিরোধী দলটিকে ছাড়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা এখন বিষয়টি প্রকাশ্যেই বলতে শুরু করেছেন। তবে এ নিয়ে প্রকাশ্যে এখনো মুখ খোলেনি বিএনপি।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের পরামর্শের পর বিষয়টি নিয়ে অতিগুরুত্ব দিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন ২০-দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি ও জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল অন্য দল, রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্রুত মতবিনিময় করার কথা রয়েছে খালেদা জিয়ার। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা সম্পর্কটির অবসান হতে পারে।
জামায়াতের বিষয়ে কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ থেকে খালেদা জিয়া পিছপা হবেন না। এ জন্য সব শ্রেণি-পেশার নেতাদের সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনা করে রূপরেখা তৈরি করবেন তিনি। ইতোমধ্যে জোটের বাইরে আছে এমন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে নির্দেশনাও দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সে অনুযায়ী কাজও শুরু হয়েছে।
গত ১৪ জুলাই রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দুই ঘণ্টার বৈঠকে দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী খালেদা জিয়াকে জামায়াত ছাড়ার পরামর্শ দেন। বৈঠকে আগতরা জাতীয় ঐক্যের পথে জামায়াত বাধা বলে উল্লেখ করেছেন। বৈঠক শেষে রফিক-উল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, উনাকে (খালেদা জিয়া) বলেছি জামায়াত ছাড়তে।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, জামায়াতের বিষয়টি বৈঠকে উঠেছে। জামায়াত তাদের পিতৃপুরুষরা যে অন্যায় করেছে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, তার জন্য তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। ওই সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেনÑ আপনার বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের মনোভাব কী বুঝলেন? এর জবাবে তিনি বলেন, আমার মনে হয়েছে, উনিও (খালেদা জিয়া) মনে করেন এটি (জামায়াতে ইসলামী ক্ষমা চাওয়া) যুক্তিসঙ্গত। বৈঠকে উপস্থিত অন্য বুদ্ধিজীবীরা জানান, তাদের খালেদা জিয়া বলেন, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের যে আহ্বান জানিয়েছি, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐক্যের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
গত ১৬ জুলাই রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি-সমর্থিত বুদ্ধিজীবী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার জঙ্গিবিরোধী জাতীয় ঐক্যের ডাক ফলপ্রসূ করতে জোটসঙ্গী জামায়াতের ‘শুভবুদ্ধি’ জাগ্রত হয়ে তারা বিএনপি থেকে সরে যেতে পারে।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের নেত্রী দেশে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি ও জাতীয় কনভেনশনের কথা বলেছেন। তাই জোটের বাইরে সমমনা ও সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, অন্য দলের নেতাদের সঙ্গে এমনিতেই কথাবার্তা হয়। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানাব। আশা করি তারা খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*