ব্যাকপেইন দূর করতে নিয়মিত ব্যায়াম

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৯ ফেব্র“য়ারী: মেরুদণ্ড ও কোমরে ব্যথা যেন একটি সর্বজনীন রোগে পরিণত হয়েছে। পাশ্চাত্যের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, গড়ে প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ এই লোয়ার ব্যাকপেইন বা কোমর ব্যথার ভুক্তভোগী। আমরা যদি ওষুধের ওপর নির্ভর না করে একটু সচেতনতার সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাসটি তৈরি করতে পারি তাহলে ব্যাকপেইনকে বাই বলা খুবই সহজ। লোয়ার ব্যাকপেইন বিভিন্ন কারণে হতে পারে। জীবনযাপনের ধরন, বংশগত, কাজ করতে গিয়ে ব্যথা পেয়েছেন। ইনজুরিসহ দুর্ভাগ্যবশত কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা থেকেও ব্যথা হতে পারে। অধিকাংশ ব্যাকপেইনের কারণই আমাদের অজানা। অনেক সময় আমরা হয়ত বুঝতে পারি না হঠাৎ করে কীভাবে ব্যাকপেইন শুরু হলো।back pain
অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ব্যাকপেইন শুরু হওয়ার সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। কিছু কিছু ব্যাকপেইন আছে যেগুলো কখনওই একেবারে সেরে না গিয়ে নিয়মিত সমস্যার সৃষ্টি করে। শতকরা ৭৫ ভাগ লোকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ওষুধ খাওয়ার পর সেরে গেলেও বছর না ঘুরতেই আবার নতুন করে ব্যাকপেইনের ব্যথা শুরু হয়। কিছু কিছু ব্যাকপেইন আছে যেটি তাদের দৈনন্দিন জীবনধারণের ওপর নির্ভর করে হয়ে থাকে। যারা সাধারণত খুব বেশি নরম বিছানা ব্যবহার করেন এবং খুব স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটান কিংবা অফিসে একটানা বসে কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে ব্যাকপেইন হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এক্ষেত্রে অনেকের মেরুদ-ের হাড় ক্ষয়, বাঁকা হওয়া, ভেঙে গেলে সাধারণত ব্যাকপেইনটা প্রকটভাবে দেখা দেয়।
একবার ব্যাকপেইনে আক্রান্ত হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে যায়। তবে হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। ব্যাকপেইন অসহ্য হলেও এর সঠিক সমাধানও রয়েছে। জে এ এম এ ইন্টারন্যাশনাল মেডিসিনের রিসার্সরা গবেষণা চালিয়েছেন যে, কোন কারণে ব্যাকপেইন বারবার ফিরে আসে। অস্ট্রেলিয়া ‘ইউনির্ভাসিটি অব সিডনি’র গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউট ব্যাকপেইন নিরাময়ে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে। তারা সেখানে কিছু উচ্চ মানসম্পন্ন মেথড আবিষ্কার করেন যেটি খুবই আশ্চর্যজনক। তাদের এই গবেষণায় প্রায় ৩০ হাজার ব্যাকপেইন আক্রান্ত রোগী অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে অধিকাংশেরই ব্যাকপেইন নিয়মিত কিন্তু নিরাময়যোগ্য। এ গবেষণার মাধ্যমে তারা একটি সফল ব্যাকপেইন নিরাময় পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, শুধু কিছু শরীর চর্চার মাধ্যমে এটি পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব।
ড. মাহের ও তার কলিগের মতে, এক্ষেত্রে কিছু একাডেমি ও ব্যালেন্স ট্রেনিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাদের পুরনো ব্যাকপেইন আছে তাদের মধ্যে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেছেন এক বছরের মধ্যেই তাদের ব্যাকপেইন বহুলাংশে দূর হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তারা যখন ব্যায়াম বন্ধ করে দিয়েছেন ঠিক এর ১০-১১ মাসের মধ্যে তাদের ব্যাকপেইন আবার ফিরে এসেছে। ড. মাহের বলেন, ব্যাকপেইন নিয়ে এমন কিছু স্পষ্ট প্রমাণ আছে যে, ব্যায়াম বা শরীর চর্চার মাধ্যমে ব্যাকপেইনকে পুরোপুরি নিরাময় করা অসম্ভব যদি না এটি নিয়মিত করা হয়। এছাড়া এক ধরনের ব্যায়াম আছে যেটি অন্যান্য নিরাময় পদ্ধতি থেকে খুবই কষ্টসাধ্য হলেও ফলপ্রসূ। বর্তমান সময়ে ব্যাকপেইন দূর করার অনেক অপশন বেরিয়েছে। ব্যায়াম বা শরীর চর্চা এর মধ্যে একটি অন্যতম নিরাময় মাধ্যম। এক্ষেত্রে ব্যাকপেইন দূর করতে শরীর চর্চা বা ব্যায়ামের জন্য নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করতে হবে।
শরীর চর্চার নিয়ম
১. ২০-৫০ জনের একটি গ্রুপ তৈরি করতে হবে। পুরো গ্রুপটিকে দুটো আলাদা শাখা গ্রুপে ভাগ করতে হবে।
২. প্রতি শাখা গ্রুপ প্রতি সপ্তাহ অন্তর শরীর চর্চা বা ব্যায়ামে অংগ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে যারা চাকরিজীবী তাদের অফিস টাইম শেষে এটি করতে হবে।
৩. ব্যায়াম চলাকালীন সময় মিউজিক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে করে বিনোদন ও ব্যায়াম দুটোই হবে।
৪. এই প্রোগ্রাম প্রতি ৬ মাস অন্তর পরিবর্তন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম ১০ সপ্তাহ কোনো কঠিন ব্যায়াম করা যাবে না। শুধুমাত্র বিভিন্ন পেশির স্বাভাবিক মুভমেন্ট চর্চা করতে হবে। অন্যথায় অংশগ্রহণকারীদের ব্যাকপেইন কমা থেকে বরং বৃদ্ধি পেতে পারে।
৫. ব্যায়াম বা শরীর চর্চার জন্য নির্জন এলাকা বেছে নিতে হবে। এটি যদি খেলার মাঠ কিংবা পার্ক হয় সেটি আরও ভালো।
৬. যাদের অতিমাত্রায় ব্যাকপেইন আছে তারা শরীরচর্চা শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই অনেকটা উপশম বোধ করবেন। যদি তারা শরীর চর্চাটাকে নিয়মিত কর্মতালিকায় বা অভ্যাসে পরিণত করতে পারেন।
৭. প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম শেষে ৫-১০ মিনিট বিশ্রাম নিতে হবে। বিশ্রামের সময় শরীরে অ্যানার্জি বাড়ানোর জন্য সাধারণ পানির সঙ্গে গ্লুকোজ বা স্যালাইন মিশিয়ে খেয়ে নিতে পারেন। কারণ ব্যায়াম করার পর শরীর থেকে অনেক পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
৮. বেশি নরম জায়গায় ঘুমানোর অভ্যাস পরিহার করে শক্ত বিছানায় শোয়ার অভ্যাস করতে হবে। কর্মস্থলে কাজ করার সময় মেরুদ- সোজা করে বসে কাজ করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: