বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরীদের নিরাপত্তাহীনতার কারণেই বাড়ছে বাল্য বিবাহ

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার, ১৫ নভেম্বর: মেয়েদের স্কুল কলেজের সামনে উঠতি বয়সের ছেলেদের আড্ডা। বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গির মাধ্যমে আকর্ষণ প্রকাশ বা অপ্রীতিকর মন্তব্য করাকেই বলা হয় ইভটিজিং বা উত্যাক্ত করা। যাতে হাইকোর্টের এক রায়ে যৌন হয়রানী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মানসিক চিকিৎসকদের মতে ইভটিজিং এর কারণে বয়ঃসন্ধির সময় এমনিতেই স্কুলগামী কিশোরীরা নিরাপত্তাহীনতার বোধ থেকেই মানসিকভাবে দুর্বল থাকে। Evtizar_Pic_14-11-2015
কন্যা শিশু অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতদের মতে শুধু ইভটিজিং নয় দেশের প্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কিশোরীদের হয়রানী। দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার দাবী জানান তারা।
কক্সবাজার নারী জাগরণ সমিতির সভানেত্রী রোকসানা খাতুন বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে স্কুলগামী কিশোরীদের নিরাপত্তাহীনতার কারণেই অভিভাবকরা আগ্রহী হয়ে উঠেন তাদের কন্যা শিশুকে বাল্য বিবাহ দিতে। কিশোরীদের নিরাপদ পথচলা নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্কুলে একটি অভিযোগ বাক্স চালু করা উচিৎ বলে মনে করেন এই নারী নেত্রী। তিনি আরও বলেন, এই কারণেই গত কিছুদিন যাবৎ কক্সবাজারে বেড়ে গেছে বাল্য বিবাহের প্রবণতা।
এ ধরনের একটি ঘটনা গত শুক্রবার বিকেলে পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী গ্রামে ঘটে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাঈন উদ্দিন বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেলে সহকারী কমিশনার ভূমি (উখিয়া) নুর উদ্দিন মোহাম্মদ সিবলী নোমানের নেতৃত্বে একদল প্রতিনিধি ঘটনা স্থলে গিয়ে বাল্য বিবাহ বন্ধ করেন।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে অসচেতনতার পাশাপাশি বিদ্যমান কুসংস্কারের কারণে মানসিক এবং শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে কিশোরীরা। অতিরিক্ত রক্ষণশীলতার কারণে তাদের সমস্যাগুলো যেমন তারা পরিবারের কারো কাছে বলতে পারে না, তেমনিভাবে উত্যাক্তকারীরা জড়িয়ে পড়েন নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে। এ অবস্থায় বাল্য বিবাহের বিষয়গুলো নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচারণা ও জনমত সৃষ্টি করার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: