ভবন নির্মাণের পূর্বে ফায়ার ছাড়পত্র অবশ্যই নিতে হবে: ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৬ জুলাই ২০১৯, শনিবার: ফায়ার ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে উঠছে বহুতল ভবন, বাণিজ্যিক, বিভিন্ন ধরনের কারখানা। দেশে প্রতিনিয়ত নিজ উদ্যোগে বাড়িঘর তৈরীর কাজ চলছেই। স্থপতি কিংবা প্রকৌশলীদের সংশ্লিষ্টতা থাকেনা। ফলে অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ ব্যবস্থা উপেক্ষিতই থেকে যায়। তাই তিনি প্রতিটি মানুষকে আগুন থেকে নিরাপদে থাকতে এবং ভবনের সুরক্ষার জন্য আরো সচেতন হওয়া এবং অগ্নি নির্বাপন সম্পর্কিত বিধিমালা

????????????????????????????????????

অনুস্মরনের আহ্বান জানান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে “কর্মক্ষমতা ভিত্তিক ভবনের অগ্নি সুরক্ষা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, এমপি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। ৬ জুলাই, ২০১৯ শনিবার বিকাল ৪টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি), চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে (৬ষ্ঠ তলা)’য় আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. হোসেন মুনসুর। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেমিনারে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (বিএসএমআরডিইউবি)’র ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মুনাজ আহমেদ নুর। সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন,বাংলাদেশ (আইইবি)’র প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো: আবদুস সবুর।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে মেধাবী প্রকৌশলী ও পরিকল্পনাবিদদের সমন্বয়ে ভবনের অগ্নি সুরক্ষাসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এবং সমাধানের লক্ষে প্রকল্প গ্রহনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আগুন থেকে নিজেদের এবং ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে জনগনের মাঝে ব্যাপক হারে সচেতনেতা সৃষ্টির লক্ষে প্রকৌশলীদের অগ্রণী ভূমিকা পালনেরও আহবান জানান।

মূল প্রবন্ধকার অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মুনাজ আহমেদ নুর তাঁর প্রবন্ধে আগুন থেকে ভবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিভাবে ভবনকে আগুন থেকে নিরাপদ রাখা ও সুরক্ষা দেয়া যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে নিম্মোক্ত বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন। ভবন অনুমোদন প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে না যাওয়া। অর্থাৎ ভবনটিকে নিরাপদ করতে একটি নকশা তৈরি করে সেটি সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে যথাযথভাবে অনুমোদন নেয়া। ভবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থপতি ও প্রকৌশলীদের না এড়িয়ে তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী ভবনের নকশা প্রণয়ন ও সে অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণে যথাযথ ব্যক্তিদের জড়িত রাখলে দুর্ঘটনার ভয় এমনি কমে যায়। এক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর চিন্তার কারণে অনেক সময় পুরো বাড়িই ঝুঁকির মুখে থাকে। প্রবন্ধকার ভবনের প্রকৌশলগত বিষয়গুলোকে অবহেলা না করা, যেমন কোথায় সিঁড়ি হবে, আগুন লাগলে কোন পথ দিয়ে কিভাবে নিরাপদে বের হবে তা বিবেচনায় নেয়া। নিরাপত্তার খাতিরে দমকল বাহিনীর পরামর্শ অনুযায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া এবং সেগুলো ব্যবহার বিধি জেনে নেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ভবন তৈরি এখন বেশি মাত্রায় প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ার কারণে সতর্ক থাকা ও যথাযথ পেশাজীবিদের সহায়তা গ্রহনেরও পরামর্শ দেন। তিনি তাঁর প্রবন্ধে আবাসিক ভবনে অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে আইন অনুসরণ করে ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, ভবন থেকে বেরিয়ে আসার পথ। অর্থাৎ আগুন লাগলে মানুষ যাতে বেরিয়ে আসতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। সিঁড়ি করার যেমন নিয়ম মানতে হবে, তেমনি লিফট থাকলে সেটার জন্য আলাদা ব্যবস্থা নিতে হবে। এর বাইরে জানালার গ্লাসসহ এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে অগ্নি প্রতিরোধের বিষয়গুলো বিবেচনা নিতে হবে। তাছাড়া অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা থাকা ও প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য পানির উৎস রাখাও জরুরী বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাড়িতে বারান্দা থাকলে দুর্ঘটনায় ক্ষতির আশঙ্কা এমনিতেই একটু কমে যায়, নকশার সময় সেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন।

প্রবন্ধকার ভবনের উচ্চতা ও প্রধান সড়কের প্রশ্বস্থতা এবং প্লটের অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংক্রান্ত সব প্লট ও ভবনের প্রবেশের প্রবেশ পথ থাকা, স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার স্থাপন, স্থায়ী অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার জন্য ন্যুনতম ৫০ হাজার গ্যালন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার রাখা, রিজার্ভার থেকে পানি যাতে নেয়া যায় সেজন্য ড্রাইভওয়ে রাখা, ফায়ার ফাইটিং পাম্প হাউজ এবং এটি অগ্নি নিরোধক সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা, স্মোক ও হিট ডিটেক্টশন সিস্টেম সব স্মোক ও হিট ডিটেক্টর ও এয়ার ডাম্পার এর অবস্থান নকশায় চিহ্নিত করা, ইমারজেন্সী লাইট, জরুরী নির্গমন সিঁড়ি ও ফ্লোর প্ল্যানে বিকল্প সিঁড়ি রাখা, রিফিউজ এরিয়া অর্থাৎ আগুন, তাপ ও ধোঁয়ামুক্ত নিরাপদ এলাকা সৃষ্টিসহ রান্নাঘরে চুলার আগুন নির্বাপনের জন্য ওয়েট কেমিক্যাল সিস্টেম রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. হোসেন মুনসুর বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের হৃদপিন্ড। চট্টগ্রাম আয় করে আর সারা বাংলাদেশ চট্টগ্রামের মাধ্যমে আয়কৃত টাকা খরচ করে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু মেঘা প্রকল্প ইতিমধ্যে বাস্তাবায়ন করেছেন এবং আরো কয়েকটি মেঘা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। সারা চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বহুতল বার্ণিজ্যিক ভবন ও গড়ে উঠা কারখানার অগ্নি সুরক্ষার লক্ষে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় এ ধরনের সেমিনারের আয়োজন। সভাপতি এ ধরনের উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রকৌশলীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
মূল প্রবন্ধকারের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন প্রকৌশলী এস.এম. শহিদুল আলম। সেমিনারে আইইবি’র প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও রাজউক এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এম. নুরুল হুদা, আইইবি’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো: নুরুজ্জামান, ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী আবুল কালাম হাজারীসহ আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল আলম, ভাইস-চেয়ারম্যান (একা.) প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, ভাইস-চেয়ারম্যান (এডমিন) প্রকৌশলী প্রবীর কুমার দে, সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এম. আলী আশরাফ, পিইঞ্জ, প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন, প্রাক্তন-ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কাজী রুকুনউদ্দীন আহমেদ, প্রকৌশলী এম.এ.রশীদ, প্রকৌশলী উদয় শেখর দত্ত এবং আইইবি’র নেতৃবৃন্দ ও চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ’র নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রচুর সংখক প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রশ্নের জবাব দেন মূল প্রবন্ধকার ও সেমিনারের সভাপতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*