ভবিষ্যৎতের রোবট তৈরি হবে বাংলাদেশে !

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৬
দেশে রোবট নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু অনেক আগে থেকেই। তবে এক ছাদের নিচে এসে যাতে শিক্ষাটাকে ঝালিয়ে নেওয়া যায় সে উদ্দেশ্যে এ বছর যাত্রা শুরু হয়েছে ‘বুয়েট রোবটিক্স সোসাইটি’র (বিআরএস)। শুরুর কয়েক মাসের মাথায় তারা আয়োজন করেছে ‘রোবো কার্নিভাল’। এই আয়োজন ও বিআরএস সম্পর্কে জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন টের অনুরোধে তথ্য-প্রযুক্তি সম্মেলন ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ঘটনাটি সাড়া জাগায় গণমাধ্যম ও জনমনে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ফ্রান্সে তৈরি রোবটটিতে নিজেদের প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করেছেন। আর তাতেই বাংলায় কথা বলতে পেরেছে রোবটটি।
শুধু ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ন । রোবট নিয়ে দেশে কাজও বাড়ছে বেশ।
বিআরএসের বর্তমান সভাপতি ইরফান মোহাম্মাদ আল হাসিব জানান, বুয়েটে রোবটিক্স ক্লাব চালুর চেষ্টা বহুদিন ধরেই চলছিল। শেষমেশ এ বছরের শুরুর দিকে যাত্রা শুরু হয় উদ্যোগটির। এতে প্রত্যক্ষ নির্দেশনা দেন তড়িতকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শেখ আনোয়ারুল হক ফাত্তাহ। তাঁর নেতৃত্বেই অল্প সময়ে বিআরএস প্রতিষ্ঠা ও এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে বিআরএসে সদস্য সাড়ে ছয় শ। ৩০ সদস্যের একটি কার্যকরী কমিটিও রয়েছে এর। ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী রোবো কার্নিভাল আয়োজন করে বিআরএস। প্রতিযোগিতা হয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন চ্যালেঞ্জ, রেস ফর গ্লোরি এবং রেসকিউ বট কম্পিটিশন—এই তিন বিভাগে। ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ দল অংশ নেয় এতে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন চ্যালেঞ্জ ক্যাটাগরিতে ১৪, রেস ফর গ্লোরিতে ১৩ এবং রেসকিউ বট কম্পিটিশনে সাতটি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতি দলে সদস্য ছিল সর্বনিম্ন চার থেকে সর্বোচ্চ সাতজন। আয়োজনে ছিল রোবটিক্স কনটেস্ট, সেমিনার ও কর্মশালা। মোট অর্থ পুরস্কার ছিল দেড় লাখ টাকা। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন চ্যালেঞ্জ ক্যাটাগরিতে টিম অ্যাবারান্ট। তারা পেয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রথম রানারআপ আইইউটি অনির্বাণ পেয়েছে ২০ হাজার এবং টিম নয়েজ পেয়েছে ১০ হাজার টাকার প্রাইজমানি। রেসকিউ বট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল সাস্ট থরিপেলথ কাউন্টার। প্রথম রানারআপ টিম বায়ম্যাক্স, দ্বিতীয় রানারআপ টিম উইনরার-০৯। এই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্থ ছিল যথাক্রমে ২৫, ১৫ ও ১০ হাজার টাকা। রেস ফর গ্লোরিতে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির টিম উইনরার-০৯। প্রথম রানারআপ বুয়েট আলট্রন্স এবং তৃতীয় হয় টিম লিনাক্স। এই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্থ ছিল যথাক্রমে ২০, ১২ ও আট হাজার টাকা। তিন দিনের এই আয়োজন বুয়েটের পাশাপাশি সাড়া ফেলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। ফয়সাল হাসিব জানান, এসব শিক্ষার্থীর রোবটিক্সের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ছিল ভিন্ন কিছু আয়োজন। কর্মশালায় তাদের হাতে-কলমে রোবটিক্স সম্পর্কে ধারণা দিতে মৌলিক কিছু বিষয় দেখানো হয়। রোবটিক্সের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স বিষয়েও হাতেখড়ি দেওয়ার আয়োজন ছিল কার্নিভালে। শুধু এই কর্মশালায়ই স্কুল-কলেজের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল বলে জানান তিনি। বিআরএসের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল জানান, কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও বাণিজ্যিকভাবে রোবট তৈরির কথা বাংলাদেশে এখনো শোনা যায়নি। তবে দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবট নিয়ে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে বুয়েট, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেকগুলো রোবট তৈরি করেছেন। সেনাবাহিনীতেও কিছু কাজ হচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তৈরি রোবট বাহবা পেয়েছে। দেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক রাখতে চায় বিআরএস। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও রোবট নিয়ে ধারণা বিনিময় করা যাবে। এতে কাজের মান বাড়বে। ফয়সাল জানান, প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্সে আগ্রহী শিক্ষার্থী এবং ক্লাবগুলোর সঙ্গে তাদের অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই একা না হেঁটে সবাইকে নিয়েই অগ্রযাত্রায় শামিল হতে চায় তারা। এবারের আয়োজন বিআরএসের যাত্রা শুরুর এক ঘোষণা মাত্র। সামনে তারা আরো নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে এমন আয়োজন করতে থাকবে বলে জানায় তারা। বিশ্বে এখন অ্যাপ্লাইড রোবটিক্সের জয়জয়কার। বিআরএসের উদ্দেশ্য সেই ধারায় যোগ দেওয়া। বিভিন্ন শিল্প-কারখানাও এখন স্বয়ংক্রিয় হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। সেখানেও রয়েছে কাজ করার সুযোগ। এমনটাই মনে করেন বিআরএস সদস্যরা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: