মফস্বলের ব্যাংক নতুন নোট থেকে বঞ্চিত

এম এম রাজামিয়া রাজু, ১৩ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার: প্রতি বছর রমজানে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সচরাচর বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে নতুন নোট ছাড়ে। চলতি বছর ও নতুন নোট ছেড়েছে। কম হলে ও বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ থেকে ২০ হাজার কোটি  টাকার নতুন নোট ছাড়া হয়। কিন্তু মফস্বলের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো উক্ত নতুন টাকার নাগাল পায় না। এ বছর ও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না বলে গ্রাহক ও ব্যাংকারদের অভিমতে জানা যায়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে নতুন ২৫ হাজার কোটি টাকার নোট ছেড়েছে। সে হিসেবে একজন গ্রাহক ৮ হাজার ৭শ’ টাকা পাবে বলে সূত্রে প্রকাশ।  অথচ মফস্বলের কোন ব্যাংক নতুন টাকা পায়নি বলে জানা গেছে।  শহরের অলি গুলোতে কতেক ব্যক্তি নতুন টাকার রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে। নগরীর কোর্ট বিল্ডিং ও নিউমার্কেট এলাকায় টুলে টাকা সাজিয়ে রেখে তারা দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে নতুন টাকার ব্যবসা। এসব টাকা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকার নোট পাওয়া যায়। টাকা রদবদল করতে হলে তাদেরকে হাজার প্রতি কমিশন দিতে হয় ২শ’ টাকা। চাহিদা অনুযায়ী কমিশন আরো বেড়ে যায়। জানা যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজশে এসব নতুন টাকা দালালদের কাছে বিক্রি করা হয়। তারা এসব টাকা নিয়ম বর্হিভূতভাবে দালালদের কাছে বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা ফায়দা লুটে। এর ফলে সাতকানিয়া চন্দনাইশ ও লোহাগাড়ার সরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক বরাবরই  নতুন টাকা  থেকে বঞ্চিত হতে চলেছে । মফস্বলে ব্যাংকের গ্রাহকদের নতুন টাকার চাহিদা থাকলে ও ব্যাংক কর্র্তৃপক্ষ দিতে পারে না। অথচ শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে লোকজনের বসবাস বেশি। সেই মোতাবেক চাহিদার মাত্রা ও বেশি রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক নতুন টাকার নাগাল না পেয়ে হতাশ হয়ে  নীরব থাকলে ও বেসরকারী ব্যাংকের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। কারণ এসব ব্যাংকের গ্রাহকরা নতুন টাকা আছে কি না এটা মানতে চায় না। তারা নতুন টাকার জন্য বাঁধ সাজে। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের মন রক্ষা করতে গিয়ে দালালদের কাছ থেকে নতুন টাকা কিনে বলে জানা গেছে। এদিকে নগরীতে নতুন টাকার বিনিকিনি দেখে জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্ন। তাদের কাছে নতুন টাকা তৈরির কোন মেশিন আছে কি না? নতুবা এত বড় বড় নতুন টাকার বান্ডিল তারা কোত্থেকে পায়? তাছাড়া তাদের এসব অবৈধ ব্যবসায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর পড়ছে না। ফলে তারা র্নিদ্বিধায় সরকারী অনুমোদিত সরবারহকৃত টাকা নিজের তৈরি পণ্যের মত ফুটপাতে বসে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এ অবৈধ প্রথা বন্ধ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ জরুরী হয়ে পড়েছে। অন্যথায় মফস্বল ব্যাংক নতুন টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে সচেতন মহলের ধারণা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: