ভারী বর্ষণে নাকাল জনজীবন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৮ জুলাই ২০১৯, সোমবার: মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সকাল থেকেই বর্ষণ শুরু হয়েছে।

কখনও ঝিরিঝিরি, কখনও মুষলধারে নামছে আষাঢ়ের বৃষ্টি। অলিগলিতে পানি। পথ চলতে ভোগান্তি। পাহাড়ধসের আশঙ্কা। সোমবার (৮ জুলাই) ভোরবেলা চট্টগ্রামবাসী ঘুম ভেঙেই দেখেছে বর্ষার মেঘলা আকাশ। সেই সঙ্গে সকাল শুরু হয় ভোগান্তি দিয়েই। সকাল বেলাই স্কুল-কলেজ, অফিসগামী সাধারণ মানুষ বৃষ্টিতে ভিজেই ভোগান্তির শিকার হন। এরপর সারাদিন থেমে থেমে চলছে বর্ষণ। দুপুরের পর বেড়ে যায় বৃষ্টির পরিমাণ। এরইমধ্যে চট্টগ্রামের বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক রাস্তায় কাদা। খানাখণ্ড ভরা রাস্তাগুলোতে চলতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়ছে মানুষ। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ প্রদীপ কান্তি নাথ জানান, সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৩৬ দশমিক ২ মিলিমিটার ভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে নগরের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। চট্টগ্রাম-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কেও পানি উঠেছে। অনেক দোকান ও বাসা-বাড়িতে ঢুকে গেছে পানি। নগরের ওয়াসার মোড়, বাকলিয়ার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ সিডিএ, হালিশহর, অক্সিজেন, বহদ্দারহাট, চকবাজার, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি ফ্লাইওভারগুলোতে জমে আছে বৃষ্টির পানি। টানা বৃষ্টিতে দামপাড়ায় চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান কার্যালয়ের নিচতলায় হাঁটু পানি উঠে গেছে। ফলে নিচতলায় অবস্থিত কার্যালয়গুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওয়াসা ভবনে প্রবেশ ও বের হতে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকায় চাল-ডালের আড়ত, শুঁটকিপট্টি, তেলের দোকান, ভুষির আড়ত, মসলার বাজারের বেশ কিছু দোকানের মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, অক্সিজেন, এক্সেস রোডসহ নগরের নিম্নাঞ্চলে পানি জমে গেছে। সড়কে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষ না হওয়ায় সৃষ্ট গর্তে জমে আছে পানি। এতে রিকশা ও যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। ভারি বৃষ্টিতে হেমসেন লেইন এলাকায় ১ নম্বর গলির একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের সীমানা প্রাচীর ধসের ঘটনা ঘটলেও এতে কেউ আহত হয়নি। ঘাটফরহাদ বেগ এলাকায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সীমানা প্রাচীরের একাংশও ধসে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফ্লাইওভারগুলোতে দেখা দিয়েছে যানজট। নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে তিন সরকারি সংস্থা- চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পৃথক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এখনও প্রকল্পের কাজে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। এদিকে সোমবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ঢাকায় ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সকালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহাত আহমেদ ভিজে ভিজেই স্কুলে রওনা দেন। সঙ্গে থাকা রাহাতে মা শান্তিনগরের বাসিন্দা নাজমা আক্তার বলেন, উপায় নেই। স্কুলে তো যেতেই হবে। এখন রিকশা পাচ্ছি না। তাই পায়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছি। বিকেলের দিকে অফিস ফেরত চাকরিজীবী মিতু আক্তার বলেন, ‘অফিস ছুটি হয়ে গেছে। কতক্ষণ বসে থাকবো। তাই বাধ্য হয়ে বৃষ্টির মধ্যেই অফিস থেকে বের হলাম। এখন ভিজে ভিজে বাসায় যাচ্ছি।’ আবহাওয়া অধিদফতরের এক সর্তকবার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার ) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ। এদিকে, নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা হয়েছে এক নম্বর সর্তক সংকেত। আজ দিনগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরগুলোর জন্য এই সংকেত জারি করা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, ময়মনসিংহ, টাংগাইল, সিলেট, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খূলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সোমবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে রাঙ্গামাটিতে ১৭০ মিলিমিটার। এছাড়া, ময়মনসিংহে ২৩, চট্টগ্রামে ৭৮, শ্রীমঙ্গলে ৪১, রাজশাহীতে ১৩, রংপুরে ৪১ ও বরিশালে ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*