মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছে বাংলাদেশের ‘ব্র্যাক অন্বেষা’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৪ জুন ২০১৭, রবিবার: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্পেস-এক্স’ এবং মার্কিন মহাকাশ সংস্থা ‘নাসা’ পরিচালিত সিআরএস-১১ নামক একটি অভিযানের সঙ্গী হয়ে অবশেষে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছে বাংলাদেশের তৈরী প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট ‘ব্র্যাক অন্বেষা’। ৪ জুন বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত তিনটার দিকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয় বলে বাংলাদেশের ব্র্যাক অন্বেষা দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘স্যাটেলাইটটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে পৌঁছানো ও কক্ষপথে স্থাপন নিয়ে আপডেট পরবর্তীতে জানানো হবে।’
জাপানের কিউসু ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’তে বাংলাদেশের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী রায়হানা শামস ইসলাম অন্তরা, আবদুল্লা হিল কাফি ও মাইসুন ইবনে মানোয়ার ন্যানো স্যাটেলাইটি তৈরী করেছিলেন। জানা গেছে, স্যাটেলাইটটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানোর পর একে কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। স্যাটেলাইটটির রূপকারদের মধ্যে অন্যতম হলেন, গবেষক ড. আরিফুর রহমান খান। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের খবরটি সবাইকে জানাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘মহাকাশে বাংলাদেশৃ।’
ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মহাকাশ স্টেশন থেকে কক্ষপথে স্থাপনের সঠিক দিনক্ষনটি জানা যাবে। আর এর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যেই ব্র্যাক বিশ্বিবিদ্যালয়ের মহাখালী ক্যাম্পাসের ৪ নাম্বার ভবনে বানানো হয়েছে গ্রাউন্ড স্টেশন।
মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন-৯ রকেটে করে ২ জুন মহাকাশে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের তৈরি প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট ‘ব্র্যাক অন্বেষা’। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে সময় পিছিয়ে বাংলাদেশ সময় ৪ জুন মধ্যরাত ৩টায় নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়।
উল্লেখ্য, জাপানের কিউসু ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’র বার্ডস প্রজেক্টে কয়েকটি দেশের ন্যানো স্যাটেলাইট বানানোর কাজ শুরু হয়। দেশগুলো হচ্ছে- জাপান, ঘানা, মঙ্গোলিয়া, নাইজেরিয়া এবং বাংলাদেশ। প্রতিটি ন্যানো স্যাটেলাইটের আকার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতায় ১০ সেন্টিমিটার আর ভর ১ কেজির মতো। এই প্রকল্পের প্রধান কাজ হচ্ছে দেশগুলোর জন্য মানবসম্পদ তৈরি করা, যারা পরে তাদের দেশে থেকেই পরবর্তী কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরিতে মনোযোগী হতে পারবেন। মাশাব্লে, বিডিনিউজ, দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*