ভান্ডারিয়া হানাদারমুক্ত দিবস আজ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার: আজ ১৩ ডিসেম্বর, ভান্ডারিয়হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর বিদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ভান্ডারিয়ার পোনা নদী তীরের পুরাতন স্টিমারঘাটে মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার সুবেদার আব্দুল আজিজ সিকদারের নেতৃত্বে অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধা একত্রিত হয়ে পোনা নদীতে অবস্থান নিয়ে পাকহানাদারের গানবোর্ড লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এসময় পাক হানাদার বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়।
সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীর গানবোর্ড ডুবানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলে কিছুসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা ভা-ারিয়া থানার পাশের ইউনিয়ন ভিটাবাড়িয়া গ্রামের পোনা নদীর মুখে শিয়ালকাঠী এলাকায় আরও কিছু মুক্তিযোদ্ধা মিলে শক্তি বৃদ্ধি করে প্রতিরোধের জন্য ঘাঁটি গড়েন। এসময় হানাদারদের গানবোর্ড ডুবিয়ে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের মূহুর্মূহু গুলিতে পাকহানাদারের কয়েকজন নিহত হয় এবং গানবোর্ডের তলা ছিদ্র হয়ে ডুবে গেলে পাকহানাদাররা পিছু হটে। এইদিন ভা-ারিয়া সম্পূর্ণ হানাদারমুক্ত হয়।
এইদিনে ভা-ারিয়ার সকল মুক্তিযোদ্ধা শহরে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা মিলে জয়বাংলা ধ্বনিতে বিজয় মিছিল করে উল্লাস প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার সুবেদার আব্দুল আজিজ সিকদার জানান, শহরের বিহারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প গঠন করা হয়। অপরদিকে, সদর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে হানাদার বাহিনী ক্যাম্প গঠন করে। হানাদার বাহিনী শহরের ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে ভা-ারিয়া বন্দর পুড়িয়ে দেয়।
হানাদার বাহিনী ব্যাপক ধড়পাকার চালিয়ে কঁচা নদী তীরে (বর্তমান হাসপাতাল সংলগ্ন) শত শত মানুষকে গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া পশারিবুনিয়া গ্রামে একটি পরিত্যাক্ত বাগানে স্থানীয় ২৫ জন হিন্দু বাঙালিকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে ।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য আজও ভা-ারিয়ার দুটি বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ দূরে থাক একটি স্মৃতি ফলকও নির্মাণ করা হয়নি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: