ব্যাপক পরিবর্তন আসছে জামায়াতে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১২ মে: পুরো খোলনালচে বদলে ফেলতে যাচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী দল হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামী। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং বিতর্কিত নেতাদের দলের নেতৃত্ব থেকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্মের হাতে দল পরিচালনার দায়িত্বভার ছেড়ে দেয়ার কথাও ভাবছে জামায়াত। এখানেই শেষ নয়, দলটির নীতি-আদর্শেও মোটা দাগে পরিবর্তন আনা হবে।Jamat-B-Logo
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে মেনে নিয়েই আগামী দিনে রাজনীতি করতে মনস্থির করেছে তারা। এজন্য দলের গঠনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। রাজনীতির মাঠে টিকে থাকতে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার কথাও ভাবছে জামায়াত। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির আশায় প্রয়োজনে বিএনপির সঙ্গ ছাড়তেও রাজি তারা। জামায়াতের দায়িত্বশীল পর্যায়ে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জামায়াত নেতাদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার পর যুদ্ধাপরাধের অপরাধে দলটির চার শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে? তারা হলেন- জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা এবং মুহাম্মদ কামারুজ্জান? আর জামায়াতের ‘থিঙ্কট্যাঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত দলটির সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম আজীবন কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারেই মারা গেছেন? আজীবন কারাদ- ভোগ করছেন দলটির নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী? দলটির আরেক নায়েবে আমীর আবদুস সুবহান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আজহারুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসির দণ্ড এ মুহূর্তে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে। এ অবস্থায় যুদ্ধাপরাধীমুক্ত জামায়াত গড়ার নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে দলটির স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রজন্মের নেতারা।
তাদের মতে, জামায়াতের এখন আর কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। দলটির কর্মকাণ্ড কার্যত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বা প্রেসরিলিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে? জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের নামে এসব সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হলেও তাকে প্রকাশ্যে কখনও দেখা যায় না? পাওয়া যায় না টেলিফোনেও? দেশের বাইরে থাকা মধ্যম বা তৃতীয় সারির কোনো নেতাও মোবাইল ফোন খোলা রাখেন না। এমনকি তাদের কর্মসূচিও এখন নামকাওয়াস্তে?
প্রথমদিকে দলটির শীর্ষ নেতাদের শাস্তির পর জামায়াত-শিবির যে সহিংস প্রতিবাদ করেছে, এখন আর তা নেই? দলের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের প্রতিবাদে ডাকা হরতালেও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি। এ অবস্থায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনসহ একেবারে ভিন্ন আদলে রাজনীতিতে আসাটাকেই শ্রেয় মনে করছেন জামায়াত সংশ্লিস্ট নীতিনির্ধারকরা।
নতুন আদলে জামায়াতের রাজনীতিতে আসার এ উদ্যোগ প্রসঙ্গে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘জামায়াত যে নতুনভাবে রাজনীতি করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। মিসরেও এভাবেই তারা ক্ষমতায় গিয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াত নতুনভাবে এলেও দেখতে হবে, তাদের রাজনৈতিক দর্শন কী হয়। তারা যদি মওদুদীবাদ ত্যাগ করে এবং বাংলাদেশের সংবিধান মেনে রাজনীতি করতে চায়, তাহলে আপত্তির কিছু নেই।’
এ সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে যে তথ্য আছে, তাতে জামায়াত-শিবিরের তরুণ নেতৃত্ব এখন আর পুরনোদের দায় নিতে চান না? একাত্তরে যারা স্বাধীনতাবিরোধী এবং মানবতাবিরোধী ভূমিকায় ছিলেন তাদের থেকে দায়মুক্ত হতে চান তারা? তারা চান নতুন নেতৃত্বের হাতে দলের দায়িত্বভার অর্পণ করতে, যেখানে অতীতের কোনো গ্লানি আর থাকবে না?’ তারা কীভাবে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেই প্রক্রিয়া কেমন হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়? তবে আমার জানা তথ্য মতে, নতুন নেতৃত্বের জন্য জামায়াতের তরুণরা কাজ করছেন?’ ড. তারেক শামসুর রহমান বলেন, ‘নতুন নেতৃত্বেই জামায়াত ২০১৯ সালের নির্বাচনে অংশ নেবে। সেই নির্বাচনে তারা বিএনপির সঙ্গে থাকবে বলে মনে হয় না?’
জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দলের শীর্ষ নেতাদের বাঁচাতে নানা দফায় আন্তর্জাতিকভাবে লবিং চালিয়েও তাদের রক্ষায় ব্যর্থ হয় জামায়াত। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জামায়াত নেতাদের ফাঁসি স্থগিতের আহ্বান জানালেও সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। এ রকম পরিস্থিতিতে দলটির নেতারা মনে করছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দলটির বিচারাধীন বাকি নেতাদেরও রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
এছাড়া ফাঁসির আগে কৃতকর্মের দায় স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে আলী আহসান মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার আবেদনেও বিব্রত জামায়াতের নেতাকর্মীরা। কারণ তিনি দলটির সেক্রেটারি জেনারেল। অন্যদিকে আপিল শুনানিতে আইনজীবীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নিজের অপরাধ স্বীকার করে সাজা কমানোর আবেদন করেন মতিউর রহমান নিজামী। এ বিষয়টিকেও অপরাধ স্বীকার করে নেয়া বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
ফাঁসির আগে কারাগার থেকে জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্যে এক গোপন চিঠি লেখেন দলটির অন্যতম নীতিনির্ধারক মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। ‘পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নতুন কর্মকৌশল গ্রহণ সময়ের দাবি’- শিরোনামে লেখা ওই চিঠিতে তিনি জামায়াতের দীর্ঘ ৬০ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের আত্মবিশ্লেষণ করে দলের জন্য বেশ কিছু নতুন কৌশল ও কর্মপন্থা প্রকাশ করেন। এসব কর্মপন্থা গ্রহণ করতে নীতিনির্ধারকদের কাছে তা প্রস্তাবনা আকারে পাঠান। চিঠিতে কামারুজ্জামান বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘খুব নাজুক’ ও জামায়াতের জন্য ‘কঠিন চ্যালেঞ্জ’ উল্লেখ করে তা মোকাবেলায় চারটি বিকল্প পথ বাতলে দেন। এগুলো হচ্ছে- ১. যা হবার হবে, আমরা যেমন আছি তেমনি থাকব। ২. পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জামায়াত সিদ্ধান্ত নিয়ে পেছনে থেকে একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তুলবে এবং ৩. যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে তাদের নেতৃত্ব থেকে বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্মের হাতে দলের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া।
জামায়াত নেতাদের মতে, মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের তৃতীয় প্রস্তাবটি আমলে নিয়েই সামনের দিকে এগোচ্ছে দলটির বড় একটি অংশ। এই অংশের মতে, মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মুজাহিদ অপরাধ স্বীকারের মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে মুক্তিযুদ্ধে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিতর্কিত ভূমিকা স্বীকার করে নিয়েছেন। তারা অপরাধ স্বীকার করায় জামায়াতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করাও এখন সরকারের জন্য অনেকটা সহজ হবে বলে অভিমত জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের।
তাদের মতে, এরকম পরিস্থিতি স্বাধীনতাবিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধের দল- এই তকমা থেকে মুক্তি চায় জামায়াতের নতুন প্রজন্ম। দলটির বেশিরভাগ নেতাকর্মীও তাই চান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব মেনে নিয়ে রাজনীতি করতে চান। এজন্য দলটির পুরো খোলনলচেও বদলে দিতে আপত্তি নেই তাদের। এর অংশ হিসেবেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং বিতর্কিত নেতাদের নেতৃত্ব থেকে বিদায় দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্মের হাতে দল পরিচালনার দায়িত্বভার ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবছেন জামায়াতের নেতারা। রাজনীতিতে টিকে থাকতে তারা ইতিমধ্যে এ প্রস্তুতি জোরেশোরে এগিয়ে নিচ্ছে।
জানা গেছে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটির বেশির ভাগ নেতাকর্মী মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন। তারা মনে করেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন কর্মকৌশল নির্ধারণে ব্যর্থ হলে জামায়াতের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের আরও কঠিন মাশুল দিতে হতে পারে। কারণ সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দিকেই যাচ্ছে। জামায়াত নিষিদ্ধ হয়ে গেলে সে ক্ষেত্রে দলটির নেতাকর্মীরা আরও বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। কেননা তখন নতুন করে অন্য রাজনৈতিক দল গঠন করাও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। সেক্ষেত্রে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতা হিসেবে প্রকাশ্যে নতুন দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। তাই সময় থাকতে নতুন নামে নতুনভাবে নিজেদের সংগঠিত করতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব মেনে নিয়ে এবং সে অনুযায়ী দলের নীতি ও আদর্শ নির্ধারণ করে পথ চলতে হবে। এর আগে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার জন্য দল ক্ষমা চাইবে। তাহলেই রাজনীতিতে টিকে থাকা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশী-বিদেশী শক্তির চাপের মুখে থাকা জামায়াত রাজনৈতিক অঙ্গনে টিকে থাকার জন্যই মূলত কৌশল পরিবর্তন করার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট দলটির নিবন্ধন বাতিল করেছেন হাইকোর্ট? বিচারপতি এম মোয়াজ্জেম হোসেন, ইনায়েতুর রহিম এবং কাজী রেজা-উল হকের সমন্বয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তাদের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেন? রায়ে বলা হয়, ‘জামায়াতের গঠনতন্ত্র শুধু সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিকই নয়, জামায়াত একটি সন্ত্রাসী দল?’ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দলটি। বিষয়টি যে কোনো সময় নিষ্পত্তি হবে। রায় বিপক্ষে গেলে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা সরকারের পক্ষে আরও সহজ হবে। এ অবস্থায় নিষিদ্ধ হওয়ার আগেই তারা নতুনরূপে আত্মপ্রকাশ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
সূত্র জানায়, জামায়াতের ভেতরের তরুণ অংশটি ইতিমধ্যে নতুন নেতৃত্বে নতুন রাজনীতি করার বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। এরই অংশ হিসেবে তরুণ নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে তারা। তরুণ নেতাদের এ অবস্থানের পক্ষে জামায়াতের অন্যতম নীতিনির্ধারক দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরপরই তিনি দেশ ছাড়েন। এখনও ফেরেননি।
ধারণা করা হচ্ছে, বিদেশে অবস্থানরত জামায়াতের সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষকদের নিজেদের নতুন অবস্থান ও কর্মকৌশল সম্পর্কে অবগত এবং সংগঠিত করার কাজটি করছেন তিনি। তবে জামায়াতের কট্টরপন্থী অংশটি এখনও মনে করছে, সরকার মুখে বললেও বাস্তবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করবে না। তবে তাদের এই ধারণার সঙ্গে দলটির তরুণ অংশ একেবারেই একমত নয়। তরুণ অংশের ধারণা, জামায়াতের এসব কট্টরপন্থীর একগুঁয়েমির কারণেই দলটির এ বিপর্যস্ত অবস্থা।
জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে আমাদের নতুন করে ভাবতেই হবে। কারণ যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে আমরা এখন দেশে-বিদেশে এমনকি ২০ দলীয় জোটেও কোণঠাসা হয়ে পড়েছি। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে আমাদের নতুন রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’ এটি করতে শীর্ষনেতাদের ওপর দলের তরুণ প্রজন্মের চাপও রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন সদস্য এ মতের বিরোধিতা করে বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত হবে সুবিধাবাদী।’ এ প্রসঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘জামায়াত নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন, লেখেন- যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। তবে এটা ঠিক, বর্তমান প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে জামায়াত রাজনীতিতে টিকে থাকতে পরিবর্তিত কর্মকৌশল ঠিক করছে।’
জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, চার দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালায় জামায়াত। এগুলো হচ্ছে- ১. দাওয়াত ও তাবলিগ (চিন্তার পরিশুদ্ধি ও পুনর্গঠন), ২. সংগঠন ও প্রশিক্ষণ, ৩. সমাজসংস্কার ও সমাজসেবা, ৪. রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সংশোধন। কার্যত ৪ নম্বর দফার কর্মসূচিই জামায়াতের রাজনৈতিক রূপ। পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় জামায়াত ৪ নম্বর দফা বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দলটি পরিচালনার জন্য শীর্ষস্থানীয় সম্ভাব্য দু’জন নেতার নামও মোটামুটি ঠিক করা হয়েছে।
নতুন সভাপতি হতে পারেন জামায়াতের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। তার বয়স ষাটের কাছাকাছি। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দলের সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদকে ভাবা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য পদেও দায়িত্ব বণ্টনের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, দু-একজন ছাড়া জামায়াতের ষাটোর্ধ্ব নেতারা আর দলের নেতৃত্বে থাকবেন না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দলের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক এড়াতে বয়সভিত্তিক এই শ্রেণীবিন্যাস করা হয়েছে। আর এই বয়সভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাসে প্রথমেই ছিটকে পড়ছেন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী এবং বিতর্কিত নেতারা। তাদের স্থানে নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হবে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্মের নেতাকর্মীরা। সূত্র: যুগান্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*