মমতার সফরে শুধুই প্রত্যাশা, প্রাপ্তি অস্পষ্ট

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়েরhasina দু’দিনের সফরে আশা-ভরসার পাল্লাই ভারি হয়েছে। প্রাপ্তির খাতাটা এখনও শূন্য। তবে শেষবেলায় তিস্তা ইস্যু নিয়ে তার ওপর ভরসা রাখতে বললেন। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে মমতা ইতিবাচক চুক্তি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। যদিও আগে তিস্তা চুক্তি নিয়ে সম্পূর্ণ নেতিবাচক অবস্থানে অটল ছিলেন এই তৃণমূল নেত্রী। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই সফরে তিস্তা চুক্তির চেয়ে ভারত-বাংলাদেশ স্থল সীমানা চুক্তি নিয়ে অধিক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ২০১১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে ভারত- বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হতে পারত। ওই সময় মমতার জোর আপত্তির মুখে তা স্থগিত হয়ে যায়। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা স্থল সীমানা চুক্তি প্রসঙ্গেও তীব্র বিরোধিতা করেন ভারতের পার্লামেন্টে। অথচ শনিবার সেই মমতাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্থল সীমানা চুক্তি সই প্রসঙ্গে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে লোকসভায় এই চুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। আসন্ন লোকসভার অধিবেশনে এটি অনুমোদন পেয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন, স্থল সীমানা চুক্তি নিয়ে যেসব বাধা-বিপত্তি আসবে সেগুলো দূর করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন। সে সময়ই তিনি তিস্তা ইস্যুতে তার ওপর আস্থা রাখতে অনুরোধ করেন। প্রসঙ্গত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, তিস্তার পানি প্রবাহ ছিল ৩১৩ কিউসেক। এর দু’দিন পর এটি ৩২৫ কিউসেক পাওয়া গেছে। গত বছর এই সময় এই পানির পরিমাণ ছিল ৫০০ কিউসেক। সূত্র জানায়, পানি প্রবাহের স্বল্পতার কারণে চলতি বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ হাজার হেক্টর থেকে ২০-২৫ হাজার হেক্টরে নামিয়ে আনা হয়েছে। মমতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, তারা সবাই বাংলাদেশকে ভালোবাসেন। তাদের চেষ্টা থাকবে বাংলাদেশের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া। গতকাল বেলা ১২টায় মমতাকে গণভবনে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা। প্রথমে সবার সামনে তিনি ১২ মিনিটের বৈঠক করেন। পরে দু’জনে আধ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠক শেষ হলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, মমতার এই সফর ভবিষ্যতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের পথকে সুগম করবে। আলোচনায় মমতাই প্রথম তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। এ নিয়ে চিন্তা না করার অনুরোধও করেন তিনি। সে সময় প্রধানমন্ত্রী তিস্তা তীরবর্তী জনগণের দুর্দশার কথা স্মরণ করিয়ে দিলে মমতা এ বিষয়ে জ্ঞাত আছেন বলে জানান। মমতার কথা উল্লেখ করে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া লোকসভার বৈঠকেই স্থল সীমানা চুক্তির বিষয়টির নিস্পত্তি হবে। তিনি আরও জানান, বৈঠকে উভয় নেত্রীই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া অমর একুশের অনুষ্ঠানে মমতাকে আমন্ত্রণ জানানোয় তিনি সম্মানিত বলেও উল্লেখ করেন। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ছোট্ট ছিলেন। তবে সেসময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সব অনুষ্ঠান মন দিয়ে শুনতেন। মমতা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরকে নিয়ে লেখা অমর সঙ্গীত ‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে’ তার প্রিয় গান। প্রসঙ্গত, ১৯৭৪ সালে ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি হয়। যদি সেই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তবে ভারতের সীমানার মধ্যে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের হয়ে যাবে। একই রকমভাবে বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে থাকা ১১১ ভারতীয় ছিটমহল বাংলাদেশের হবে। এই ১৬২ ছিটমহলের সব ধরনের সুবিধাবঞ্চিত অধিবাসীরা নিজেদের জাতীয়তা বেছে নিতে পারবে। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*