ভাগ্য বড়ই নির্মম!

এম এম রাজা মিয়া রাজু, ০৮ জানুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, মঙ্গলবার: কার ভাগ্যে কি আছে কে জানে? সবই সৃষ্টি কর্তার কুদুরতি। রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না থেকেও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতকানিয়া লোহাগাড়া থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথমবারেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অধ্যাপক আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামদ্দিন নদভী। অথচ তার জন্য পদটি যতসহজ ছিল আওয়ামীলীগের বিগত দিনের প্রার্থীদের জন্য বড় কঠিন ছিল। এই আসনে প্রার্থী ছিলেন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাব,ু আওয়ামীলীগ নেতা প্রয়াত জাফর আহমদ চৌধুরী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী। তারা বরাবরই বিএনপি জামায়াতের কাছে পরাজিত হয়। তারা ছিলেন আওয়ামীলীগের কান্ডারী। তবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এই আসনে পরাজিত হলেও নিজ আসন আনোয়ারা থেকে বারংবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু জাফর আহমদ চৌধুরী ১৪ ও ১৫ আসন থেকে (সাবেক ১৩ ও ১৪) বার বরাবার লড়ে জয়ের মুখ দেখেনি। নানা প্রতিকুলতার মাঝে শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র থেকে এমপি প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। তার মনে বড় আশা ছিল এমপি হবার। তার মনের কথা মৃত্যুর আগে সংবাদকর্মীদের কাছে প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন সব শখ তার পূরণ হয়েছে। শুধু পূরণ হয়নি সংসদ সদস্যের পদটি। তিনি এমপি হবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আশা পূরণ হয়নি। যেই পদটি নদভীর জন্য সহজলভ্য হয়েছে। অপরদিকে ১৪ আসন (সাবেক ১৩ আসন) চন্দনাইশ সাতকানিয়া (আংশিক) এলাকা থেকে বর্তমান সাংসদ ইতিপূর্বে দুইবার প্রার্থী হয়ে হেরে যান। এতে তিনি আশায় নিরাশ হয়নি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে পূনঃ নির্বাচিত হয়ে এলাকায় সাড়া জাগায়। তিনি বিগত দিনের হারÑজিত ভুলে গিয়ে এখন মনের আনন্দে এলাকা চষে বেড়ায়। কিন্তু হতাশায় ভুগছেন কমিউনিষ্ট থেকে বারবার সংসদ সদস্য প্রার্থী কমরেড আবদুল নবী। যতই হতাশা আর বঞ্চনা আসুক না কেন তিনি পিছ পা হয় না। সংসদ নির্বাচন আসলেই তিনি প্রার্থী হন। জানে না কখন তার ভাগ্যের চাকা খুলে যায়। সেই আশায় তিনি প্রহর গুনে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: