ভিটামিন হলো খাদ্যে জরুরি কিছু ছোট জৈব অণু

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৬ ডিসেম্বর, সোমবার: ভিটামিন হলো খাদ্যে জরুরি কিছু ছোট জৈব অণু। ভিটামিনকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। যেমন : বি২, ফলিক এসিড, বি১২, ভিটামিন সি ইত্যাদি) এবং চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ( ভিটামিন ডি, এ, ই কে)।

spoon with dietary supplements on fruits background

ভিটামিনের অভাবে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। অবসন্নতা, ছোট শ্বাস, ক্লান্ত ত্বক, মাথা ঘোরা, অনিয়ন্ত্রিত হার্টবিট- এগুলো ভিটামিনের অভাবের লক্ষণ। চলুন জেনে নেয়া যাক দেহে বিভিন্ন ভিটামিনের কাজ, অভাবজনিত রোগ এবং উৎস সম্পর্কে।
ভিটামিন ‘এ’
কাজ: দৃষ্টি শক্তি স্বাভাবিক রাখে, ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য্য রক্ষাসহ দেহের সার্বিক বৃদ্ধি ঘটায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
অভাবজনিত রোগ: রাতকানা, ত্বকে শুষ্ক ও খসখসে ভাব, কেরাটোম্যালেসিয়া, দেহের বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাহত হয়।
উৎস: ডিম, মাখন, পনির, গাঢ় সবুজ শাক-সবজি, গাজর, লাল শাক, বাধা কপি, মটরশুটি ইত্যাদি।
ভিটামিন ‘বি’
কাজ: বি-ভিটামিন সমূহ রক্তের লোহিত কনিকা তৈরিতে অবদান রাখে। শর্করা জাতীয় খাদ্যের বিপাকে সহায়তা করে, স্নায়ু কোষের খাদ্যপ্রাণ হিসাবে কাজ করে।
অভাবজনিত রোগ: বেরি বেরি, রক্ত শূন্যতা, মুখ ও জিহ্বার ঘা সহ পরিপাক তন্ত্রের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।
উৎস: অংকুরিত ছোলা, আটা চাউলের উপরে পাতলা আবরণ, টমেটো, মটরসুটি, পেয়াজ, লিভার, মাংস, ডিম ও দুধ।
ভিটামিন ‘সি’
কাজ: রক্ত জমাট বাধা ও ক্ষতস্থান সারাতে সাহায্য করে। দেহের টিস্যু (কলা)গঠনে সাহায্য করে। দেহের প্রয়োজনীয় লৌহ ও অন্যান্য মিনারেল শোষণ ও আত্তীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।হাড় ও দাঁতের গঠনে সাহায্য করে।
অভাবজনিত রোগ: স্কার্ভি (দাঁতের মাড়ির রোগ), হাড় দুর্বল, রক্তপাত হতে পারে, ঘনঘন সর্দি কাশি ইত্যাদি রোগ।
উৎস: সকল প্রকার টাটকা টক জাতীয় ফল যেমন কমলা লেবু, টমেটো, আমলকী, লেবু, জাম, কাঁচা তেতুল, পেয়ারা, টাটকা শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
ভিটামিন ‘ডি’:
কাজ: হাড় ও দাঁতের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও মজবুত করে। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে।
অভাবজনিত রোগ: রিকেট, অস্টিও ম্যালেসিয়া, বিলম্বে দাঁত উঠা।
উৎস: দুধ, মাখন, ডিম, ইলিশ মাছের তেল, কডলিভার অয়েল, অস্থি মজ্জা, আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি (সূর্যের আলো)।
ভিটামিন ‘ই’
কাজ: শরীরের ক্ষত স্থান সারাতে সাহায্য করে। লোহিত রক্ত কনিকাকে অক্সিজেন বহনে সাহায্য করে। প্রজনন ক্ষমতা বাড়ায়।
অভাবজনিত রোগ: অকালে চুল পড়া, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস।
উৎস: বাদাম, শস্য বীজ, তুলার বীজের তৈল, সবুজ শাক-সবজি, লেটুস ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।
ভিটামিন ‘কে’
কাজ: রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে। অস্থি সমূহ শক্ত ও মজবুত রাখে।
অভাবজনিত রোগ: কেটে গেলে রক্তপাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সহজে জমাট বাধে না।
উৎস: বিভিন্ন প্রকার ডাল, সবুজ শাক-সবজি, গাজর, টমেটোতে পাওয়া যায়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: