ভরা মৌসুমেও চিংড়ির উৎপাদন ঘাটতি প্রভাব ফেলেছে রপ্তানীতে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৪ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার: সাদা সোনা নামে খ্যাতি চিংড়ির ভরা মৌসুমেও চিংড়ির উৎপাদন ঘাটতি প্রভাব ফেলেছে রপ্তানীতে। ভাইরাস মুক্ত পোনা সংকট , সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও চিংড়ির ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন ঘের মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ফলে আর্থিক ক্ষতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে উপকূলের প্রায় ১০ লাখ চিংড়ি চাষি।
২০১৫-১৬ অর্থ বছরে খুলনা সহ দক্ষিণ অঞ্চলে থেকে চিংড়ি রপ্তানি হয়েছিলো ২হাজার ৪শত ২৭ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থ বছরে তা কমে হয়েছে ২হাজার ২শত৭০ কেটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে ২শত ১৭ কোটি টাকা। সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ ভাইরাস ও কারিগরি জ্ঞনের অভাবে চিংড়ি উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রভাব ফেলেছে রপ্তানীতে। আর্থিক ক্ষতির কারণে এরই মধ্যে গলদা ও বাগদা চিংড়ির চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অনেক চাষি ও ঘের মালিক। তবে ভারত ও ভিয়েতনারে হাইব্রিড ভি নামে চিংড়ি উৎপাদনের মাধ্যমে ইতি মধ্যে বাজার দখল করেছে চিংড়ি চাষিরা। তবে বাংলাদেশের এই জাতের চিংড়ি চাষের অনুমোদন মিলেনি এখনও। এ সম্পর্কে চিংড়ি ঘের মালিক বলেন , ‘ভারত, ভিয়েতনামে কিছু চিংড়ি চাষ হয় যা আমাদের দেশে চাষ করলে খরচ কম হয়। এই চিংড়ি চাষে অধিক মুনাফা পাওয়া যায়।’
এদিকে চাহিদা অনুযায়ী চিংড়ির যোগান না থাকায় রপ্তানি করতে পারছে না কম্পানিগুলো । এ সম্পর্কে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ তারিকুল ইসলাম জহির বলেন, ‘কোন ভাবেই চাহিদা অনুযায়ী চিংড়ির যোগান দেওয়া যাচ্ছে না। এর মূল কারন উৎপাদন ব্যহত হওয়া। তাছাড়া ভাইরাস থাকা এবং ভাইরাস সম্পর্কে চাষিদের জ্ঞান না থাকায় চিংড়ি উৎপাদন কমে যাচ্ছে।’
এদিকে জেলার মৎস্য কর্মকর্তা শামীম হায়দার জানায়, ‘বর্তমান চিংড়ি চাষিরা যে নামের চিংড়ি চাষ করে সেইসব চিংড়ি আসলে আমাদের দেশের জন্য সুবিধাজনক না। কারণ সেইসব চিংড়ির পোনাতে ভাইরাস থাকতে পারে। আর এর ফলে চিংড়িতে অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।’
জেলায় প্রতি বছর প্রায় ২লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষ হয়। সূত্র:নিউজ টোয়েন্টি ফোরটিভি

Leave a Reply

%d bloggers like this: