ভোট চাইতে গিয়ে তোপের মুখে সুনামগঞ্জে সরকার দলীয় এমপি

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা, ২৩ ডিসেম্বর, শুক্রবার: জেলা পরিষদ নির্বাচনে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে সুনামগঞ্জ -১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি ফের জামালগঞ্জে নীজ বলয়ের দলীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়লেন।’ তার উপস্থিতিতে নীল বলয়ের দলীয় নেতাকর্মীরা হাতাহাতি- ঠেলাধাক্কা ও সাবেক এক ভাইস চেয়ারম্যানকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করায় সরকার দলীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ভেতরে-বাহিরে চাঁপা ক্ষোভ এবং তোষের আগুন জ¦লছে।’
এদিকে দলীয় কার্যালয়ে ডাকা বৃহস্পতিবারের ওই মতবিনিময় সভাকে বর্জন করে সভায় অংশ গ্রহন করেনি দলের একাংশের নেতাকর্মী ও সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সকল সদস্য/ সদস্যাগণ। এ নিয়ে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই তোলপাড় ও বহুল আলোচিত এমপি রতনকে নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে।’
জানা গেছে এমপির উপস্থিতিতে জামালগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের দলীয় কার্যালয়ে ৮ বছরের উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভার আড়ালে ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং এক ইউপি চেয়ারম্যান পাল্টা পাল্টি বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে নীজ বলয়ের নেতাকর্মীরা ধাক্কাধাক্কি- ঠেলা ঠেলি ও হাতাহাতির ঘটনায় নির্বাচনে ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী আ’লীগ নেতা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিছবাহ উদ্দিনকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করায় তিনি তাৎক্ষণিক ষ্ট্রোক করলে তাকে বিকেলেই সিলেট রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
সভায় থাকা দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ¦ মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে দলীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার ৪ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য/ সদস্যা ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমপি রতন আকারে ইঙ্গিতে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্যারিষ্টার এম এনামুল কবীর ইমনের চশমা প্রতীকে ভোট চান। এরপর এমপির সুরে সূর মিলিয়ে বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম চন্দ্র তালুকদার বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, আমরা চেয়ারম্যান মেম্বাররা সবাই চোর, তাই এমপি সাবের কথামতো সবাইকে ভোট দেওন লাগব, আর না হলে আমরা কেউ সুযোগ সুবিধা পাইতামনা।’ তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদে সদস্য প্রার্থী মিছবাহ উদ্দিন অসীমকে উদ্ধেশ্য করে বলেন, আপনি ঢালাও ভাবে সবাইকে চোর বলতে পারেন না।, এ কথা বলা মাত্রই এমপির ঘনিষ্টজন খ্যাত উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি অপর সদস্য প্রার্থী আবদুল মুকিত চৌধুরী ও তার মামা যুবলীগ নেতা আবুল আজাদ এবং তাদের লোকজন মিছবাহর ওপর চড়াও হয়ে তাকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করে দলীয় কার্যালয় থেকে থেকে বের করে দেয়া হয়। হলে এ নিয়ে এমপির নীজ বলয়ের দলীয় নেতাকর্মীরা দু’ভাগে ভাগ হয়ে পরস্পরের প্রতি উক্তেজনা প্রদর্শন ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটায়। এক পর্যায়ে মিছবাহ উদ্দিনক তাৎক্ষণিক ষ্ট্রোক করলে তাকে বিকেলেই সিলেটের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’ অবস্থা বেগতিক দেখে এরপরই এমপি দলীয় কার্যালয় ত্যাগ করে দ্রুত আ’লীগ সভাপতির বাসায় চলে যান।’
উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি ও সদস্য প্রার্থী আবদুল মুকিত চৌধুরীর মুঠোফোনে বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তিনি মুঠোফোনের কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে মুকিতের মামা আবুল আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, না আমরা মিছবাহকে লাঞ্চিত করিনি তিনি আপক্তিকর কথা বলায় এটা অসীম চেয়ারম্যানের ইউপি সদস্যরাই মিছবাহকে লাঞ্চিত করেন।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: