ভেতরে বাইরে সরকার এখন নানামুখী সংকটের মুখোমুখি

18নিউজগার্ডেন ডেস্ক : আর মাত্র কয়েক দিন, এরপরই পূর্ণ হবে একতরফা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর। গত জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিতর্কিত এই নির্বাচন। যা শুধু দেশে নয়, গোটা বিশ্বেই প্রহসনের নির্বাচন নামে প্রায় আখ্যায়িত পেয়েছে। নির্বাচনের পর থেকেই মার্কিন জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী অবিলম্বে নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নির্বাচনের ৫ জানুয়ারির জন্মদিন বা বর্ষপূর্তির দিকেই তাকিয়ে আছে দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি। কারণ, ওই নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের এক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে এক বছরের কথা বলেই ভোটের আয়োজন করেছিল আওয়ামী লীগ। দেখতে দেখতে ঘনিয়ে আসছে বিতর্কিত সেই নির্বাচনের বর্ষপূর্তি। আর শঙ্কাও বাড়ছে জনমনে। অনেকেই মনে করছেন, ৫ জানুয়ারি পেরেই গেলেই দেশে ফের রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হবে। উত্তপ্ত হবে রাজপথ। আবারো ভোগান্তিতে পড়বে সাধারণ মানুষ। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় তখনকার বিরোধীদল ওই নির্বাচন ঠেকানো ও সরকার পতনের আন্দোলন করেছিলো। কিন্তু, নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে সক্ষম হলেও তারা সরকারের পতন ঘটাতে পারেনি। বরং নির্বাচনের পরপরই তারা দ্রুত ব্যাকফুটে চলে যায়। এই বিষয়টিও একটি ভাববার বিষয় বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সে সময় গোপন কোনো আশ্বাসের ভিত্তিতেই বিএনপি হঠাৎ করেই সব ধরনের আন্দোলন গুটিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে এখনো পর্যন্ত নতুন নির্বাচনের কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। বরং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে মনে হচ্ছে যেন তারা পুরো পাঁচ বছরই ক্ষমতায় থাকবে। এখানেই শঙ্কার বিষয়। কারণ, হিসেবে অনেকেই মনে করছেন যেহেতু বিএনপি কোনো গোপন আশ্বাসে বিশ্বাস রেখেই আন্দোলন স্থগিত করেছিলো। আসছে ৫ জানুয়ারি পেরিয়ে গেলেই 19তারা আর চুপ থাকবে না। তারা রাজপথে নেমে আসবে। এছাড়া তাদের আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। আর বিএনপি রাজপথে নেমে এলেই বিরোধী সব রাজনৈতিক দলও মাঠে নামার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, এরই মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বেশ কিছু ইস্যু তৈরি হয়ে আছে। সুযোগ সন্ধানী মহল সুযোগ পেলে তা নিশ্চয়ই কাজে লাগাবে। রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এক বছরে বিএনপি মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন দু’একটি কর্মসূচির উদ্যোগ নিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঢাকায় তা পালনে ব্যর্থ হয়েছে সরকারি বাধার কারণে। বিরোধীদলও এ নিয়ে আর বাড়াবাড়িতে যায়নি। বরং বরাবর সতর্ক থেকেছে সরকারের সঙ্গে যাতে কোনো রকমের বিরোধ না বাধে। যতোটা জানা যায়, এসব কর্মসূচি ছিলো মূলত ‘ওয়ার্ম আপ’। বৃহত্তর কর্মসূচির জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করা, সংগঠিত করাটাই ছিলো আসল উদ্দেশ্য। অবশেষে ভেতরে ভেতরে সেই লক্ষ্য অনেকটাই অর্জিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন নির্বাচনের দাবিকে যুক্তিসংগত করার জন্য সরকারকে সময় দেওয়া এবং দল গুছানো দু’টোই একসঙ্গে সেরেছেন বেগম খালেদা জিয়া। দলে এবং দলের বাইরে অনেকে নানা কথা বললেও বেগম খালেদা জিয়াকে বিগত মাসগুলোতে বেশ আত্মবিশ্বাসী এবং আস্থাশীল মনে হয়েছে। জানা গেছে, প্রস্তুতি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। স্বল্প সময়ে যাতে সরকার পতনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা যায় সেটি মাথায় রেখেই এগুচ্ছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাস পুরোটাই ‘ওয়ার্ম আপ’ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেষ হবে। চূড়ান্ত লক্ষ্য জানুয়ারি। এদিকে জানা গেছে, সরকারও বিষয়টি মাথায় রেখেছে। তাই আগে থেকেই তারা বিভিন্ন ট্রাম্পকার্ড তৈরি করে রেখেছে। এরমধ্যে লতিফ সিদ্দিকী ইস্যু, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলা, বিএনপিকে বাইরে রেখে আরেকটি নির্বাচনের পরিকল্পনা অন্যতম। কিন্তু, এসব ট্রাম্পকার্ডে সরকার কতটা সফল হবে তা নিয়ে ইতোমধ্যেই সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো, গত ৫ জানুয়ারি আর এখনকার পরিস্থিতি এক নয়। ভেতরে বাইরে সরকার এখন নানামুখী সংকটের মুখোমুখি, যা ওই সময় ছিলো না। তাই ৫ জানুয়ারি ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জনমনে আতঙ্কও বাড়ছে বলে মনে করছেন দেশের অধিকাংশ রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
সূত্র : আ. স.

Leave a Reply

%d bloggers like this: